দাওয়াত প্রচারে মিডিয়ার ব্যবহার

মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতি সৃষ্টি করে তাদের হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। নবী-রাসুলরা পৃথিবীতে এসে নিজ যুগের প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দাওয়াত প্রচার করেছেন। আল্লাহর দেওয়া বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
মুসা (আ.) এর সময় জাদুর প্রভাব ছিল বেশি। মুসা (আ.) যুগের প্রেক্ষাপট বুঝে আল্লাহর প্রদত্ত যাদুর বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে দ্বীনের দাওয়াত প্রচার করেছেন। যুগের প্রেক্ষাপট বুঝে দাওয়াত প্রদানের কারণে অসংখ্য জাদুকর আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।
ঈসা (আ.) এর সময়ে চিকিৎসাবিদ্যার প্রচলন ছিল বেশি। তিনি তাই আল্লাহ প্রদত্ত চিকিৎসাবিদ্যার ব্যবহারের মাধ্যমে দাওয়াত দিয়েছেন। মৃতকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করে দেখানোর মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ করেছেন।
সর্বশেষ মুহাম্মাদ (সা.) কে আল্লাহ সারা জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ এ দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। তিনি এ ধরণিতে এসে মুশরিক, ইহুদিসহ সবাইকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। দাওয়াত দানে তিনি তৎকালীন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। সাফা পাহাড়ে উঠে এবং ওকায মেলায় গিয়ে তিনি মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। সে যুগে সাহিত্যের প্রভাব ছিল বেশি। তিনি উচ্চাঙ্গের আরবি সাহিত্যের ব্যবহার করেও মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন।
নবী (সা.) এর জীবদ্দশাতেই দাওয়াতের জিম্মাদারি তার উম্মতের ওপর অর্পিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে তাদের ওপর দাওয়াতের কাজ অর্পণের কারণেই। কেয়ামত পর্যন্ত তাই এই উম্মতের ওপর দাওয়াতি কাজ করা ফরজ। এই উম্মতকে তাই সব রকমের উপায়ে দাওয়াতি কাজ কেয়ামত পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।
বিজ্ঞানের উন্নতির এই যুগে দাওয়াত প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে, অল্প কষ্টে অসংখ্য মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত প্রচার করা যায়। তবে আধুনিক মাধ্যমগুলোতে ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদার মানুষ কম আসায় এ ক্ষেত্রে সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন ভ্রান্ত দল ও গোষ্ঠী। তাদের থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে আধুনিক মাধ্যমগুলোতে সঠিক আকিদার ইসলামকে মানুষের চরিত্র গঠনের নিয়তে ব্যবহার করতে হবে। নিচে কিছু আধুনিক প্রযুক্তির উল্লেখ করা হচ্ছে।
ফেইসবুক : ফেইসবুক বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও একটি জনপ্রিয় সাইট। বর্তমানে প্রায় সব বয়সের মানুষ এ দেশে ফেইসবুক ব্যবহার করে থাকেন। ফেইসবুক এখন ইসলামি দায়িদের দাওয়াত প্রদানের জন্য একটি সহজ পথ উন্মোচন করে দিয়েছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ফেইসবুকের মাধ্যমে দাওয়াতের কাজ করা যায়। ইসলামিক লেখা পোস্ট করে, পেজ খুলে এবং গ্রুপ খুলে সে গ্রুপে ইসলামি লেখা পোস্ট করার মাধ্যমে অনেক মানুষের মধ্যে দাওয়াত প্রচার করা যায়।
টুইটার : ইউরোপের মানুষসহ বহির্বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ টুইটার ব্যবহার করে থাকে। ইংরেজিতে ইসলামি ছোট ছোট লেখা এখানে পোস্ট করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের দাওয়াত সহজেই প্রচার করা সম্ভব।
ই-মেইল : ই-মেইলের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কাছে ইসলামের বাণী মুহূর্তেই পৌঁছানো যায়। যত বড় লেখাই হোক না কেন তা লিখে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া যায়।
