শান্তিময় জীবনের নিয়ামক বিয়ে

স্বল্প খরচে যৌতুকবিহীন বিয়েতে রয়েছে আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি। মূলত নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একমাত্র বৈধ উপায় ও বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা হচ্ছে বিয়ে। এই ফরজ বিয়ের নিয়ম-নীতি যত সহজ হবে, খরচ যত কম হবে, সমাজে ততই নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা ও অনাচার কমে আসবে। এ জন্য স্বল্প খরচে সুন্নতি বিয়ের প্রথা সমাজের সর্বত্র চালু করতে হবে। বিষয়টির প্রতি সমাজের হৃদয়বান মোমিন জনতা ও সরকারের নজর দেওয়া উচিত। এতে নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি, অবৈধ প্রেম, ব্যভিচার, ধর্ষণ ইত্যাদি হ্রাস পাবে। কন্যাদায়গ্রস্ত মা-বাবা হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের ঘরে শান্তির ছোঁয়া লাগবে। কারণ বৈধ বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মিল-মহব্বতে রয়েছে শান্তি। যে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য নেই, যৌতুকের বাড়াবাড়ি নেই, ঘরে-বাইরে অশান্তির আগুন থেকে তারা নিরাপদ। 
আল্লাহর হুকুম : মহান আল্লাহ তায়ালা ‘মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে; অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।’ (সূরা ফোরকান : ৫৪)। আল্লাহপাকের হুকুম হচ্ছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা (বিবাহযোগ্য কিন্তু) বিবাহহীন তোমরা তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, যোগ্য, তাদেরও। তারা যদি দরিদ্র হয় তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের ধনী করে দেবেন। আল্লাহ অসীম ক্ষমতাবান সর্বজ্ঞ।’ (সূরা নুর : ৩২)। ‘আর যারা বিবাহ করতে অসমর্থ, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে (মানসিক ও আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে চেষ্টা করে) যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেন।’ (সূরা নুর : ৩৩)। 
বিয়ের শর্ত : ইসলামে বিয়ের শর্ত হলো ছেলে-মেয়ে দুজন দুজনের অবশ্যই পছন্দ হতে হবে। অর্থাৎ তাদের মতামতের ও পছন্দের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। গার্ডিয়ানদের বর-কনে পছন্দের ক্ষেত্রে ধন-সম্পদ ও বংশমর্যাদার চেয়েও দ্বীনদারিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। বিয়েতে সাক্ষী থাকবে দুজন। মেয়েকে বরের যোগ্যতা অনুসারে বিবেকসম্মত ন্যায্য দেনমোহর দিতে হবে। এ বিষয়ে ছেলের সামর্থ্য মতো যে দেনমোহর দিতে সক্ষম তা মেয়ে ও মেয়ের পক্ষ মেনে নিলেই হবে ইসলামি মতে বিয়ে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুপক্ষেরই যৌতুক দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। স্বল্প খরচে সুন্নতি বিয়ে নিয়মমাফিক মসজিদেও সম্পন্ন করা যায়। এতে থাকবে না বিয়ে আয়োজনের হাজারো রকমের আড়ম্বরতা। বাড়ি-গাড়ি সাজানোর বাড়াবাড়ি, বর-কনের ফ্যাশনের ঘনঘটা, গায়ে হলুদের নামে নারী-পুরুষের মাখামাখি, নাচানাচি, যন্ত্রসংগীতের মাতামাতি, অশ্লীলতার ছড়াছড়ি এবং খানা-খাদ্যের ও অর্থের অহেতুক অপচয়, বিজাতীয় অনুকরণ থাকবে না। রাসুল (সা.) এর কলিজার টুকরা জান্নাতের রানি মা ফাতেমার (রা.) বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল সামান্য ব্যয়ে একবারে সাদামাটা। তার বিয়ে অনুষ্ঠানের মতো সাদামাটা বিয়ের অনুষ্ঠানই হওয়া উচিত মুসলিম সমাজের বিয়ের অনুষ্ঠানের মূল শর্ত। মা আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘স্বল্প খরচের বিবাহ সর্বাপেক্ষা বরকতময়।’ (মুসনাদে আহমাদ, শুআবুল ইমান)। তিনি আরও বলেন, ‘স্বল্প খরচের বিবাহ সর্বাপেক্ষা উত্তম।’ (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)। 
ফরজ বিয়ে হচ্ছে আল্লাহ পাকের হুকুম পালন করা। নবীজি (সা.) এর সুন্নাহর অনুসরণ করা, যা উন্নত চরিত্র গঠনে, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় একান্ত সহায়ক শক্তিরূপে কাজ করে। ফরজ বিয়ে চোখের কুদৃষ্টির হেফাজত করে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে জেনার হাত থেকে রক্ষা করে এবং আত্মার সংশোধনের মাধ্যমে ইবাদতে মনোযোগী করে, তাকওয়ার রাজপথে হাঁটতে সাহায্য করে। 


আল্লাহর দেওয়া মানবজাতির বহুমাত্রিক
ইবনে আসাকির (রহ.) আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস
বিস্তারিত
ইউশা ইবনে নুন (আ.) এর
ইউশা ইবনে নুন (আ.) ছিলেন সেই নবী, যার ইব্রাহিম (আ.)
বিস্তারিত
ইসলামি নিদর্শন চালু করে
কামাল আতাতুর্ক তুরস্ক থেকে ইসলামি সব নিদর্শন মুছে ফেলেছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক
বিস্তারিত
নামাজ শুরু করার পর ভেঙে
প্রশ্ন : আমার বাড়ি যশোরে, বাড়িতে সাধারণত রাতেই রওনা দিই।
বিস্তারিত
আল কোরআন ও বিজ্ঞান
সব সংস্কৃতিতে সাহিত্য ও কবিতা মানুষের ভাব প্রকাশ ও সৃজনশীলতার
বিস্তারিত
যৌতুকপ্রথার ভয়াবহতা ও প্রতিকার
আজকাল পত্রপত্রিকা বা ফেইসবুক ঘাঁটলে যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে চোখে পড়ে,
বিস্তারিত