মাদকের চেয়েও ভয়াবহ ফেসবুক

সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। এ কথা বলেছেন দেশের মনোবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে অল্প বয়সী ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে তাদের অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ।

এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মনোবিজ্ঞানী মেহতাব খানম বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পরিবারের ভেতরেও নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এই মনোবিজ্ঞানীর কাছে আসছেন বহু রোগী। এ সম্পর্কে মেহতাব খানম বলেন, এই সমস্যার কারণে কিশোর-কিশোরীদের বাবা মায়েরা কিন্তু ভীষণ সংগ্রাম করছেন। কারণ রাতের পর রাত জেগে বাচ্চারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকছে, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। তারা বুঝতে পারছেন না কীভাবে সন্তানের সাথে সম্পর্ক ঠিক রেখে সহায়তা করা সম্ভব।

মেহতাব খানমের কাছে কাউন্সেলিং নিতে আসা শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা অনেক সময় বলছেন অভিভাবকদের কারণে তাদের কৈশোর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা পড়াশোনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটে পড়ালেখার কাজও দেয়া হয়। কিন্তু বাবা মায়েরা বুঝতে চায়না।’

অনেকে রাত জেগে মোবাইলে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকছে যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা

মেহতাব খানম বলেন, ‘এখন সম্পর্কগুলো দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। সহজেই একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগ হচ্ছে। এ কারণে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, একাধিক সম্পর্ক-এসবও বেড়ে যাচ্ছে অনেক।’

অনেক সময় ফেসবুকে এমন কিছু দেখছে যা তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে, হতাশও হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে ড্রাগের আসক্তির চেয়েও সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে এটা।

তার ভাষায়, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত। ড্রাগ যখন নেয় একা বা কয়েকজনের সাথে নেয়। কিন্তু আমি যখন অন্য একজন বা একাধিক মানুষের সাথে সম্পর্ক করছি তখন অনেকগুলো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তবে মেহতাব খানম মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করাই সমাধান নয়।

তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়ে আমরা যথেষ্ট শিক্ষা গ্রহণের আগেই সব কিছু হাতের মুঠোয় চলে আসছে। আমরা এটিকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় দেয়ার কারণে অন্য সব কিছুতে এর প্রভাব পড়ছে। আমাদের মাথা ওই কাজেই ব্যস্ত থাকছে।’

এজন্য যথাযথ শিক্ষার দরকার বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানী মেহতাব খানম।

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া দরকার। স্কুলগুলোতে প্যারেন্টিং কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা


ফেসবুকে যে চারটি কাজ আর
তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কাঠগড়ায় ফেসবুক প্রধান মার্ক জুকারবার্গ। মার্কিন কংগ্রেসের
বিস্তারিত
ফেসবুকে ৮৬ শতাংশ মানুষই ভুয়া
ভুয়া খবর বা ফেক নিউজের রাজত্ব যেন ইন্টারনেট। প্রতিনিয়ত সোশ্যাল
বিস্তারিত
ফোন হারালে প্রথমেই যা করবেন
অনেকেই হঠাৎ করে অ্যান্ড্রয়েড ফোন হারিয়ে ফেলে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অনেক
বিস্তারিত
দেশে বন্ধ হতে পারে ফেসবুক-গুগল
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে সামাজিক
বিস্তারিত
আপনার মোবাইল আসল না নকল?
অবৈধ ও চোরাই পথে মোবাইল ফোন আমদানির কারণে বৈধ আমদানিকারক
বিস্তারিত
সৌরমণ্ডলের বাইরে আরো ১৮ ‘পৃথিবী’
এই ব্রহ্মাণ্ডে আমরা সত্যিই কি একা? উত্তর যে ‘না’, সেটা
বিস্তারিত