মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

রমজান মাসের কল্যাণ কাজে লাগিয়ে নিজের হিসাব নিন

জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে প্রকৃত সফলতা ও শান্তি নিহিত আছে আত্মপর্যালোচনা বা মনের হিসাব নেওয়া, ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে চেষ্টা-সাধনা করা, সৎকর্ম ও পুণ্যের কাজ বৃদ্ধি করা, আল্লাহ যেসব সৎকর্ম করার সুযোগ, সাহায্য ও তৌফিক দান করেছেন তার প্রতি যতœশীল থাকা এবং ইবাদত-বন্দেগি বরবাদ করে দেয়, এমন কাজকর্ম থেকে সতর্ক থাকার মাঝে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো। তোমাদের আমলগুলোকে বিনষ্ট করো না।’ (সূরা মুহাম্মদ : ৩৩)।
সূরা হাশরের ১৮নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে।’ এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘তোমরা নিজেদের জীবনের জবাবদিহিতা ও হিসাব নিয়ে নাও পরকালে তোমাদের থেকে হিসাব গ্রহণের আগেই। আর চিন্তা করে দেখ তোমাদের প্রতিপালকের দরবারে যেদিন উপস্থিত হবে ও প্রত্যাবর্তন করবে, সেদিনের জন্য তোমরা নিজেদের স্বার্থে কী কী পুণ্যকর্ম সঞ্চয় করেছ।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করেছে, সে বুদ্ধিমান। আর যে লোক নিজের মনকে তার প্রবৃত্তির অনুসরণকারী বানিয়েছে এবং আল্লাহর ওপর আশা করে বসে আছে সে ব্যর্থ।’
তদ্রƒপ দুর্ভাগ্য, লাঞ্ছনা ও ক্ষতিগ্রস্ততা নিহিত রয়েছে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, হারাম ও নিষিদ্ধ কাজকর্মে জড়িত হওয়া, ইবাদত-বন্দেগি বর্জন করা অথবা যেসব বিষয় সৎকর্ম বরবাদ করে দেয়, সেগুলোর নিকটবর্তী হওয়ার মাঝে। মানুষের অনিষ্টের জন্য এমন কাজ করাই যথেষ্ট, যার দ্বারা ইবাদত-বন্দেগির সওয়াব হ্রাস পায়।
আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কীভাবে দ্রুত জীবন থেকে দিনরাতের মুহূর্তগুলো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, আর অতীতের বছরগুলো কীভাবে চলে গেছে। একটি দিনও চলে গেলে তার কোনো কিছুই কখনও ফিরে আসবে না। জীবন তো এসব দিনরাত ছাড়া আর কিছু নয়। তারপর নেমে আসবে মৃত্যুর বার্তা। সাঙ্গ হবে কর্মলীলা। কামনার আলেয়া হবে স্পষ্ট।
আপনারা বরকতময় রমজান মাসের শুরুলগ্নে অবস্থান করছেন। এ মাসে আল্লাহ আপনাদের জন্য কল্যাণের দ্বারগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এ মাসে আপনাদের জন্য পুণ্যের উপায়গুলো সহজ করে দিয়েছেন। তাই কল্যাণের প্রবেশপথগুলোতে প্রবেশ করুন। ধ্বংসাত্মক ও বিপথগামী পথগুলো থেকে সাবধান থাকুন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা সার্বিকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা বাকারা : ২০৮)।
ঈমানের নেয়ামতকে শ্রদ্ধা করুন। কোরআনের নেয়ামতকে মর্যাদা দিন। কোরআন ও ঈমানের চেয়ে উত্তম সম্পদ কাউকে দেওয়া হয়নি। মুসলিম ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সঙ্গে ও পুণ্যের আশায় রোজা রাখলে সে ঈমান ও কোরআনের বরকতই পেয়ে থাকে। কোরআনের ধারক ও বাহক তারাই, যারা কোরআন অনুযায়ী আমল করে, যদিও সে হাফেজ না হয়ে থাকে। আর যে কোরআন অনুযায়ী আমল করে না, সে কোরআনের ধারকবাহক নয়, যদিও সে এর হাফেজ হয়ে থাকে। রমজান মাসে রহমত, হেদায়েত ও পবিত্র জীবনের উৎস কোরআনের অবতরণই হচ্ছে উম্মতের সর্বপ্রথম নেয়ামত। রমজান মাসে কোরআন নাজিল হওয়া যাবতীয় কল্যাণ, সমৃদ্ধি, জীবনের পরিশুদ্ধি ও পরকালে সফলতার মূল ভিত্তি। এটাই আলোর খনি। অন্ধকার, ভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতা দূর করার মাধ্যম।
