দস্যু ভান্ডারির গল্প

জাল ছেড়ে দস্যুতায়, এখন হাতে স্টিয়ারিং

তখন কেবল সূর্য উঠছে। সুন্দরবনের ঘসিয়াংগাড়ি খাল ধরে ডুগডুগ করে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রলার। দস্যু সাত্তার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সেখানেই দেখা হওয়ার কথা। আমরা ট্রলার থামালাম। হঠাৎ-ই জঙ্গলের ভেতর থেকে পর পর দু’বার গুলির শব্দ। তারপর প্রায় মিনিট দশেক কোনো আওয়াজ নাই। খালের পাশ ধরে তাকিয়ে আছি আমরা।

এরই মধ্যে সাত্তারসহ আরেকজন নৌকা থেকে আমাদের ট্রলারে উঠে বসেছে। আর বনের ভেতরে লোকমান (দস্যু নাম ছিলো ভান্ডারি)। দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো, ভেতরে আবার না বাঘ আক্রমণ করে বসে! আবার বাঘের গা-এ গুলি করলে সেই ক্ষতিরও তো কোনো প্রতিকার নাই! শীতের ভোরে রীতিমতো ঘামতে থাকলাম...

দশ মিনিটের মতো এভাবেই কাটলো। আমরা ডাকাডাকি করছিলাম। সেই আওয়াজ ধরে জঙ্গল থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে এসে দাঁড়ালো বনদস্যু লোকমান। হাঁটু পর্যন্ত পা কাদায় দেবে গেছে। ডান হাতে দো’নলা বন্দুক। আর বাম হাতে শিকার করা হরিণ। সেই দৃশ্য কোনোদিন ভুলবো না।

সেদিন রামপালের চেয়ারম্যান মোড়ে দেখা সেই লোকমানের সঙ্গে। ছিলেন জলদস্যু সাত্তার বাহিনীর সদস্য। সুঠাম দেহের এই যুবক দোনলা বন্দুক হাতে ছিলেন দুর্ধর্ষ। ছোটেবেলা থেকে সুন্দরবনে নৌকা বাওয়া, জাল-দড়ি ধরার অভ্যাস। আর দস্যু বনে যাওয়া পর থেকে সেই নৌকা বাওয়া হাত দিয়ে চলতো বন্দুক। সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীগুলোতে এমন যুবকের চাহিদা ছিলো অনেক।

সাধারণ এক জেলে থেকে বনদস্যু বনে গেলো কী করে এই তরুণ? আগেই বলেছি, লোকমান মাছ ধরতো সুন্দরবনের বড় পাঙ্গাসিয়া, ছোট পাঙ্গাসিয়া, ভদ্রা নদীর আশেপাশের খালে। ছিলো নিজের জাল-নৌকা। সুন্দরবনের দস্যু মোশাররফ বাহিনী ধরে ফেলে ২০১৭ সালের কোনো এক সময়। সূদে ৩০ হাজার টাকা ধার করে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায় সে।

তারপর সেই ঋণ শোধ করতে আবারও সুন্দরবনে যায় মাছ ধরতে। এবার ধরা পড়ে আরেক দস্যু দাদাভাই এর হাতে। এবার মুক্তিপণ ৫০ হাজার টাকা। আবারও সূদে ধার করে সেই টাকা দাদা ভাই বাহিনীকে দিয়ে বাড়ি ফিরে লোকমান। এই ৮০ হাজার টাকা দেনা কী করে শোধ করবে সে? সূদসহ টাকা যোগাড় করার আর উপায় ছিলো না। তখন সুন্দরবনের আরেক দস্যু, সাত্তার বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। লোকমান বলছিলেন, তখন দস্যুতায় নেমে পড়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিলো না তার সামনে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে আত্মসমর্পন করে লোকমান। জামিন নিয়ে জেলখানা থেকে বের হয় মাস খানেক পর। বাড়ি ফিরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টাকার সঙ্গে কিছু টাকা মিলিয়ে কিনে ফেলে একটি তিন চাকার অটোরিক্সা।

যাত্রীবাহী অটোরিক্সা। কালোর ওপর সাদা রং দিয়ে লেখা... মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাব এর অনুদান। বাগেরহাট-রামপালের রাস্তায় চলে এই অটোরিক্সা। আর এর মালিক সাবেক বনদস্যু লোকমান। জঙ্গলে যাকে সবাই চিনতো ‘ভান্ডারি’ নামে। এখন সংসার খরচ আর মামলা খরচ তুলতে প্রতিদিন এই অটোরিক্সা নিয়ে তিনি ছুটে বেড়ান গ্রামের পথে পথে।

যাই হোক, বনদস্যুতা ছেড়ে এখন সাধারণ জীবন যাপন করছেন লোকমান। স্ত্রী-কণ্যা-সংসার নিয়ে কাটছে ব্যস্ত সময়....।

যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মহসিন-উল-হাকিমের প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের বহু দস্যু গ্রুপ আত্মসমর্পণ করে।

সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো বহু বনদস্যু তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণে উদ্বুদ্ধ করেন শান্তিপ্রেমি মহসিন-উল-হাকিম। সে মতে বনদস্যুরা যমুনা টিভি চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক মহসিন উল হাকিমের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আত্মসমর্পণের জন্য লিখিত আবেদন করেন।


শিশু কথা বলে না! কান
আপনার সন্তান যদি ২/৩ বছর বয়সেও কথা বলতে না শেখে,
বিস্তারিত
১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধুর ২০ উক্তি
আজ জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তে
বিস্তারিত
বিশ্বের বিস্ময়ের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি
বিস্তারিত
এখনো রক্তের রঙ ভোরের আকাশে
‘ ... ১১ (১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস) তারিখে রেণু এসেছে
বিস্তারিত
কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে
কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন কোন দিকে? কাশ্মীরের উত্তেজনার পরিস্থিতি কি আরেকটি
বিস্তারিত
খালের পানিতে বিষ প্রয়োগে মাছ
হায়রে ক্ষুদে প্রজন্ম তোমাদের জন্মদিয়ে ছেড়ে দিয়েছি ধরণীর আস্তাকুড়ে। একটিবারও
বিস্তারিত