সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই

শ্রীলঙ্কায় নিরাপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচার সন্ত্রাসী হামলায় সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষের সঙ্গে তাবৎ মুসলমানও ব্যথিত। এর সঙ্গে তথাকথিত কিছু ইসলামী সংগঠনের নাম আসায় বিশ্ব মুসলিম লজ্জিত। সন্ত্রাসী হামলা বা বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা করা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্মে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে ইসলাম পালন করা হলে প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায়। ‘যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে সেই প্রকৃত মুসলিম।’ (বোখারি : ১০)। অর্থাৎ তার চলাফেরা ও আচার-আচরণ ইত্যাদির মাধ্যমে যেন কেউ কোনো কষ্ট না পায়।
সুতরাং কোনো আক্রমণ বা জঙ্গি হামলার সঙ্গে ইসলাম বা মুসলমানের কোনো সম্পর্ক খুঁজে বের করা কিংবা ইসলামকে কলুষিত করার চেষ্টা কাম্য নয়। কোনো সন্ত্রাসী কিছু ঘটালে সে যে ধর্মেরই হোক না তার দায় ধর্মের নয়। সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই। ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে কোরআন আর সুন্নাহ।
কোরআন-সুন্নাহ ব্যতীত কারও মনগড়া বিবৃতি ইসলামের কোনো অংশ হতে পারে না। এ বিষয়ে আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কাছে আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চায় এ দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন নিজ ইচ্ছায়। আর তাদের পথ দেখান সরল পথ।’ (সূরা মায়েদা : ১৫-১৬)। 
আবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বা ধর্মীয় কোনো কাজে বল প্রয়োগ করা যায় না। কারণ বল প্রয়োগ বা জোরাজুরি অশান্তির সৃষ্টি করে। নিজের বিবেক-বুদ্ধি থেকে কোনটি সঠিক তা অনুধাবন করে ইসলামের পথে আসতে হয়। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট আছে, ‘ধর্ম গ্রহণে কোনো বলপ্রয়োগ নেই। সত্য অসত্য থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে।’ (সূরা বাকারা : ২৫৬)।
মুলমান যদি কোনো ভুল পথে চলে যায় বা কোনো অঘটন ঘটায় তা তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বর্তাবে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের কোনো প্রভাব থাকবে না। ‘হে মোমিনরা! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা বাকারা : ২০৮)।
বর্তমানে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যে, বোমা হামলা কিংবা জঙ্গি হামলা হলে অনেকেই এর সঙ্গে ইসলামের বা মুসলিমের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন। এটা নিছকই বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। মূলত যারা জঙ্গিবাজি করে তারা ইসলাম ধর্ম সঠিকভাবে পালন করে কি না তারও কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। অন্যদিকে দুনিয়ায় অনেক শান্তিপ্রিয় মুসলমানের উদাহরণ ভূরি ভূরি। কিছু ভুল প্রচার আর আর ভুল চাহনি আর কিছু অপপ্রচার ইসলাম সম্বন্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ধর্মীয় পোশাক-পরিচ্ছেদ নিয়েও মুসলমান যেন আজ উপহাসের বিষয় হতে চলেছে। কেউ ধার্মিক বা ইসলামের পথে চললেই সে কোনো সংঘটনের সদস্য হয়ে যায় না! অনেকে আবার ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে বড় হতে চায়। যেন এ কটূক্তিতে কাউকে খুশি করা যাবে। শুধু ইসলাম ধর্ম কেন, কোনো ধর্ম নিয়েই কটূক্তি করে কেউ কখনও বড় হতে পারে না।  
