প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোলে বাইক্কা বিলে একদিন

ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের আরেক নাম বাইক্কা বিল। বর্তমানে বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এক সময় শুধু শীতকালে এখানে অতিথি পাখি আসত; কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাইক্কা বিল পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। যার ফলে ১২ মাসই এখানে পাখি দেখা যায়। শুধু পাখি নয়, এখানে রয়েছে বড় বড় দেশি প্রজাতির মাছ, তাও সম্ভব হয়েছে এখানে মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম গড়ে তোলায়। এখানে পাখি দেখার জন্য নির্মিত হয়েছে একটি পর্যটন টাওয়ার। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র পর্যটন টাওয়ার। টাওয়ারটি তৃতীয় তলা বিশিষ্ট। প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে একটি করে শক্তিশালী বাইনোকুলার। দেয়ালে টাঙানো রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ছবি এবং সেই সঙ্গে নিচে তার আগমনকালের মাসের কথা উল্লেখ করে দেওয়া আছে। 

রড, সিমেন্ট আর ইটের তৈরি উঁচু উঁচু দালান বিশিষ্ট যানজটের শহর ছেড়ে অতিথি পাখি আর হাইল হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং সূর্যাস্তের সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বাইক্কা বিলে ছুটে গিয়েছিলাম আমরা একঝাঁক ভ্রমণপিপাসু। শহরের যানজট পেরিয়ে গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে চলতে শুরু করে আমাদের গাড়ি। যেতে যেতে অবলোকন করি গ্রামের সবুজ প্রকৃতি এবং মাঠের বুকে সোনালি ধানের ক্ষেত। যে ধান ক্ষেতের সোনালি আভায় চকচক করছিল মাঠ এবং তার চারপাশ। দেখে মনে হয়েছে এ যেন স্বর্ণক্ষেত! যেতে যেতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এক সময় আমরাও গিয়ে পৌঁছলাম পাখির কলতান আর পানিবেষ্টিত সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে। এখানে আসা ভ্রমণপিপাসুরা প্রায় সবাই চলে গেছেন। এমনিতেই ৫টার পরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। আমরা দূর থেকে এসেছি বলে কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দিতে পারেনি। আমরা ছাড়াও আরও ক’জন ভ্রমণপিপাসু ছিলেন।
একটু পরই গ্রামের মসজিদের সুদূর ওই মিনার থেকে ভেসে এলো মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ এর সুমধুর আজানের ধ্বনি। প্রধান ফটক পেরিয়ে আমরা গিয়ে পৌঁছলাম দৃষ্টিনন্দন টাওয়ারে। যেখান থেকে বাইক্কা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। আজান শেষ হতেই আমরা নামাজের প্রস্তুতি নিলাম। আমাদের মধ্য থেকে একজন নামাজ পড়ালেন। টাওয়ারের মধ্যেই নামাজ আদায় করে নিলাম। নামাজ শেষে পশ্চিমাকাশের সূর্যাস্ত আর অতিথি পাখির সুমধুর কলতান মুগ্ধ করছিল আমাদের। ইচ্ছে করছিল হারিয়ে যাই তাদের মাঝে। মিশে একাকার হই প্রকৃতির সৌন্দর্যঘেরা বাইক্কা বিলে। তবে সবচেয়ে বেশি বিমোহিত হয়েছি পশ্চিমাকাশের সূর্যাস্ত দেখে। সূর্যাস্ত যে এত সুন্দর হতে পারে, কাছ থেকে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। এ জন্যই মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘(হে রাসুল) আপনি বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, কীভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।’ (সূরা আনকাবুত : ২০)।
প্রায় ২ ঘণ্টা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে আবারও যাত্রা শুরু করলাম নিজেদের গন্তব্যে। গাড়ি তার গতিতে চলছে। ড্রাইভ করছেন আমাদের একজন সহকর্মী মুফতি ওলিউর রহমান জাকির ভাই। গাড়িটি তারই। রাতের আঁধার এবং কুয়াশায় সবকিছু ঝাপসা লাগছিল। গাড়ির লাইটের আলোটাও অস্পষ্ট। দূরের কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না। কুয়াশাচ্ছন্ন চারপাশ। এর মধ্যে দক্ষতার সঙ্গে জাকির ভাই গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পিচঢালা রাস্তায় চলে এলেন। পিচঢালা রাস্তার বুক চিরে দ্রুতগতিতে যাচ্ছে গাড়ি। সবার মাঝে নীরবতা কাজ করছে। সবাই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। সব নীরবতা ভেঙে মুঠোফোনটা হাতে নিলাম। ফোনের প্লে-লিস্ট থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সমাজের বাস্তবতার আলোকে নির্মিত কলরবের ইসলামী সংগীত ‘আফসোস’ গানটি বাজালাম। যে গানটির কথা, সুর এবং কণ্ঠ দিয়েছেন সিলেটের নন্দিত শিল্পী আহমদ আবদুল্লাহ ভাই। এক সময় গাড়ি এসে পৌঁছল মৌলভীবাজার শহরে। সবারই ক্ষিধা লেগেছে। তাই শহরের অভিজাত হোটেল মামার বাড়ি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলাম। এখানে ছোটখাটো একটা পার্টি হয়ে গেল। খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে পা বাড়ালাম।
বাইক্কা বিলের পরিচিত : অবস্থানÑ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুণা হাজীপুরের শেষ প্রান্তে হাইল হাওর অবস্থতি।
যেভাবে যাবেন : বাস বা ট্রেনে করে দেশের যে স্থান থেকেই আসেন না কেন প্রথমে আপনাকে মৌলভীবাজার অথবা শ্রীমঙ্গলে আসতে হবে। এরপর সেখান থেকে অটোরিকশায় ভৈরবগঞ্জ বাজার। ভাড়া ১৫ টাকা নেবে। তারপর বরুণা। ভাড়া ১০ টাকা নেবে। এখানে নেমে আপনাকে অটোরিকশা রিজার্ভ করে বাইক্কা বিল যেতে হবে। যদি নিজের গাড়ি থাকে তাহলে ভালো। নতুবা অটোরিকশা রিজার্ভ করেই যেতে হবে। হেঁটে যাওয়া অনেক কষ্টকর। সর্বশেষ আপনার না দেখা কাক্সিক্ষত বাইক্কা বিল হাইল হাওর। এবার মন ভরে দেখুন আর উপভোগ করুন বাইক্কা বিল হাইল হাওরের সৌন্দর্য।


মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : আল-কুরআনে শিল্পায়নের ধারণা লেখক : ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী প্রচ্ছদ :
বিস্তারিত
উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়কে আমাদের জন্য পূর্ণতা দিয়েছেন, যে বিষয়টিকে
বিস্তারিত
যেভাবে সন্তানকে নামাজি বানাবেন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর
বিস্তারিত
আবু বাকরা (রা.)
নোফায় বিন হারেস বিন কালাদা সাকাফি (রা.)। তার উপনাম আবু
বিস্তারিত
মাটি আল্লাহ প্রদত্ত মূল্যবান সম্পদ
মাটি মানবজাতির বসবাসের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মাটি বলতে ভূতল, পৃথিবীর
বিস্তারিত