আজকের তারাবি ১৭

আজ ১৭তম তারাবিতে সূরা নামলের ৬০-৯৩, সূরা কাসাস এবং সূরা আনকাবুতের ১-৪৪ আয়াত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২০তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলোÑ

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম পাতায় ‘আজকের তারাবি’ শিরোনামে প্রতিদিন তারাবি নামাজে কোরআন মজিদের যে অংশটুকু তেলাওয়াত করা হবে তার সারমর্ম ২৭ রমজান পর্যন্ত ছাপানো হবে। মসজিদের সম্মানিত ইমাম বা কমিটির দায়িত্বশীলদের খেদমতে তারাবির আগে বা পরে এ অংশটুকু মুসল্লিদের উদ্দেশে পড়ে শোনানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।​

 

২৭. সূরা নামল (৬০-৯৩)
পারার শুরুতে আল্লাহপাকের কুদরত ও একত্ববাদ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ সেই মহান সত্তা, যিনি আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং বৃষ্টি দিয়ে সবুজ-শ্যামল সুন্দর সুন্দর বাগবাগিচা সাজান। তিনি বিশাল বিশাল পাহাড় স্থাপন করেছেন, মিঠা পানি আর লবণাক্ত পানি যাতে একসঙ্গে মিশে না যায়, সেজন্য উভয় দরিয়ার মাঝে এক কুদরতি পার্থক্যরেখা সৃষ্টি করেছেন। অসহায় অবস্থায়, দুঃখকষ্টের সময় এবং অসুস্থতার মুহূর্তে তিনিই সাড়া দেন অসহায়-নিরুপায় বান্দার ডাকে। গভীর অন্ধকারে জলে-স্থলে তিনিই দেন পথের দিশা। বৃষ্টি বর্ষণের আগ মুহূর্তে তিনি শীতল ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত করেন। এ মহান সত্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আবার তাকে পুনর্জীবন দান করবেন। (৫৯-৬৬)। মহান আল্লাহর কুদরতের এত নিশান দেখার পর শুধু নিরেট মূর্খরাই পারে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করতে। এরপর মৃত্যু-পরবর্তী জীবন প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। কেয়ামতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সূরার শুরুতে কোরআনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিল, আর শেষে বলা হচ্ছে কোরআনুল কারিমের শিক্ষা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার মাঝেই রয়েছে মানবজীবনের চরম সফলতা এবং পরম সৌভাগ্য।

২৮. সূরা কাসাস (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৮৮, রুকু ৯)
পবিত্র কোরআনের সত্যতার বর্ণনা দিয়ে সূরাটির সূচনা। এরপর সূরায় বিস্তারিতভাবে মুসা (আ.) ও ফেরাউনের আলোচনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে এখানে যেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, সেগুলো হলোÑ মুসা (আ.) এর জন্মের সময় বনি ইসরাইলের প্রতি ফেরাউনের নিষ্ঠুরতা, শিশু মুসাকে আল্লাহর আদেশে দরিয়ায় নিক্ষেপ, শত্রুর ঘরে অথচ মায়ের কোলে লালনপালন, যৌবনে পদার্পণ, মুসার হাতে জনৈক কিবতির হত্যা, মাদয়ানে গমন, শুআইব (আ.) এর কন্যাকে বিবাহ, নবুয়ত ও মোজেজা লাভ, মুসার বিরোধিতার জন্য ফেরাউনের নির্দেশে হামান কর্তৃক প্রাসাদ তৈরি, ফেরাউন ও তার দলবলের পরিণতি। মুসা (আ.) এর ঘটনা এবং ফেরাউনের অশুভ পরিণতির আলোচনার পরে মক্কাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। (৩-৫১)। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা কোরআনের প্রতি ঈমান আনে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। পার্থিব ধনসম্পত্তির ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে। সূরার ৫৬ নম্বর আয়াতে নবীজিকে লক্ষ করে বলা হয়েছে, আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকেই হেদায়েত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে খুশি হেদায়েত দেন। হেদায়েত শুধু আল্লাহর হাতে।
এরপর মহান আল্লাহর অসীম কুদরত ও ক্ষমতার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে ফেরাউনের মতো আরেক দাম্ভিক ও অবাধ্য ব্যক্তির আলোচনা করা হয়েছে। তার নাম কারুন। কারুন এত বেশি সম্পদের অধিকারী ছিল যে, তার ধনভা-ারের শুধু চাবিগুলো বহন করার জন্যই বিশাল একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন পড়ত। সম্পদের প্রাচুর্য তাকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছিল। মুসা (আ.) তাকে বোঝালেন, সম্পদের বড়াই করো না। আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না। আল্লাহ যেমন তোমার প্রতি দয়া করেছেন তুমিও আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া কর। কিন্তু উপদেশ-বাণী কারুন শুনত না। সে বলত, আমি নিজ মেধা-বুদ্ধি দিয়ে এ সম্পদ কামাই করেছি। প্রত্যেক যুগের মূর্খ সম্পদশালীরা এ উত্তরই দিয়ে থাকে। দুনিয়ালোভী লোকরা যখন কারুনের ধনসম্পদ দেখত, তখন তাদের জিভে পানি চলে আসত। তারা কারুনের মতো সম্পদশালী হওয়ার কামনা করত। কিন্তু অবশেষে আল্লাহ তায়ালা কারুনকে তার বাড়িঘরসহ জমিনে ধসিয়ে দেন। আল্লাহর এ শাস্তি তৎকালীন সম্পদ পূজারিদের চোখ খুলে দিয়েছিল। তারা স্বীকার করেছিল, যদি আল্লাহ আমাদের ওপর দয়া না করতেন, তাহলে আমরাও ধসে যেতাম। (৭৬-৮২)। সূরাটির শেষ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ছাড়া বাকি সবকিছু ধ্বংসশীল, তাঁরই হুকুম চলবে, আর তোমাদের তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে।’ 

