নদী এবং নদীরা

হ্যাঁ, মেয়েটির নাম ছিলÑ নদী!
পারভীন জাহান নদী।
হয়তো আরও চমৎকার একটা নামও ছিল তার।
আমি জানি না।

এক অবিশ্রান্ত বিকেলে, ঘূর্ণি-ওঠা মেঘনার পাড়ে দাঁড়িয়েÑ
উড়ন্ত আকাশ আর সুতীব্র স্রোতধারাকে সাক্ষী মেনে
আমার অনাধুনিক হাতখানি চেপে ধরেছিল সে; বলেছিলÑ
ভালোবাসি, অনেক অনেক ভালোবাসি। তখন 
মেঘনার জলে লাফিয়ে উঠলো বয়স্ক একটা শুশুক! ডাঙায় কম্পমান,
পায়ের নিচে মাটিহীন সদ্যগ্রাম থেকে আসা আমি এক নবীন কিশোর।
আড়ালে আমিও যে এক পলায়নপর শুশুক!

সেই প্রেম একদিনই টিকেছিলÑ মাত্র কয়েক ঘণ্টা!
ভয়ে, নাকি অন্য কোনো কারণেÑ জানি না কেন যেন
আমি তার হাতের উষ্ণতা হাত থেকে নামিয়ে ফেলেছি
তার চোখের কথা মেঘনার জলে ডুবিয়ে দিয়েছি
তার বুকের স্বপ্ন নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছি
তার চেহারার জ্যোৎস্না অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছি

একদিন অনন্তের প্রবাহে মিশে গেল তার উচ্ছল নিক্কণ...

তারপর দীর্ঘকাল, অগণন দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে
আমি হাঁটতে শুরু করিÑ
বড় হতে শিখি
সভ্য সমাজে ঢুকি
স্বপ্ন দেখার সাহস করি

কিন্তু সেই কিশোরী-হাতের উষ্ণতা
চোখের ভাষা
মনের আকুতি
কিংবা চেহারার জ্যোৎস্না
কিছুই মনে রাখিনি আমি
কেবলই মনে রেখেছি একটি নামÑ নদী!

মেয়েটি সত্যিই নদীর মতো চঞ্চল ছিল
দীর্ঘ চুল আর চমৎকার মায়াবি চেহারাও ছিল 
ছিল দুধেল গাইয়ের মতো আরও সুন্দর দুটো চোখ
আমি কিছুই মনে রাখিনি। কিচ্ছু নাÑ
কালের দীর্ঘল স্রোত তাকে যে কোথায় ভাসিয়ে নিল
আমি জানি নাÑ

শুনেছি, তার জল ছল ছল চোখ দুটো কারও জন্য প্রতীক্ষায় ছিল বহুকাল
সে প্রতীক্ষা কার জন্য? 


দীপা
পহেলা ফাল্গুন। বইমেলায় শাড়ি পরিহিতা সুশ্রী একজন লেখিকা ৩০১ নম্বর
বিস্তারিত
মেঘ শুধু মেঘ নয়
মেঘ শুধু মেঘ নয়; খুঁজেছো কি মেঘে তুমি কিছু  শাদা
বিস্তারিত
আলো অন্ধকারে যাই
ভ্যান থেকে যখন নামল সে, বহু মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। সন্ধ্যা
বিস্তারিত
চেতনা বিকাতে পারি
  যিনি চেতনাবাজ হয়ে বেঁচে আছেন এক মেরদ-ী শিক্ষকের কথা বলি যিনি
বিস্তারিত
টুপটুপ রক্ত ঝরছে
কপালে লাল টিপ সেঁটে দৌড়ে ছুটছে লাল ষাঁড় শিং ছুঁয়ে
বিস্তারিত
মায়ের শরীরের একাংশ আমি
আমার অস্তিত্বের অঙ্কুরোদগম হয়েছিল এক মায়াবী নারীর গূঢ় কর্ষিত জঠরে
বিস্তারিত