আজকের তারাবি ১৮

আজ ১৮তম তারাবিতে সূরা আনকাবুতের ৪৫-৬৯, সূরা রুম, সূরা লোকমান, সূরা আলিফ-লাম সাজদা এবং সূরা আহজাবের ১-৩০ আয়াত পড়া হবে। আজ পড়া হবে ২১তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলোÑ

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম পাতায় ‘আজকের তারাবি’ শিরোনামে প্রতিদিন তারাবি নামাজে কোরআন মজিদের যে অংশটুকু তেলাওয়াত করা হবে তার সারমর্ম ২৭ রমজান পর্যন্ত ছাপানো হবে। মসজিদের সম্মানিত ইমাম বা কমিটির দায়িত্বশীলদের খেদমতে তারাবির আগে বা পরে এ অংশটুকু মুসল্লিদের উদ্দেশে পড়ে শোনানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।​

 

২৯. সূরা আনকাবুত (৪৫-৬৯) 
পারার প্রথম আয়াতে কোরআন তেলাওয়াতের এবং সালাত কায়েমের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। নবী মুহাম্মদ (সা.) এর নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নবীজি নিরক্ষর ছিলেন, না লিখতে পারতেন, না পড়তে জানতেন। যদি লেখাপড়া জানতেন, তাহলে বাতেল-পূজারিরা সন্দেহ করতে পারত যে, মুহাম্মদ পূর্ববর্তী কিতাব থেকে এসব জ্ঞান অর্জন করেছেন। আসলে বিশ্বাসীদের জন্য তো অলৌকিক বিষয় হিসেবে কোরআনই যথেষ্ট। এরপর অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে এবং মুত্তাকিদের আলোচনা করা হয়েছে। হিজরতের সময় এবং দ্বীনের পথে যত বিপদাপদ আসে, সবক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাতৃভূমি ত্যাগের সময় জীবিকা ও অর্থনৈতিক পেরেশানি থাকা স্বাভাবিক। তাই সান্ত¡না দিয়ে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ অসহায় প্রাণীদের রিজিকের ব্যবস্থা করেন; তোমাদের রিজিকের ব্যবস্থাও তিনি করবেন। সুতরাং হিজরতের সময় দারিদ্র্য বা নিঃস্ব হওয়ার ভয় করো না। সূরার শেষে আল্লাহ বলছেন, ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, অবশ্যই আমি তাদের আমার সুপথ দেখিয়ে দিই, নিশ্চয়ই আল্লাহ সজ্জনদের সঙ্গে আছেন।’ 

৩০. সূরা রুম (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৬০, রুকু ৬)
কোরআন কারিম আল্লাহ তায়ালার সত্য কালাম এবং চিরজীবন্ত মোজেজা। এর একটি প্রমাণ হলোÑ কোরআনে বহু ভবিষ্যদ্বাণী বর্ণিত হয়েছে, যুগে যুগে যা বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। সূরার শুরুতে এমনই একটি ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বর্ণিত হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সূরাটি নাজিলের সময় রোমানরা জীবন-মৃত্যুর চরম সংকটকাল অতিক্রম করছিল। একের পর এক যুদ্ধে পরাজয় বরণ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে কোরআন ভবিষ্যদ্বাণী করে, কয়েক বছরের মধ্যেই রোমানরা পারসিকদের ওপর বিজয় লাভ করবে। মোশরেকরা ভবিষ্যদ্বাণীটি শুনে বিদ্রƒপ করেছিল। কিন্তু ঠিক ৯ বছরের মাথায় কোরআনের এ ভবিষ্যদ্বাণীটি বাস্তবে পরিণত হলে মোশরেকদের মুখে চুনকালি পড়ে যায়। এছাড়া সূরায় কিছু নিদর্শন এবং প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে, যা আল্লাহর বড়ত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। জীবিত থেকে মৃত, মৃত থেকে জীবিতকে মহান আল্লাহই সৃষ্টি করেন, নিষ্প্রাণ মাটি থেকে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেন। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা তিনিই পয়দা করেন। দিন-রাতে মানুষকে নিদ্রা দ্বারা প্রশান্তি দান করেন। আকাশে বিজলি চমকায়। এতে মনে আশা ও ভয়ের সঞ্চার হয়। অতঃপর বৃষ্টি হলে মৃত জমি পুনর্জীবিত হয়ে ওঠে। আসমান-জমিন এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন। কোনো খুঁটি ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে আসমান। মানুষকে বিচিত্র ভাষা ও রং দান করেছেন। এসব কিছুই তাওহিদ ও একত্ববাদের শিক্ষা দেয়। সূরায় বলা হয়েছে, সুদ সম্পদ হ্রাস করে, জাকাত সম্পদ বৃদ্ধি করে। আরও বলা হয়েছে, পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রধান কারণ মানুষের গোনাহ। কেয়ামতের বিবরণের মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

