হিংসা নয় ভালোবাসা অটুট থাকুক!

কাজী সুলতানুল আরেফিন

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা অপরের ভালো কিছু সহ্য করতে পারেন না। অপরের ভালো দেখলে মনে মনে খারাপ লাগে। এ খারাপ লাগাটাই হচ্ছে হিংসা। কেউ কেউ আবার তার নিজের থেকে অন্য কারও ভালো থাকা বা সুখে থাকা মেনে নিতে পারেন না। মনে মনে হিংসা করেন। কিন্তু এমন হিংসা করা মূলত এক ধরনের পাপ এবং ভয়ানক ব্যাধি। হিংসা মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। এ হিংসার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনের শক্ত অবস্থান আর ঘোষণা হচ্ছে সূরা ‘ফালাক’। ‘আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই, যখন সে হিংসা করে।’ (সূরা ফালাক : ৫)। 
হিংসুকের হাত থেকে পরিত্রাণ চাওয়া হয়েছে ওই সূরার মাধ্যমে। সন্দেহহীনভাবে বলা যায়, যে হিংসা করে, সে নিকৃষ্ট কেউ এবং আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন না। হিংসা মানুষের একটি জঘন্য দোষ। এ হিংসা মানুষের প্রতি মানুষের মায়ামমতা কমিয়ে দেয়। কারণ মানুষ যখন অপরকে হিংসা করা শুরু করে, তখন তাকে আর মন থেকে ভালো পায় না। এক সময় মনে মনে তার অমঙ্গল বা ক্ষতি কামনা করে। তাই ইসলামে হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণকারীকে খুবই নিকৃষ্ট চোখে দেখা হয়েছে। হিংসা মানুষকে শুধু নিচু করে না, বরং হিংসুকের জীবন কখনও সুখের হয় না। কেননা সে সবসময় সব ভালো কিছু শুধু নিজের করে পেতে চায়। তার সর্বদা এ চেষ্টাই থাকে যে, অন্যের কাছে যা আছে তার থেকে তার জিনিসটা ভালো হওয়া চাই। সে আরও আশা করে অন্য কেউ যেন তার থেকে ভালো না থাকে বা ভালো কিছুর অধিকারী হতে না পারে। সে যখন বুঝতে পারে অপর কেউ তার থেকে ভালো কিছু পেয়ে গেছে, তখন সে ভেতরে ভেতরে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। 
অসংখ্য হাদিসে এ ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করা হয়েছে। যেমনÑ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা পরস্পরের প্রতি হাসাদ করো না, একে অন্যের পেছনে পড়ো না। আর তোমরা পরস্পর ভাই হিসেবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও।’ 
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা হিংসা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে সেভাবে খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।’
উপরের হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, হিংসুকের কোনো নেক আমল থাকলে তা শুধু হিংসা করার কারণে নষ্ট হয়ে যাবে। 
হিংসা নিজের ঘর বা সমাজে অশান্তি বয়ে আনে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ হিংসুক মানুষ এক সময় সে তার চেয়ে বেশি সম্মানিত আর আর ভালো অবস্থানে থাকা সমাজের অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে হেয় করার চেষ্টা করতে থাকে। কেননা তার দৃষ্টিতে সে একাই সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি, বাকিরা সবাই তার চেয়ে নগণ্য। 
মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করে বলেছেন, ‘আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সেজন্য কি তারা তাদের ঈর্ষা করে?’ (সূরা নিসা : ৫৪)। হিংসুকের হিংসা যখন এক সময় প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন আর কেউ তাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে না, সবার মাঝে তার প্রতি একটা খারাপ ধারণা জন্ম নেয়। সমাজে অন্য সবার সঙ্গে বসবাস করলেও মানুষের মনে তার জন্য কোনো স্থান থাকে না। কোরআন ও হাদিসেও হিংসা এবং হিংসুককে কঠিনভাবে নিন্দা করা হয়েছে। 
হজরত লোকমান (আ.) তার পুত্রকে বলেন, ‘হিংসুকের তিনটি চিহ্ন রয়েছে, পিঠ-পিছনে গিবত করে, সামনাসামনি তোষামোদ করে এবং অন্যের বিপদে আনন্দিত হয়।’ (আল খিসাল, পৃষ্ঠা : ১২১, হাদিস নং : ১১৩)।
হিংসা আমাদের ঈমান ধ্বংস করে। আর ঈমান চলে যাওয়া মানে কাফের হয়ে যাওয়া। এটি আঁতকে ওঠার মতো একটি বিষয়। আর কাফেরের পরিণতি কখনোই ভালো হতে পারে না। 
হিংসা সমাজে অশান্তি বয়ে আনে। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। নেক আমল আর ঈমান ধ্বংস করে কুফরের দিকে নিয়ে যায়। হিংসা কারও মনেই কাম্য নয়। আসুন সবাই এ জঘন্য হিংসা করা থেকে বিরত থেকে ভালোবাসা অটুট রাখি। 


তাওয়াফের কিছু ভুলত্রুটি
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি কাবা ঘরে ঢুকে সালাত আদায় করতে
বিস্তারিত
ইসলামে নৈতিকতার চর্চা
ইসলাম মহান আল্লাহপাকের দেওয়া এক পূর্ণাঙ্গ পরিপূর্ণ ও প্রগতিশীল জীবন
বিস্তারিত
ভিন্নমত পোষণকারীদের প্রতি আচরণবিষয়ক সেমিনার
গেল ১২ জুলাই সন্ধ্যায় ফিকহ একাডেমি বাংলাদেশ কর্তৃক ফিকহবিষয়ক চতুর্থ
বিস্তারিত
বিদায় হজের ভাষণে জানমালের নিরাপত্তার
মহানবী (সা.) তাঁর বিদায় হজে আরাফার দিন উরনা উপত্যকায় নিজ
বিস্তারিত
মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিমের সমর্পিত
হজের মৌসুম এলে হৃদয়পটে যার স্মৃতি ঝলমল করে তিনি ইবরাহিম
বিস্তারিত
তামাত্তু হজের সহজ নিয়ম
পবিত্র হজ ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত
বিস্তারিত