তাই উম্মতের যে লোক কোরআনের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যাবতীয় নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে। আর যে কোরআনের প্রতি ঈমান আনেনি, সে সব নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা করেছে। চিরদিন জাহান্নামে থাকাই তার পরিণতি। ‘আর বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে যে কোরআনকে অস্বীকার করে, জাহান্নামই তার প্রতিশ্রুত ঠিকানা।’ (সূরা হুদ : ১৭)।
রমজান মাসে বিভিন্ন ইবাদতের সমাবেশ ঘটিয়ে আল্লাহ বান্দার ওপর অনুগ্রহ করেছেন। এসব ইবাদতের দ্বারাই আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় হয়। সবচেয়ে বড় ইবাদত হলো আল্লার একত্বে বিশ্বাস করে অবিচল থাকা। মানুষের প্রতি ও সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা তৌহিদের দাবি। আল্লাহর নবী সব ধরনের ইবাদত সুচারুরূপে আদায় করে আল্লাহর শোকর আদায় করে গেছেন।
রমজান মাসে আত্মায় কোরআনের বিশাল প্রভাব ও রেখাপাত থাকে। কারণ রোজার মাঝে অনিষ্টের প্রবণতাগুলো দুর্বল, কল্যাণের বৈশিষ্ট্যগুলো শক্তিশালী, আর শয়তানের প্রভাব কম থাকে। তাই বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করুন। কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
কোরআন ও সুন্নাহ ছাড়া মুসলমানদের অবস্থা কিছুতেই সংশোধন হবে না। বিশ্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জীবিত বা মৃত সব জ্ঞানী একত্র হয়েও যদি বিশ্বের সমস্যা সমাধানের জন্য মিলিত হয়, মহান কোরআন ছাড়া তারা কোনো উপায় খুঁজে পাবে না। আল্লাহ ও তাঁর নাম, গুণ, কর্ম ও ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর হক বিষয়ে পৃথিবীতে কত আকিদা রয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা করে দেখুন। এর কোনো সীমা ও সংখ্যা নেই। এক্ষেত্রে কোরআন যা বলেছে, তা-ই সত্য। বিশ্বের অর্থনীতির জটিলতা ও সমস্যা জ্ঞানীদের অক্ষম বানিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহ যা বলেছে, সেটাই সত্য। এভাবেই কোরআন মুসলমানদের সব সমস্যার যথার্থ সমাধান বর্ণনা করেছে।
ইসলামি শরিয়তের কিছু কিছু অধ্যায় থেকে অনেক অমুসলিমও উপকৃত হয়েছে। সব মানুষের মুসলিম হওয়া তো সম্ভব হবে না। কিন্তু মুসলমানের উচিত কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা, মানুষ যখন প্রত্যেক মুসলিমের সুন্দর আদর্শ দেখবে, তখন তারাও উপকৃত হবে, সেটা পার্থিব বিষয়ে হলেও। মহান কোরআন হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর মূল অস্তিত্ব, শক্তি, টিকে থাকার প্রধান উপায়, তার মর্যাদা ও সৌভাগ্য। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই এ কোরআন সবচেয়ে সঠিক পথের দিশা প্রদান করে এবং মোমিনদের বিরাট প্রতিদানের সুসংবাদ দেয়, যারা সৎকর্ম করে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৯)।
