গল্প

মায়ের ভালোবাসা

সাবধানে মুখ খোলার চেষ্টা করবি। কিন্তু কী হলো হঠাৎ করে পাখিটি ফুড়–ত করে উড়াল দিয়ে চলে গেল তার বাসায়। বাসাটি তাদের বাড়ির পুকুর পাড়ে। এক পলকে সাইমুন, আকাশ, মুন্নি, তান্নি, আজগর, রোকেয়া, তাহেরা তাকিয়ে রইল পাখির ছানাগুলো কান্নাকাটি করছিল। মা পাখিটাকে যখনই দেখল ছানাগুলো তাদের কান্নাকাটি 
একদম বন্ধ করে দিল

হাউমাউ করে কান্না করছিল পাখির ছানাগুলো। বড্ড খিদে পেয়েছে ওদের। চার ঘণ্টা পার হয়ে গেছে প্রায়। মা পাখিটা এখনও আসছে না। মায়ের পরশ ছাড়া এ পৃথিবীতে কোনো শান্তি নেই।
সব শিশুর মা থাকবে, তাদের বাচ্চাদের আদর সোহাগ করবে, মজার মজার গল্প বলবে, মজার মজার খাওয়া-দাওয়া করাবে, মিষ্টি সুরে ডাকবে, মাঝে মাঝে গান শুনাবে। আর বাচ্চারা তা কান পেতে শুনবেÑ এটাই তো স্বাভাবিক। মা যেভাবে মন থেকে আদর করবে, সোহাগ করবে, ডাক দেবে পৃথিবীর কেউ তা কোনোদিন করতে পারবে না।
সবুজ মাঠের শেষ দিগন্তে একটি সরষে ফুলের জমি। পাশেই রিয়াদদের বাসা। উঠানে খেলা করছিল সাইমুন, আকাশ, মুন্নি ও তান্নি। সরষে খেতে কয়েকটা পাখি ওড়াউড়ি করতে দেখে দৌড়ে ছুটে এলো তারা। রিয়াদ ছোট মানুষ। তার মা তাকে আদর করে পায়েস খাওয়াচ্ছিল। মুন্নি ও তান্নিদের বাইরে আসতে দেখে সে-ও আসার জন্য ছটফট করে। তাই ছেড়ে দিল তার মা। 
সরষে ক্ষেতের এক কোনায় বসেছিল একটি পাখি। সবাইকে চুপ থাকতে বলল সাইমুন। আস্তে আস্তে করে এগুতে থাকল পাখিটার দিকে। খপ করে ধরে ফেলল একসময়। সবাই হুররে বলে চিৎকার দিয়ে উঠল। তাদের হই হুল্লোড় শুনে ছুটে এলো রাজ্জাক, আবদুল্লাহ, আজগর, রোকেয়া ও তাহেরা। পাখিটি দেখতে খুব সুন্দর। চল এটাকে নিয়ে সবাই খেলা করি। বলল সাইমুন। এই এটাকে একটা বাসার মধ্যে সুতা দিয়ে বাঁধলে কেমন হয় বলল তান্নি। রাজ্জাক বলল, এটাকে পায়ের সঙ্গে বাঁধতে হবে। তারপর দেখবে কেমন করে ওড়াউড়ি করে। আবদুল্লাহ প্রস্তাব দিল তার বদলে আমরা একে কবুতরের খাঁচায় আটকে রেখে আরও কিছু ধরলে কেমন হয়। ঠিক বলেছ সবাই একযোগে সায় দিল।
একজন কবুতরের বাক্সে রেখে এলো বাক্সের ঢাকনাটা ছিল ভাঙা ওরা বুঝতে পারেনি। তারপর সবাই মিলে নামল মাঠে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিল তারা। কোথায় বসছে পাখি। দু-একটা এখানে-সেখানে বসেছিল। ধরতে পারছিল না তারা। উড়ে চলে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে।
সরষে গাছগুলো ভেঙে যাচ্ছিল। তাই সবাইকে সরষে ক্ষেত থেকে উঠে আসতে বলল সাইমুনের বাবা। সাইমুন একটি পাখির জন্য কান্নাকাটি করছিল। এগিয়ে এলো তার বাবা। কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর একটিও ধরতে পারল না সাইমুনের বাবা। রাজ্জাক, আবদুল্লাহ, আজগর, তাহেরা, রোকেয়ার আবদার আমাদের সবাইকে একটা করে পাখি ধরে দাও। সাইমুনের বাবা বলল, দিচ্ছি তোমরা একটু সবুর কর। 
এদিকে চিৎকার শুরু হয়ে গেল ঘরের একমাত্র বলদটা দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কণ্ঠ ভেসে উঠল সাইমুনের আম্মুর। তোরা থাম। একটু পরেই আসছি কারও ফসল নষ্ট করার আগেই আমি বলদটাকে যেন আটকাতে পারি।
এদিকে সাইমুন বলল দেখি তো আমরা আগে যে পাখিটা ধরছি ওর খবর কী। চল সবাই যাই কী অবস্থায় আছে পাখিটা কবুতরের বাক্সে।
সাবধানে মুখ খোলার চেষ্টা করবি। কিন্তু কী হলো হঠাৎ করে পাখিটি ফুড়–ত করে উড়াল দিয়ে চলে গেল তার বাসায়। বাসাটি তাদের বাড়ির পুকুর পাড়ে। এক পলকে সাইমুন, আকাশ, মুন্নি, তান্নি, আজগর, রোকেয়া, তাহেরা তাকিয়ে রইল পাখির ছানাগুলো কান্নাকাটি করছিল। মা পাখিটাকে যখনই দেখল ছানাগুলো তাদের কান্নাকাটি একদম বন্ধ করে দিল। মুন্নি ও তান্নি বলল, আমাদের চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগল পাখিটাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। অনুতপ্ত সবাই। আর কোনোদিন কোনো প্রাণীকে এভাবে আর কষ্ট দেব না। প্রাণী নিয়ে খেলা করা যাবে না। একযোগে প্রতিজ্ঞা করে সবাই বাসায় ফিরল।


ছড়া লেখা
  ইচ্ছে হলেই যায় না লেখা ছড়া ছন্দ খুঁজে  পাই না
বিস্তারিত
মাকে খুঁজি
      মাগো তুমি হারিয়ে গেছ শিশির ভেজা প্রাতে। মাগো তুমি হারিয়ে গেছ
বিস্তারিত
বাবা আমার
কখন বাবা ফিরবে বাড়ি?  পথটি চেয়ে থাকি বাবার আদর পেতেই
বিস্তারিত
বর্ষা আসে
বর্ষা আসে এই বাংলায় বৃষ্টি পড়ে টুপ, হই চইটা আর
বিস্তারিত
ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে হঠাৎ করে  হারাই কোনো বনে, মনটা খুলে কথা
বিস্তারিত
বাবার কথা মনে পড়ে
ছোট্ট খুকি টুনটুনিটা দৌড়ে যখন আসে দৌড়ে এসে গা ঘেঁষে
বিস্তারিত