ইউটিউব : সারা বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত একটি সাইট হচ্ছে ইউটিউব। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যে দেশে ইউটিউবের ব্যবহার নেই। তাই ইউটিউবে বিভিন্ন ওয়াজ, তাফসিরুল কোরআন ও হাদিসের আলোচনা আপলোড করা। বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েলের প্রশ্ন-উত্তরের ভিডিও আপলোড করা। ইসলামি হামদ ও নাত এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভিডিও আপলোড করে সারা বিশ্বে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা।
বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় ইসলামি ভিডিও আপলোড করা হলে বিশ্বে সহজেই ইসলামের সৌন্দর্যকে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
ওয়েবসাইট : বিভিন্ন ওয়েবসাইট খুলে তাতে ইসলামিক বয়ান, ঐতিহাসিক নিদর্শন, ইসলামিক ফটোগ্রাফি, নবীদের জীবনী, সাহাবাদের জীবনী, বুজুর্গদের ত্যাগ ইত্যাদি তুলে ধরার মাধ্যমে ইসলামি দাওয়াতের কাজ করা যায়।
ব্লগ : বর্তমানে অনলাইনে অসংখ্য ব্লগ রয়েছে। এসব ব্লগে ইসলামের লেখা লিখে দাওয়াতি কাজ করতে হবে। বেশি বেশি ইসলামি লেখা পোস্ট করে ব্লগগুলোকে কলুষমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব ইসলামি ব্লগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও আমাদের করতে হবে।
ওয়েব পোর্টাল : বর্তমানে অনলাইনে ওয়েব পোর্টালের ছড়াছড়ি। এসব পোর্টালে অপ্রয়োজনীয় নিউজ বেশি প্রচার করা হয়। তাই এসব পোর্টালে ইসলামি লেখা বেশি বেশি লিখতে হবে। ইসলামি সংবাদ বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। যেন এসব পোর্টালের পাঠকরা এ থেকে ইসলামি খোরাক পায়। ইসলাম ও মুসলমানের বর্তমান অবস্থা জানতে পারে।  
ইলেকট্রনিক মিডিয়া : টিভি, রেডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কোরআন প্রতিযোগিতা, ইসলামি সাধারণ জ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্বসহ নানা ইসলামি প্রোগ্রামের আয়োজন করা। তাহলে এসব মিডিয়ার দর্শক বা শ্রোতার কাছে সহজেই ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো যাবে।
এখানে উল্লেখ্য, এ লেখার মাধ্যমে কাউকে টিভি বা রেডিও কেনার প্রতি আগ্রহী করা হচ্ছে না। বরং যারা টিভি দেখেই থাকেন, রেডিও শুনেই থাকেন তারা যেন ইসলামের প্রোগ্রাম দেখতে ও শুনতে পান। তাদের জন্যই এ উদ্যোগ।
প্রিন্ট মিডিয়া : প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামি আর্টিকেল লেখা। ইসলামি কুইজের আয়োজন করা। এখানে লেখালেখি করা হলে এর পাঠকরা সহজেই ইসলামের দাওয়াত পেয়ে যাবেন।
মোবাইল ফোন : মোবাইল ফোনের মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে ওয়াজ, হামদ-নাত, কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ইসলামি আলোচনা লোড করা। বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে কোরআন শরিফ ডাউনলোড করা, হাদিসের বই ও বিভিন্ন ইসলামি বই ডাউনলোড করা এবং এসব মানুষের মোবাইলে শেয়ার করার মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া।
অনলাইনে ফ্রি বই প্রকাশ করা : অনলাইনে ফ্রি বই প্রকাশ করার সুযোগ দিয়ে থাকে অনেক প্রকাশনী। তাদের সহযোগিতা নিয়ে নিজের লেখা ইসলামি বইগুলো ফ্রি প্রকাশ করে মানুষকে ইসলাম জানার সুযোগ করে দেওয়া।
স্ক্যানিং কপি আপলোড করা : নিজস্ব ইসলামি বই বা পত্রিকা স্ক্যানিং করে অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া। যেন মানুষ হাতের নাগালেই ইসলামি বই ও পত্রিকা পেয়ে যায়। তবে অন্যের বই বা পত্রিকা অনুমতি ছাড়া স্ক্যানিং না করা।
বিজ্ঞাপন : বর্তমানে সব কিছুর বিজ্ঞাপনেই নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো বিজ্ঞাপনে অশ্লীল ছবিও ব্যবহার করা হয়। কীভাবে বিজ্ঞাপনে ইসলামি বা শরিয়তসম্মত ছবি ব্যবহার করা যায় সে চিন্তা-ভাবনা করা। এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইসলামি দাওয়াত প্রচার করার ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়াও লিংকডিন, ভিকে, বেশতোসহ নানা মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে ইসলামি দাওয়াত দ্রুত প্রচার করা এখন অতি সহজ কাজ।

লেখক : মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সদস্য, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত