বৃষ্টির দিনের ইবাদত বৃক্ষরোপণ!

 

আবারও এলো আষাঢ় মাস। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বৃষ্টির মাস। এ দুই মাসই সাধারণত অবিরাম বৃষ্টি ঝরে। বৃষ্টিপাতই গাছ লাগানোর উৎকৃষ্ট সময়। প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় গাছ রোপণ করলে গাছ টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে মনে রাখতে হবে, গাছ শুধু রোপণ করলেই হবে না, সঠিক যতœ করতে হবে। পর্যাপ্ত গাছ থাকলে একটি দেশের পরিবেশ ও অক্সিজেন খুব বিশুদ্ধ থাকে, তেমনি দেশ অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায়। মাটি ক্ষয় ও ভাঙন রোধ করে এ বৃক্ষ। তাছাড়া এ গাছ লাগানোর মাধ্যমে নেকি আর সওয়াব কামানো যায়। এটি এক ধরনের ইবাদতের মধ্যে পড়ে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা খাদ্যশস্যের বীজ বপন করে অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি অথবা পশু কিছু অংশ খায়; তবে তার জন্য এ কাজ (বীজ বপন) সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
বিশ্ব আজ বিরূপ আবহাওয়ার মুখোমুখি। আর এ বিষয় নিয়ে বইছে আলোচনার ঝড়। ধনী আর গরিব সব রাষ্ট্রই এ বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চলছে আলোচনা-পরিকল্পনাসহ জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ। পরিবেশ অনুকূলে রাখা আজ চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গাছ লাগানোর বিকল্প কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ আর হতে পারে না। আমাদের সবাইকে অন্তত একটি করে হলেও গাছ লাগানো দরকার। ইসলামের মতে, এটি পুণ্যের কাজও বটে। 
এ সম্পর্কে কোরআন মজিদে উল্লেখিত আছেÑ ‘তিনি আমাদের জন্য বৃষ্টির দ্বারা জন্মান শস্য, জয়তুন খেজুর বৃক্ষ এবং সর্বপ্রকার ফল। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা নাহল : ১১)।
গাছ লাগানোর পাশাপাশি আমাদের গাছ কাটার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। মূলত গাছই এ পরিবেশের প্রাণ। এসব গাছগাছালি আর লতাপাতা আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। এ বিষয়ে কোরআনে বলা আছেÑ ‘আমি জলাধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি। যাতে তা দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ ও পাতাঘন উদ্যানরাজি।’ (সূরা নাবা : ১৪-১৬)।
কাঠের গাছের পাশাপাশি ফলদ গাছ রোপণ করা উচিত। কারণ বাজারের কেনা ফলে কেমিক্যালের ভয় থাকে। তাই নিজের লাগানো গাছ থেকে যেভাবে তৃপ্তি নিয়ে ফল খাওয়া যায়, তেমনি নিরাপদও থাকা যায়। শহরে বড় বড় অট্টালিকার আশপাশজুড়ে কয়েকটি গাছের জন্য জায়গা রেখে নকশা করা উচিত। সেখানে গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যাও করা উচিত। এতে যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা হলেও প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়া যাবে। সবাই মিলে এ বসতিকে সবুজে সবুজে শ্যামলা করে নিই, কারণ সবুজই নিরাপদ রং। এ পৃথিবীর বুকে নিজেদের দেশকে এক টুকরো সবুজের বাগান করে তুলি।
আরও এরশাদ করেনÑ ‘তার নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখবে অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন শস্যশ্যামলও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি একে জীবিত করেন, তিনি জীবিত করবেন মৃতদেরও। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।’ (সূরা : হামিম-সিজদা : ৩৯)।
মহানবী (সা.) বৃক্ষরোপণের জন্য সাহাবিদের উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও বাগানে কাজ করেছেন। তিনি বৃক্ষরোপণ ও ফসল বপনকে সদকায়ে জারিয়ার কাজ বলেছেন। হাদিসটি আবারও আলোচনা করা যাক, ‘কোনো মুসলমান বৃক্ষরোপণ অথবা শস্য বপন করলে যদি তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি অথবা পশু কিছু আহার করে; তবে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
তাছাড়াও এ বসতি আমাদের সবার; তাই এ বসতিকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার সমান। গাছই হোক পরিবেশ পরিবর্তনের জাদুকরী ছোঁয়া। তাই আসুন বেশি বেশি গাছ লাগাই।


অর্থসম্পদের ভালো-মন্দ
সম্পদে বিপদ ও পরীক্ষাও আছে, কোরআন যা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে
বিস্তারিত
প্রকাশিত হলো বাংলাদেশি লেখকের আরবি উপন্যাস
প্রকাশিত হলো বাংলাদেশি লেখকের আরবি ভাষায় লেখা উপন্যাস ‘আল ইসার’।
বিস্তারিত
একাত্মবাদ ইসলামের প্রাণ
ইসলাম আগমনের আগে কাবায় অসংখ্য দৈত্য, জিন ও অন্যান্য দেবদেবীর
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি।
বিস্তারিত
মক্কা-মদিনায় যুক্ত হলেন কয়েকজন নতুন
গেল শনিবার (১২ অক্টোবর) পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাবান দুই মসজিদ তথা
বিস্তারিত
আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো
আজ সমাজে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে কোটিপতি সর্বশ্রেণি হতাশার কালো
বিস্তারিত