রমজানের ফরজ রোজা আদায়ে রয়েছে বিশাল পুণ্য। তবে রমজানের ফল আসবে না সৎকর্ম না করলে, নিজেকে গোনাহ, অন্যায় ও পাপ থেকে না বাঁচালে। তাই আপনি যদি রোজা রাখেন; তবে আপনার কান, আপনার চোখ, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। যাতে ইবাদতের দ্বারা আপনার মন পবিত্র হয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের আমলগুলোকে নষ্ট করে দিও না।’ (সূরা মুহাম্মাদ : ৩৩)।
রমজান মাসে নিজেই নিজের হিসাব নিন। যাতে কেয়ামতের দিন আপনার হিসাব সহজ হয়। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি সেভাবে নামাজ কায়েম করেছেন, যেভাবে আপনাকে আদেশ করা হয়েছে? রোজার সঙ্গে জাকাত আদায় করেছেন? গোনাহ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করেছেন? সুদ ও অবৈধ কেনাবেচার মতো বিভিন্ন হারাম উপার্জন থেকে ফিরে তওবা করেছেন? আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখেছেন? মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করেছেন? সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের বাধা দিয়েছেন? নবীর সুন্নত আঁকড়ে ধরে হেদায়েতপ্রাপ্ততের অন্তর্ভুক্ত হতে চেষ্টা-সাধনা করেছেন? আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, সঠিক কথা বল, তিনি তোমাদের আমলগুলো ঠিক করে দেবেন, তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে তো বিরাট সফলতা অর্জন করে।’ (সূরা আহজাব : ৭০-৭১)।

৫ রমজান ১৪৪০ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মাহমুদুল হাসান জুনাইদজীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে প্রকৃত সফলতা ও শান্তি নিহিত আছে আত্মপর্যালোচনা বা মনের হিসাব নেওয়া, ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে চেষ্টা-সাধনা করা, সৎকর্ম ও পুণ্যের কাজ বৃদ্ধি করা, আল্লাহ যেসব সৎকর্ম করার সুযোগ, সাহায্য ও তৌফিক দান করেছেন তার প্রতি যতœশীল থাকা এবং ইবাদত-বন্দেগি বরবাদ করে দেয়, এমন কাজকর্ম থেকে সতর্ক থাকার মাঝে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো। তোমাদের আমলগুলোকে বিনষ্ট করো না।’ (সূরা মুহাম্মদ : ৩৩)।
সূরা হাশরের ১৮নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে।’ এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘তোমরা নিজেদের জীবনের জবাবদিহিতা ও হিসাব নিয়ে নাও পরকালে তোমাদের থেকে হিসাব গ্রহণের আগেই। আর চিন্তা করে দেখ তোমাদের প্রতিপালকের দরবারে যেদিন উপস্থিত হবে ও প্রত্যাবর্তন করবে, সেদিনের জন্য তোমরা নিজেদের স্বার্থে কী কী পুণ্যকর্ম সঞ্চয় করেছ।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করেছে, সে বুদ্ধিমান। আর যে লোক নিজের মনকে তার প্রবৃত্তির অনুসরণকারী বানিয়েছে এবং আল্লাহর ওপর আশা করে বসে আছে সে ব্যর্থ।’
তদ্রƒপ দুর্ভাগ্য, লাঞ্ছনা ও ক্ষতিগ্রস্ততা নিহিত রয়েছে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, হারাম ও নিষিদ্ধ কাজকর্মে জড়িত হওয়া, ইবাদত-বন্দেগি বর্জন করা অথবা যেসব বিষয় সৎকর্ম বরবাদ করে দেয়, সেগুলোর নিকটবর্তী হওয়ার মাঝে। মানুষের অনিষ্টের জন্য এমন কাজ করাই যথেষ্ট, যার দ্বারা ইবাদত-বন্দেগির সওয়াব হ্রাস পায়।
আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কীভাবে দ্রুত জীবন থেকে দিনরাতের মুহূর্তগুলো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, আর অতীতের বছরগুলো কীভাবে চলে গেছে। একটি দিনও চলে গেলে তার কোনো কিছুই কখনও ফিরে আসবে না। জীবন তো এসব দিনরাত ছাড়া আর কিছু নয়। তারপর নেমে আসবে মৃত্যুর বার্তা। সাঙ্গ হবে কর্মলীলা। কামনার আলেয়া হবে স্পষ্ট।