মানুষ চিরস্থায়ী নয়। তাই ধর্মের মাধ্যমে মানুষ পরকালের শান্তি জয় করতে চায়। আর যারা সন্ত্রাসী, জঙ্গি তারা চায় অশান্তি। তাই সন্ত্রাসী বা জঙ্গিকে অবলম্বন করে শান্তির ধর্ম ইসলামের অপপ্রচার রুখে দিতে হবে। 
কাউকে হত্যার ব্যাপারে ইসলামের নবী বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকদ্দমার ফয়সালা করা হবে, তা হবে রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত।’ (নাসাঈ : ৩৯৯১)।
অন্যদিকে যারা শান্তি বজায় রাখে এবং সৎকর্ম করে তাদের পুরস্কার আল্লাহ দেবেন। এই মর্মে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।’ (সূরা ফাতাহ : ২৯)। 
সন্দেহ নেই যারা সন্ত্রাসবাদ করে, মানুষের ওপর জুলুম করে তারা জালেম। এই জালেমদের আল্লাহ কঠিন বিচার এবং শাস্তির মুখোমুখি করবেন। সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন জুলুম চলতে তাকে তখন আল্লাহর নেয়ামত কমে যায়। এ ব্যাপারে আরেকটি আয়াত হচ্ছে, ‘সুতরাং ইহুদিদের জুলমের কারণে আমি তাদের ওপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।’ (সূরা নিসা : ১৬)।
অত্যাচারীদের ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার উল্লেখ করতে গিয়ে নবীজি বলেছেন, ‘আল্লাহ জালেমকে অবকাশ দেন। অবশেষে যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তার পলায়নের অবকাশ থাকে না।’ (বোখারি : ৪৬৮৬)।
তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে এই জুলুমবাজদের কাজের আজাব শুধু তারা নয় সবাইকেই বহন করতে হয়। অত্যাচারীরা যখন দুর্বলের ওপর অত্যাচার চালায় তখন অনেকেই প্রতিবাদ না করে মুখ লুকিয়ে থাকে বা অত্যাচারীর সঙ্গ দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা ভয় কর ফেতনাকে যা তোমাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে শুধু  জালেমদের ওপরই আপতিত হবে না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আজাব প্রদানে কঠোর।’ (সূরা আনফাল : ২৫)।
মূলত এই আজাব হচ্ছে জুলুমকারীদের কাজের দুনিয়াবি শাস্তি। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তোমরা যা বল তারা তা মিথ্যা বলেছে। অতএব তোমরা আজাব ফেরাতে পারবে না এবং কোনো সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে জুলুম করবে তাকে আমি মহা আজাব আস্বাদন করাব।’ (সূরা ফুরকান : ১৯)। 
জালেমদের জন্য দুনিয়ায় যেমন বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি মৃত্যুর পর তাদের ভয়নাক পরিণতি হবে। আল্লাহ তায়ালা জালেমদের আখেরাতে ভয়ানক শাস্তি দেবেন। সূরা বুরুজের ১০নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা মোমিন পুরুষ ও মোমিন নারীদের নির্যাতন করে, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আজাব।’ বোঝা গেল অত্যাচারী আর জুলুমকারী যদি মুসলমান গোত্রেরও হয়, তার রক্ষা নেই।


বিবাহের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে
বিবাহ করতে প্রত্যেক পুরুষকেই মেয়ে পছন্দ করা আবশ্যক। যার কারণে
বিস্তারিত
সদকাতুল ফিতরের বিধান
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যেসব দান প্রদান করা বান্দার ওপর
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ২১
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম পাতায় ‘আজকের তারাবি’ শিরোনামে প্রতিদিন তারাবি
বিস্তারিত
‘বদর যুদ্ধের চেতনা মুসলিম জাতিসত্তার
ইসলামের সূচনালগ্নে আত্মনিবেদনের যে উজ্জ্বল অনুশীলন বদরের প্রান্তরে সাহাবায়ে কেরাম
বিস্তারিত
রমজানে জীবনযাপন : বিধিনিয়মের জীবনঘনিষ্ঠ
‘রমজানবিষয়ক গ্রন্থ রচনা করা অসম্ভব, বেশি হলে সংকলন করা যেতে
বিস্তারিত
মাসআলা
রোজা ও নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য বয়স মুখ্য নয়, বালেগ
বিস্তারিত