যখন আঁধার নামে হৃদয়জুড়ে

মানব হৃদয় একটি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ক্যানভাসের মতো। মানুষ তার দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে তার হৃদয় ক্যানভাসকে রাঙিয়ে তোলে। প্রতিনিয়ত তাতে এঁকে যায় জীবনরেখা। কর্মগুণে কখনও তা হয়ে ওঠে আলোর ফোয়ারা। ফলে সে লাভ করে সৎকাজের অফুরান অনুপ্রেরণা। আবার কখনও হৃদয় পরিণত হয় কৃষ্ণ গহ্বরে। ফলে সে হয়ে ওঠে অন্ধ, হিংস্র ও পাশব। তখন দিশেহারা হয় মন, অদ্ভুত অস্থিরতায় বিপন্ন হয় জীবন ও জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি।
মানব হৃদয়ে আলোর উদ্ভাস ও আঁধারের সৃষ্টি এবং জীবনময় তার প্রভাব সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘নিশ্চয় পুণ্য মানুষের চেহারায় দীপ্তি, অন্তরে আলো, রিজিকে প্রশস্ততা, শরীরে শক্তি এবং সৃষ্টির অন্তরে তার জন্য তৈরি করে ভালোবাসা। আর পাপ মানুষের চেহারা দ্যুতিহীন, অন্তর ও কবরকে আলোহীন, শরীরকে শক্তিহীন, রিজিককে সংকুচিত করে এবং সৃষ্টির অন্তরে তৈরি করে তার জন্য ঘৃণা।’ 
(আবু মুহাম্মদ খামিসুস-সাঈদ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, মাওয়াকিফুন হালাফা ফিহান-নবী সা., খ--১, পৃষ্ঠা-১০৬)
কিন্তু মানব হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? আল্লাহসাধকরা দুটি পথ বলেছেন। আল্লাহপ্রেমে যারা অনেক আশাবাদী তারা বলেছেন, আলো জ্বেলে দাও আঁধার পালিয়ে যাবে। আল্লাহও বলেছেনÑ ‘নিশ্চয় পুণ্য পাপ দূর করে।’ (সুরা হুদ : ১১৪)।
কিন্তু কলঙ্ক মোচনের চেয়ে তা লেপন না করাই তো ভালো। প্রেমের প্রশ্নে যারা ছাড় দিতে নারাজ, তারা বলেন, অন্তরকে কলুষিত হতে দিও না। ভরসা কোথায় তুমি তা মোচনের সময় পাবে! হয়তো তোমার অগোচরেই হৃদয় ডুববে পাপের আঁধারে, হয়তো তুমি ঠেকাতে পারবে না পাপের স্রোত, হয়তো নিজেকে বাঁচাতে পারবে না পাপের মোহ থেকে। হজরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভিও (রহ.) এমনটিই বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে আঁধারে ডুবে যায় পৃথিবী। ঠিক বোঝা যায় না, কখন কতটুকু আলো হারালো সে, কতটুকু ডুবলো আঁধারে। এমনি করেই পাপের আঁধারে ডুবে যায় মানব হৃদয়। সে বুঝতে পারে না কতটা আঁধারে আছে সে আর কতটা আঁধার অপেক্ষা করছে তার জন্য।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ)।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.) যেন হাদিসের বাণীই প্রতিধ্বনিত করেন। এরশাদ হয়েছে, ‘মোমিন কোনো পাপ করলে তার অন্তরে কালো দাগ পড়ে। যদি সে ফিরে আসে, পাপ পরিহার করে এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করে তবে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। আর যদি সে তা বাড়িয়ে দেয়, তবে দাগ বাড়তে থাকে। এক সময় তা পুরো অন্তর ছেয়ে যায়।’ এটাই সে মরিচা যার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘বরং তাদের অন্তরে মরিচা পড়েছে তাদের কৃতকর্মের জন্য।’ (মুসনাদে আহমদ : ৭৯৫২; সূরা মুতাফফিফিন : ১৪)।
মরিচাধরা হৃদয় তাকে পরিণত করে হিংস্র ও অন্ধ পশুতে; বরং সে হয়ে যায় পশুর অধম। ফলে সে দেখতে পায় না আলোর ইশারা, শুনতে পায় না সত্যের আহ্বান, উপলব্ধি শক্তি হারিয়ে সে পরিণত হয় পাথরে। আল্লাহর ভাষায়Ñ ‘আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি বহু জিন ও মানুষকে। তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তারা দেখে না, তাদের কান রয়েছে কিন্তু তারা শোনে না। তারা হলো, চতুষ্পদ জন্তুর মতো বরং তারও অধম। আর তারাই হলো উদাসীন।’ (সূরা আরাফ : ১৭৯)।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে যায়। যেন তা পাথর বা তদপেক্ষা কঠিন।’ (সূরা বাকারা : ৭৪)।
আল্লাহসাধকদের কাছে পাপের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো পাপের বসে অন্তর পাথর হয়ে যাওয়া। কেননা বেবোধ মানুষগুলো ক্রমেই নিজের জন্য হয়ে ওঠে উদাসীন, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি অবিবেচক আর মানবতার জন্য চরম হুমকি।
এ ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচার উপায় কী? পাপের চোরাবালি থেকে আত্মরক্ষার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো পাপ পরিহার করা। অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমনটিই বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ নামের জিকির এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা। কেননা হাদিসের ভাষ্য মতে, জিকির মানব হৃদয়কে সজীব ও পরিচ্ছন্ন করে। এরশাদ হয়, ‘নিশ্চয় আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সূরা রা’দ : ২৯)।
হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় প্রতিটি বস্তুর জন্য একটি পরিষ্কারকারী রয়েছে। আর অন্তর পরিষ্কার হয় আল্লাহর জিকিরে।’ (ফায়জুল কাদির : ৪৭৪২)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অন্তর পাপমুক্ত করুন এবং তার আলোয় আলোকিত করুন। আমিন।


নারীদের নাক ও কান ফোঁড়ানো
নারীদের নাক ও কান ফোঁড়ানো নিয়ে ধর্মীয় দিক থেকে বিভিন্ন
বিস্তারিত
পশুপাখির প্রতি নবীজির ভালোবাসা
নবীজি পশুপাখির প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। সাহাবিদের শিখিয়েছেন
বিস্তারিত
হজে মাথা মুন্ডানোর ফজিলত
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)
বিস্তারিত
জমজমের পানিতে অলৌকিক নিদর্শন
জমজম কূপের পানি আল্লাহর কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। প্রতি বছর
বিস্তারিত
খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক : একটি
‘সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি’Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে একঝাঁক মানবতাপ্রেমী
বিস্তারিত
ইন্দোনেশিয়ায় হাফেজদের বিনা পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মানেই পরীক্ষা নামক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হওয়া। তারপরও
বিস্তারিত