আপনারা বরকতময় রমজান মাসের শুরুলগ্নে অবস্থান করছেন। এ মাসে আল্লাহ আপনাদের জন্য কল্যাণের দ্বারগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এ মাসে আপনাদের জন্য পুণ্যের উপায়গুলো সহজ করে দিয়েছেন। তাই কল্যাণের প্রবেশপথগুলোতে প্রবেশ করুন। ধ্বংসাত্মক ও বিপথগামী পথগুলো থেকে সাবধান থাকুন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা সার্বিকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা বাকারা : ২০৮)।
ঈমানের নেয়ামতকে শ্রদ্ধা করুন। কোরআনের নেয়ামতকে মর্যাদা দিন। কোরআন ও ঈমানের চেয়ে উত্তম সম্পদ কাউকে দেওয়া হয়নি। মুসলিম ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সঙ্গে ও পুণ্যের আশায় রোজা রাখলে সে ঈমান ও কোরআনের বরকতই পেয়ে থাকে। কোরআনের ধারক ও বাহক তারাই, যারা কোরআন অনুযায়ী আমল করে, যদিও সে হাফেজ না হয়ে থাকে। আর যে কোরআন অনুযায়ী আমল করে না, সে কোরআনের ধারকবাহক নয়, যদিও সে এর হাফেজ হয়ে থাকে। রমজান মাসে রহমত, হেদায়েত ও পবিত্র জীবনের উৎস কোরআনের অবতরণই হচ্ছে উম্মতের সর্বপ্রথম নেয়ামত। রমজান মাসে কোরআন নাজিল হওয়া যাবতীয় কল্যাণ, সমৃদ্ধি, জীবনের পরিশুদ্ধি ও পরকালে সফলতার মূল ভিত্তি। এটাই আলোর খনি। অন্ধকার, ভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতা দূর করার মাধ্যম।
তাই উম্মতের যে লোক কোরআনের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যাবতীয় নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে। আর যে কোরআনের প্রতি ঈমান আনেনি, সে সব নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা করেছে। চিরদিন জাহান্নামে থাকাই তার পরিণতি। ‘আর বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে যে কোরআনকে অস্বীকার করে, জাহান্নামই তার প্রতিশ্রুত ঠিকানা।’ (সূরা হুদ : ১৭)।
রমজান মাসে বিভিন্ন ইবাদতের সমাবেশ ঘটিয়ে আল্লাহ বান্দার ওপর অনুগ্রহ করেছেন। এসব ইবাদতের দ্বারাই আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় হয়। সবচেয়ে বড় ইবাদত হলো আল্লার একত্বে বিশ্বাস করে অবিচল থাকা। মানুষের প্রতি ও সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা তৌহিদের দাবি। আল্লাহর নবী সব ধরনের ইবাদত সুচারুরূপে আদায় করে আল্লাহর শোকর আদায় করে গেছেন।
রমজান মাসে আত্মায় কোরআনের বিশাল প্রভাব ও রেখাপাত থাকে। কারণ রোজার মাঝে অনিষ্টের প্রবণতাগুলো দুর্বল, কল্যাণের বৈশিষ্ট্যগুলো শক্তিশালী, আর শয়তানের প্রভাব কম থাকে। তাই বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করুন। কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
কোরআন ও সুন্নাহ ছাড়া মুসলমানদের অবস্থা কিছুতেই সংশোধন হবে না। বিশ্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জীবিত বা মৃত সব জ্ঞানী একত্র হয়েও যদি বিশ্বের সমস্যা সমাধানের জন্য মিলিত হয়, মহান কোরআন ছাড়া তারা কোনো উপায় খুঁজে পাবে না। আল্লাহ ও তাঁর নাম, গুণ, কর্ম ও ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর হক বিষয়ে পৃথিবীতে কত আকিদা রয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা করে দেখুন। এর কোনো সীমা ও সংখ্যা নেই। এক্ষেত্রে কোরআন যা বলেছে, তা-ই সত্য। বিশ্বের অর্থনীতির জটিলতা ও সমস্যা জ্ঞানীদের অক্ষম বানিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহ যা বলেছে, সেটাই সত্য। এভাবেই কোরআন মুসলমানদের সব সমস্যার যথার্থ সমাধান বর্ণনা করেছে।
