বনদস্যুদের ট্রলার

প্রতিটি কেবিন ছিলো এক একটি বাঙ্কার...

জীবনে ফেরার গল্প- ৫৩

তিন শিফট এ ডিউটি চলে। খালের মুখে একটু আড়াল রেখে টানা আট ঘন্টা করে ডিউটি করে দুই/তিনজন বনদস্যু। খালের ভেতরে থাকা পুরো বাহিনীর নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবস্থা। আইন শৃংখলা বাহিনীর স্পিডবোট বা ট্রলার আসে কী না অথবা বেয়ে চলা কোনো জেলে নৌকা আটকানো তাদের দায়িত্ব।

অস্ত্রগুলো সার্বক্ষণিক লোড করা থাকে তাদের। খাবার বা পানি তাদের কাছে পৌছে দেয়া হয় নির্দিষ্ট সময়ে। শিফট শেষ হলে পা এ হেঁটে, অথবা ডিঙ্গি নৌকায় করে মূল ট্রলারে ফেরা তারা। সেখানে পরবর্তী তিনজন গিয়ে দায়িত্ব পালন করে পরবর্তী আট ঘন্টার জন্য। এভাবে ২৪ ঘন্টা চলে বনদস্যুদের পাহাড়া ব্যবস্থা।

এদিকে দস্যু দলের প্রধান থাকে প্রায় ২০ ঘন্টা। সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরকে পাশে রেখে দিনে দুই চার ঘন্টার বিশ্রাম নিতে পারে দস্যুনেতা। চারপাশের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না। কারণ, সশস্ত্র দস্যু সহচর ই তাদের জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির বিষয়। তারপরও শরীর বলে কথা। বন্দুক জড়িয়ে রেখে কেউ কেউ ঘুমিয়ে নিতো... নির্ঘুম মানুষের ঘুম বলে কথা! গভীর ঘুম.... আমরা গেলে তাদের ঘুম মনে হয় বেড়ে যেতো...

সুন্দরবনের দস্যু জগতে সবচেয়ে বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে। তাই শেষের দিকে এসে নিজের দলের মধ্যেই অবিশ্বাস কাজ করতো সবচেয়ে বেশী। নেতৃত্ব দখল করতে চলতো গভীর ষড়যন্ত্র। দস্যুদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমাদের নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হয়েছে ২৪ ঘন্টাই।

বড় দস্যুবাহিনীগুলো ব্যবহার করতো বড় আকৃতির ট্রলার। থাকতো শক্তিশালী ইঞ্জিন। আগা মাথা কেবিনের মতো করা। প্রতিটি কেবিনে তিন/চার জনের জন্য বরাদ্দ। নেতার কেবিনটি বিশেষ ভাবে গোছানো। পুরো ট্রলারের ভেতর থেকে দুই পাশ মোড়ানো থাকতো মোটা স্টিলের পাত দিয়ে, যাতে প্রতিপক্ষের গুলি সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। জলদস্যুদের প্রতিটি কেবিন যেনো এক একটি বাঙ্কার। নিজেকে নিরাপদ রেখে বন্দুকযুদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত। দ্বিতীয় ট্রলার থাকলে সেটিও একই ভাবে তৈরি করা থাকতো। শহর থেকে মিস্ত্রি এনে ডক করে ট্রলারে কাজ করানো হতো।

সাধারণ সময়ে অবসর কাটানোর জন্য বনদস্যুরা বেছে নিতো মাঝ সুন্দরবনের ভেতরে গহীন কোনো খাল। সেখানে নিরিবিলি কাটানোর পরিবেশ থাকে। জেলেরা তেমন আসে না, ভরা জোয়ার ছাড়া প্রশাসনের লোকজনেরও সেখানে যাওয়ার সুযোগ নাই। এমন সময় নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব, কার্ড খেলা, স্মার্টফোনে গান সিনেমা দেখা, কিংবা গেম খেলে সময় কাটতো বনদস্যুদের। ট্রলারের একদম সামনে, গলুই এর কাছে মাটির চুলায় চলে রান্না। দুই বেলা ভাত রান্না হয়, আর চব্বিশ ঘন্টা চা জ্বলে সেই চুলায়।

আমরা যখন বনদস্যুদের কাছে বেড়াতে যেতাম বা দেখা করতে যেতাম, তখন সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে আমাদের রাখা হতো। ট্রলারে দস্যুনেতার কেবিনেই আমার থাকার ব্যবস্থা থাকতো। লোড করা একটি দোনলা বন্দুক রাখা থাকতো আমার পাশে। বিপদে পড়লে যাতে আমি ব্যবহার করতে পারি, সেজন্য গুলিও রাখা থাকতো।

সোলার দিয়ে চলতো বাতি আর ফ্যান। শীতকালে চারপাশ মোড়ানো থাকতো মোটা কম্বলে। বর্ষায় পুরো ট্রলার মুহুর্তেই ঢেঁকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতো প্রতিটি দস্যু ট্রলারে। অস্ত্রধারী একজন থাকতো সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য। যার দায়িত্ব থাকতো আমাকে আধা ঘন্টা পর পর চা দেওয়া, নাস্তা করানো। বলা যেতে পারে, আমাকেও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতো এই ব্যক্তি। পলিনসহ অন্য সহযাত্রীদের জন্য থাকতো একই ব্যবস্থা।

ঘুমানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও দস্যুদের কাছে থাকা কালে সচরাচর ঘুমাতে পারতাম না। বড়জোর আধা ঘন্টা চোখ বন্ধ করে দম নিতাম। বাকীটা সময় আমিও তাদের সঙ্গে গল্পগুজব করে কাটতো। তিন দিন বা চারদিনের সেই সফরে ঘুম আসতো ফেরার পথে। দস্যুদের কাছে থেকে বিদায় নিতে যখন ট্রলার ছাড়তাম, তখন রাজ্যের ঘুম চোখে। বড় নদীতে এসে ঘুমের কাছে নিজেকে সমর্পন করতাম.... নিরাপদে ফিরে আসার আগে ঘুম আসতো না আমার....

যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মহসিন-উল-হাকিমের প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের বহু দস্যু গ্রুপ আত্মসমর্পণ করে।

সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো বহু বনদস্যু তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণে উদ্বুদ্ধ করেন শান্তিপ্রেমি মহসিন-উল-হাকিম। সে মতে বনদস্যুরা যমুনা টিভি চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক মহসিন উল হাকিমের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আত্মসমর্পণের জন্য লিখিত আবেদন করেন।


নোয়াখালী বিমানবন্দরের রানওয়েতে গরু! অতঃপর...
নোয়াখালী বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সাথে পাইলটদের ভবিষ্যৎ কথোপকথন! পাইলট-
বিস্তারিত
কিছু মৃত্যু আমাদের অনেক বেশি
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ চলে গেলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি)
বিস্তারিত
প্রিয়তমা, দুঃখিত... আজ রাতে সম্ভব
কাজের জন্য বাড়ি ছেড়ে যারা দূরে অবস্থান করেন, ছুটি পেলেই
বিস্তারিত
বালিশ কাণ্ড নিয়ে এবার বোমা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া
বিস্তারিত
বি‌ডি২৪লাইভকে আলোকিত বাংলাদেশ’র শুভেচ্ছা
সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে অষ্টম পেরিয়ে নবম বর্ষে পদার্পণ করল
বিস্তারিত
রোজাদারদের কাছ থেকে ভাড়া নেন
ভারতের উত্তর প্রদেশের বসবাস করেন প্রহ্লাদ গুরু। যিনি দক্ষিণ দিল্লির
বিস্তারিত