৩১. সূরা লোকমান (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৩৪, রুকু ৪)
পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে সূরাটির সূচনা। এরপর পুরা সূরায় রয়েছে আল্লাহর সৃষ্টি-কুশলতার বিবরণ। সূরার দ্বিতীয় রুকুতে সন্তানকে লক্ষ করে হজরত লোকমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ বর্ণিত হয়েছে। উপদেশগুলো হলোÑ আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো। সালাত কায়েম করো। সৎকাজের আদেশ করবে, মন্দকাজে বাধা দেবে আর বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করবে। অহংকার পরিহার করবে। চলাফেরায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে এবং নিচু স্বরে কথা বলবে। মনে রাখবে, ভালো-মন্দ তুমি যা-ই করবে, তা ক্ষুদ্র হোক কিংবা বড়, যেখানেই কর না কেন, কাল কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা হাজির করবেনই। সূরার শেষে বলা হয়েছে, মানুষের রিজিক, মৃত্যু, কেয়ামত, বৃষ্টি এবং মাতৃগর্ভের বাচ্চাÑ এ পাঁচ জিনিসের পূর্ণ ও সঠিক জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই আছে। 

৩২. সূরা সিজদা (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৩০, রুকু ৩)
পূর্বের সূরার মতো এ সূরাটির সূচনাও পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে। এরপর সূরায় রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদ ও কুদরতের প্রমাণের বর্ণনা। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন এবং সুষম আকৃতির মানুষ সৃষ্টির বিবরণ। সূরায় মোমিন এবং অপরাধী উভয়ের দুনিয়া-আখেরাতের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়ায় মোমিনরা আল্লাহর আনুগত্য করে রাত জেগে জেগে ইবাদত করে। তাই আখেরাতে তাদের জন্য থাকবে নয়নজুড়ানো সব প্রতিদান। পক্ষান্তরে কাফেরদের জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি। সূরার শেষাংশে মুসা (আ.) কে তাওরাত দানের প্রসঙ্গ ধরে নবীজিকে বলা হয়েছে, আল্লাহর সঙ্গে আপনার সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত। সুতরাং কাফেরদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখুন।

৩৩. সূরা আহজাব (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ৭৩, রুকু ৯)
সূরায় মৌলিকভাবে তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছেÑ সামাজিক শিষ্টাচার, ঐশী বিধিবিধান এবং নবী-যুগে সংগঠিত দুটি যুদ্ধ, তথা গাজওয়ায়ে আহজাব ও গাজওয়ায়ে বনি কুরাইজা। সূরাটিতে যুদ্ধকালীন ঈমানদারদের অবস্থান এবং মোনাফেকদের কর্মকা-ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। জাহেলি যুগের কিছু ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসের খ-ন করা হয়েছে। পালকপুত্র সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা বর্ণনা করা হয়েছে। একই হৃদয়ে ঈমান এবং কুফরের সম্মিলন ঘটতে পারে না মর্মে ঘোষণা রয়েছে। সূরায় বলা হয়েছে, আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশীদের জন্য নবীজীবনেই রয়েছে উত্তম আদর্শ।

হ রাশেদুর রহমান
পেশ ইমাম ও খতিব, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ


দোয়া কবুলের সেরা ১০ সময়
আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার দোয়া সব সময় কবুল করে থাকেন।
বিস্তারিত
মিডিয়ার গুরুত্ব আমাদের দায়িত্ব
ইসলামের প্রচার ও তালিমের জন্য নবী করিম  (সা.) শুরু থেকে
বিস্তারিত
দাওয়াত প্রচারে মিডিয়ার ব্যবহার
মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতি সৃষ্টি করে তাদের হেদায়েতের জন্য
বিস্তারিত
যখন আঁধার নামে হৃদয়জুড়ে
মানব হৃদয় একটি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ক্যানভাসের মতো। মানুষ তার
বিস্তারিত
বিসমিল্লাহ আমলেই অফুরন্ত নেয়ামত
বিসমিল্লাহ ছোট একটি শব্দ। বিসমিল্লাহ আমলে অসংখ্য ফজিলত পাওয়া যায়।
বিস্তারিত
ইসলামে মালিকানার স্বাধীনতা
মালিকানা যদি অবৈধ পন্থায় বা উপায়ে অর্জিত  হয়, তাহলে ইসলাম তার
বিস্তারিত