ইসলামি শরিয়তের কিছু কিছু অধ্যায় থেকে অনেক অমুসলিমও উপকৃত হয়েছে। সব মানুষের মুসলিম হওয়া তো সম্ভব হবে না। কিন্তু মুসলমানের উচিত কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা, মানুষ যখন প্রত্যেক মুসলিমের সুন্দর আদর্শ দেখবে, তখন তারাও উপকৃত হবে, সেটা পার্থিব বিষয়ে হলেও। মহান কোরআন হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর মূল অস্তিত্ব, শক্তি, টিকে থাকার প্রধান উপায়, তার মর্যাদা ও সৌভাগ্য। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই এ কোরআন সবচেয়ে সঠিক পথের দিশা প্রদান করে এবং মোমিনদের বিরাট প্রতিদানের সুসংবাদ দেয়, যারা সৎকর্ম করে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৯)।
রমজানের ফরজ রোজা আদায়ে রয়েছে বিশাল পুণ্য। তবে রমজানের ফল আসবে না সৎকর্ম না করলে, নিজেকে গোনাহ, অন্যায় ও পাপ থেকে না বাঁচালে। তাই আপনি যদি রোজা রাখেন; তবে আপনার কান, আপনার চোখ, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। যাতে ইবাদতের দ্বারা আপনার মন পবিত্র হয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের আমলগুলোকে নষ্ট করে দিও না।’ (সূরা মুহাম্মাদ : ৩৩)।
রমজান মাসে নিজেই নিজের হিসাব নিন। যাতে কেয়ামতের দিন আপনার হিসাব সহজ হয়। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি সেভাবে নামাজ কায়েম করেছেন, যেভাবে আপনাকে আদেশ করা হয়েছে? রোজার সঙ্গে জাকাত আদায় করেছেন? গোনাহ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করেছেন? সুদ ও অবৈধ কেনাবেচার মতো বিভিন্ন হারাম উপার্জন থেকে ফিরে তওবা করেছেন? আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখেছেন? মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করেছেন? সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের বাধা দিয়েছেন? নবীর সুন্নত আঁকড়ে ধরে হেদায়েতপ্রাপ্ততের অন্তর্ভুক্ত হতে চেষ্টা-সাধনা করেছেন? আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, সঠিক কথা বল, তিনি তোমাদের আমলগুলো ঠিক করে দেবেন, তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে তো বিরাট সফলতা অর্জন করে।’ (সূরা আহজাব : ৭০-৭১)।

৫ রমজান ১৪৪০ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


রমজানে নারীদের করণীয়
আজ রমজানের ১৪ তম দিন। মাগফেরাতের দশকের চারটি দিবস আজ
বিস্তারিত
সামাজিক অবক্ষয় রোধে সিয়াম সাধনা
সবাই যদি রাসূল (স.) এর কথা মেনে চলে এবং বাস্তব
বিস্তারিত
আজকের তারাবি -১৫
আজ ১৫তম তারাবিতে সূরা মুমিনুন, সূরা নুর এবং সূরা ফুরকান
বিস্তারিত
কোরআনের সংলাপ!
আমি যখন বলি : ‘ওহ আল্লাহ! আমি কষ্ট পাচ্ছি।’ আল্লাহ
বিস্তারিত
ইবনে বতুতার চোখে হজরত শাহজালাল
হজরত শাহজালাল (রহ.) সম্পর্কে লেখা আছে, তিনি জীবনের শেষ ৪০
বিস্তারিত
রোজা অবস্থায় নখ বা চুল কাটা
রোজা অবস্থায় নখ বা চুল কাটা  রোজা অবস্থায় হাত-পায়ের নখ কাটলে,
বিস্তারিত