ভয়ে কেবলই বুক কাঁপে

আমি বাকরুদ্ধ। স্তম্ভিত! নিরাপত্তাহীন! নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর আমার মত এ দেশের প্রতিটি নারীর হয়তো এই একই অভিব্যাক্তি।

ভেবেছিলাম ফেনির হতভাগী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে নিয়ে আর লিখবোনা। মেয়েটি পৈশাচিকভাবে খুন হয়েও বারবার সামাজিকমাধ্যমে ধর্ষিত হচ্ছে। তারপরও যেন শেষ নেই। নুসরাতের খুনি ও সহযোগীদের বাঁচাতে এক শ্রেণির মানুষ এখনও অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন। খুনিরা গ্রেফতার হলেও সহযোগিরা নানা ফাঁক ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। যা প্রতিটি হৃদয়বান মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িছে।

খুনীদের সহযোগী ও নুসরাতকে থানায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা ফুলগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে। কিন্তু বাকীদের বদলিকরেই কি দায়িত্ব শেষ করতে চাচ্ছে প্রশাসন?

আমাদের দাবি তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হোক। এতে নুসরাতের পরিবার যে কেবল ন্যায় বিচার পবে তানয়, সারাদেশের পুলিশের কাছে একটি বার্তা যাবে নারী কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে তা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থ নিতে হবে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না। নির্যাতনের পর নারীও থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে আগ্রহী হবে। নতুবা কিন্তু নতুন সংস্কৃতি চালু হবে। আমাদেরও আবার নতুন করে বলতে হবে- বিচার পাইনা, তাই চাইনা।

নিগৃত নুসরাতের বেলায় দ্রুতার সাথে আইনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল ফেনির তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন। এ ব্যর্থতার জন্য তাদের কেবল শাস্তিমুলক বদলি নয়, চাকরিচ্যূত ও গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কারণ তারা সময়মতো ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে পুড়িয়ে মরতে হতোনা।

গত ৫ মে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে হত্যা করা হয়। কেন কি করাণে তাকে হত্যা করা হয়েছিল গণমাধ্যমের কল্যাণে সবাই সেটা জেনে গেছে। হত্যার মোটিভ প্রকাশ হয়ে গেছে। ময়না তদন্তও শেষ। তারপরও পুলিশ এখনো এ হত্যকাণ্ডের চার্জশিট দিতে পারেনি।

তবে পুলিশের প্রধান দফতর এ হত্যার সাথে পুলিশের কোনো যোগসূত্র ছিল কিনা তা খুঁজে একটি তদন্ত টিম করেছেলি। তদন্ত টিম তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা ফেনির পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি ও থানার পুলিশের হত্যাকারীদের সহযোগির প্রমাণ পেয়েছেন। সে করণে শাস্তি হিসাবে পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার এবং ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বহিস্কার করে রংপুর রেঞ্জে বদলি করেছেন।

এ ছাড়া এসআই ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জে এবং এসআই ইকবালকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বদলিক রেন। আমাদের প্রশ্ন, একটি মেধাবী ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ভারের শাস্তি কি কেবল বদলি? এতে কি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠত হয়?

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবশ্য গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে। তবে এসপি জাহাঙ্গীর মাতুব্বর ও দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধ কোনো আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এখনো। পুলিশ সদর দফতরের উচিত তাদেরও আইনের কাছে সোপার্দ করা। স্থায়ীভাবে বাহিনী থকে বহিস্কার করা।

আমি আশাবাদী মানুষ। আশায়বুক বেধে আছি। উর্ধাতন পুলিশ প্রশাসন সে পথেই হয়তো হাঁটবেন। নতুবা নুসরাতদের বর্বর পৈশাচিত হত্যাকাণ্ডের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে।

নুসরাতের পর ইবনে সিনার নার্স শাহিনূর পালা গেল। তাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যা করা হল। এরপর কারপালা? ভাবতে বুক কাপে। চিন্তার জগত অন্ধকার হয়ে যায়।

লেখক- নাজমুন নাহার রহমান, চিত্রশিল্পী ও লেখিকা।


অপসাংবাদিকতা রোধে চাই কার্যকর পদক্ষেপ
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। একজন সাংবাদিককে সকল পেশার মানুষ অত্যন্ত
বিস্তারিত
নৌকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে
নৌকা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘকাল ধরে এদেশের মানুষের
বিস্তারিত
মাদকমুক্ত বরগুনা গড়তে প্রয়োজন সম্মিলিত
বরগুনা আমাদের আবেগ ও অনুভূতির জায়গা। এখানে বেড়ে ওঠা প্রতিটি
বিস্তারিত
৩৮ লাখ বছর আগের মাথার
আবিষ্কার হওয়া মাথার খুলি তৈরি করেছেন এক শিল্পী। আনামেনসিস দেখতে
বিস্তারিত
কেমন হবে মশার কার্যকর ও
বর্তমানে মশা বা মশাবাহিত রোগ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশসহ দক্ষিনপূর্ব
বিস্তারিত
আগস্ট শুধু শোকই নয়
পরাধীন বাংলার গণমানুষের এক সময় প্রাণের দাবী ছিল স্বাধীনতা। মানুষ
বিস্তারিত