আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটা?

বিবিসি বাংলা

ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরান জড়িত থাকার প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে সংকট জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই তথ্য প্রমাণ করে, বৃহস্পতিবারের হামলায় জড়িত ছিল ইরান। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এতেই বেশ পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেমন হতে যাচ্ছে পরবর্তী পরিস্থিতি? যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? কিংবা কতটা মারাত্মক হতে পারে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের পূর্ণ-মাত্রার বিমান ও নৌ সংঘর্ষ? এ বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জনাথন মার্কাস।
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার হামলার শিকার তেল ট্যাংকার দুটির একটি থেকে অবিস্ফোরিত একটি লিমপেট মাইন সরিয়ে নিচ্ছে ইরানি একটি ছোট তরীর ক্রুরা। যাকে এ যুদ্ধে প্রকৃত ঘটনা প্রতিষ্ঠার প্রথম শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান এবং ট্রাম্প প্রশাসনÑ উভয় পক্ষের সমালোচনাই বিষাক্ত।
মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে জাহাজে চারটি লিমপেট মাইন হামলার মতোই শুরু থেকেই এ ঘটনার সঙ্গেও সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তবে দুটি ঘটনার জন্যই তেহরানকে দোষারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, এই বাকযুদ্ধ শেষমেষ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দ্রুত ও স্পষ্টভাবেই ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মূল্যায়ন’ গোয়েন্দা তথ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র, অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে ইরানের হামলা এবং যেহেতু ওই এলাকায় থাকা কোনো প্রক্সি গ্রুপের এ ধরনের সূক্ষ্ম অভিযান পরিচালনার মতো সক্ষমতা না থাকার ভিত্তিতে করা হয়েছে।
এ অভিযোগ দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান। উল্টো এ ঘটনা সাজানো উল্লেখ করে পাল্টা দোষারোপ করেছে দেশটি। ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ’ ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক খারাপ করতে চাইছে।
অস্বাভাবিক কালক্রম?
সাধারণভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর ভিডিওটি বিশ্বাসযোগ্যই বটে। কিন্তু এর পরও আসলে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। মার্কিনিদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিস্ফোরণের কিছু সময় পর এটি রেকর্ড করা হয়েছিল, যখন কিনা ইরানিরা প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করছিল। তবে এ হামলার কালক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হওয়া দরকার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কখন এই মাইনগুলো জাহাজে স্থাপন করা হয়েছিল? 
ওই এলাকায় শক্তিশালী মার্কিন নৌ উপস্থিতি থাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বেশ সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাই আরও তথ্য সামনে আসা উচিত। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর ময়নাতদন্তও আরও তথ্য উদঘাটন করবে। যাই হোক, মার্কিন এই দাবির প্রভাব আরও অনেক সুদূরপ্রসারী। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ইরান ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এসব স্থূল অভিযোগের পর প্রশ্ন আসে, এগুলো ঠেকাতে কি ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের?
সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা হতে পারে এক ধরনের উদ্যোগ, যাতে আন্তর্জাতিক মিলিত নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে আরও কোণঠাসা করা যায়। তবে এ বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই যে, ভুল কিংবা সঠিক, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা তেহরানের উপর চাপ প্রয়োগ করে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পসের মতো স্বাধীন নৌ-শক্তি পরিচালনাকারী গ্রুপগুলো হয়তো পাল্টা আঘাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাহলে এখন কি হবে? যুক্তরাষ্ট্র কি শাস্তিস্বরূপ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে?
ভয়ঙ্কর সময় বাস্তবিকপক্ষেই বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে যে, হামলার শিকার হলে ইরান সরাসরি বা তার মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় হাইব্রিড যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। জাহাজ পরিচালনা ও অন্যান্য টার্গেটে ব্যাপকহারে হামলা শুরু করতে পারে, বাড়তে পারে তেল ও বীমার দাম, যা আসলে আরও শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে।
তবে কোনো পক্ষই এ ধরনের বিপজ্জনক সংঘাতের শঙ্কার বিষয়ে আগ্রহী হবে না। অবশ্য কেউ ভাবে না যে, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র, দুপক্ষই পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু করতে চায়।
আমেরিকানদের জন্য, পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও নৌ হামলা সব ধরনের বিপদ ডেকে আনবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, অনেক সময় অনেক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিলেও বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ধৈর্যশীল ছিলেন। তার শাসনামলে সিরিয়ায় বিমান হামলা ছিল মূলত প্রতীকী।
তেহরান ও ওয়াশিংটন দুপক্ষই সংকট সমাধানের ইঙ্গিত দিলেও কেউই তা সঠিকভাবে গ্রহণ করছে না।
উদাহরণস্বরূপ, উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন অবকাঠামোকে হুমকি হিসেবে দেখতে পারে ইরান। আর নিজেদের দোরগোড়ায় এ ধরনের হুমকি কখনোই সহ্য করবে না তারা। ধরা যাক, এই বার্তাকে ভুলভাবে নিতে পারে ইরানের রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস। তারা ভাবতে পারে, উপসাগরের জলসীমায় মার্কিনিদের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রয়েছে তাদের, যা মানে না আমেরিকানরা।
অন্য কথায় বলতে গেলে, তারা ভাবতে পারে, তাদের ‘জোর করে খামে ঢুকানোর’ চেষ্টা চলছে। যার জন্য ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের শাস্তি পেতেই হবে। এটা উদ্দেশ্যমূলক ও উদ্দেশ্যহীন যেকোনো ধরনের সংঘাত উসকে দেওয়ার রেসিপি। এগুলো খুবই খারাপ সময়। জার্মানি আর ফ্রান্সের মতো ওয়াশিংটনের মিত্ররা এরই মধ্যে সাবধানতার আহ্বান জানিয়েছে।


প্রথমে গুণ্ডামি করে মসজিদটা ভাঙা
এ রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হলো, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি
বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাবরি মসজিদের রায়
বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ভারতে হিন্দু-মুসলমান সংঘাত আরও
বিস্তারিত
অবসরে যাওয়ার আগে আরেকটি অন্যায্য
বাবরি মসজিদের নিচে থাকা স্থাপনাটি ঠিক কী ছিল। তা সুনির্দিষ্ট
বিস্তারিত
৫০০ বছরের ইতিহাসে ঐতিহাসিক বাবরি
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে শহীদ হওয়া ভারতের উত্তর প্রদেশের বাবরি মসজিদের
বিস্তারিত
ট্রাম্পের অভিশংসন
৭ নভেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আরবি-ইংরেজি সংবাদমাধ্যম নিউ অ্যারাবে
বিস্তারিত
ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দ শোভাযাত্রা রাজধানীতে
ইবাদত-বন্দেগি, মিলাদ, জসনে জুলুস, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির
বিস্তারিত