২৯. সূরা আনকাবুত (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৬৯, রুকু ৭)
এ সূরার আলোচ্য বিষয় তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাত। মক্কি জীবনে মুসলমানদের একের পর এক জুলুম, অত্যাচার ও বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এক পর্যায়ে মুসলমানরা ঘাবড়ে যায়। তাদের সান্ত¡না দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ঈমানদারদের পরীক্ষা করা আল্লাহ তায়ালার প্রাচীন রীতি, যেন সত্য ও মিথ্যার মাঝে এবং মোমিন ও মোনাফেকের মাঝে পার্থক্য হয়ে যায়। ঈমানদারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কঠিন পরীক্ষা হয়েছে নবীদের, এজন্য সূরায় নুহ, ইবরাহিম, লুত, শুআইব, হুদ ও সালেহ আলাইহিমুস সালামের কাহিনি সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করা হয়েছে। যেন ঈমানদার ব্যক্তি বুঝে নেয়, সত্যপন্থিদের পরীক্ষা আসে; কিন্তু সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হকপন্থিরাই শেষ পর্যন্ত বিজয়মাল্য পরিধান করেন, আর তাদের বিরোধীদের পরিণাম হয় কেবল ধ্বংস ও বিনাশ। পারার শেষে মোশরেকদের দেব-প্রতিমা এবং মূর্তিগুলোকে ‘আনকাবুত’ তথা মাকড়সার জালের সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়েছে। মাকড়সার জাল যেমন দুর্বল, মোশরেকদের দেব-প্রতিমাও তেমনি দুর্বল, না কোনো ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে, আর না কোনো উপকার পৌঁছাতে পারে।

রাশেদুর রহমান
পেশ ইমাম ও খতিব, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ


প্রিয় মুরসি, আপনি আমাদের মাঝে জীবিতই!
আমর দারাজ মিসরীয় সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক ও পরিকল্পনামন্ত্রী  আপনি জীবিত! কারণ আপনার
বিস্তারিত
মুরসিকে নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস
মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের
বিস্তারিত
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের জের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি সাইবার
ওমান উপসাগরে বৃহস্পতিবার তাদের একটি অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত করার বদলা
বিস্তারিত
মুসলিম এমপির প্রতিবাদ
ভারতের সংসদে তিন তালাকবিরোধী বিল পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি।
বিস্তারিত
ট্রাম্প ও হরমুজ প্রণালি
২৩ জুন লন্ডনভিত্তিক  আরবি-ইংরেজি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ অ্যারাবে প্রকাশিত ইমাদ
বিস্তারিত
সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার লক্ষ্যে বগুড়ায় বুনিয়াদি
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, শেরপুর বগুড়ায় জনপ্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ৬ মাস
বিস্তারিত