ইসলামে জীবজন্তুর অধিকার


‘পথে চলতে চলতে একজন লোকের ভীষণ পিপাসা লাগল, সে কূপে নেমে পানি পান করল। কূপ থেকে বের হয়ে সে দেখতে পেল একটি কুকুর ভীষণ হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে (ভেজা) মাটি চাটছে। সে ভাবল, আমার মতো কুকুরটারও পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং তার মোজা ভরে পানি তুলল। মোজাটিকে মুখ দিয়ে ধরে ওপরে উঠে এলো। (যেহেতু দুই হাত দিয়ে কূপের পাড় ধরে উঠতে হচ্ছিল)। এই পানি কুকুরটাকে পান করাল। আল্লাহ তায়ালা তার আমল কবুল করলেন এবং তার পাপ মাফ করে দিলেন।’ 
 

ইসলাম জীবজন্তু ও প্রাণিকুলের প্রতি বাস্তবিক ও সামগ্রিক দৃষ্টি দিয়েছে। মানবজীবনে প্রাণিকুলের গুরুত্ব, মানুষের জন্য তাদের উপকার, জগৎ নির্মাণ ও জীবনের ধারাবাহিকতায় মানুষের সঙ্গে তাদের সহযোগিতার ওপর এ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি স্থাপিত রয়েছে। ইসলামের এ দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে সবচেয়ে বড় দলিল এই যে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের অনেক সূরার নামকরণ করেছেন জীবজন্তুর নামে। যেমনÑ সূরা বাকারা, সূরা আনআম, সূরা নাহল ইত্যাদি। 
জীবজন্তুর প্রতি যতœশীল হওয়া ও সমাজে তাদের ভূমিকা এবং মানুষের পাশাপাশি তাদের অবস্থান কী, সে ব্যাপারে কোরআন মজিদে স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ ‘আল্লাহ চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে শীত নিবারক উপাদান এবং বহু উপকার এবং তা থেকে তোমরা আহার করে থাকো। তোমরা যখন গোধূলিলগ্নে সেগুলোকে চারণভূমি থেকে নিয়ে আসো এবং সকালে যখন সেগুলোকে চারণভূমিতে নিয়ে যাও তখন তোমরা সেগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করো। তারা তোমাদের বোঝা বহন করে নিয়ে যায় এমন দেশে যেখানে প্রাণান্ত ক্লেশ ব্যতীত তোমরা পৌঁছতে পারতে না। তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।’ (সূরা নাহল : ৫-৭)।
ইসলামি শরিয়ত প্রাণিকুলের জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ অধিকারটির শেকড় বদ্ধমূল করে দিয়েছে, তা হলো তাদের কষ্ট ও যন্ত্রণা না দেওয়া। জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সামনে দিয়ে একটি গাধা চলে গেল। গাধাটির মুখে (পুড়িয়ে) দাগ দেওয়া ছিল। তিনি বললেন, ‘যে লোক গাধাটির মুখে দাগ দিয়েছে তাকে আল্লাহ অভিশম্পাত করুন।’ (মুসলিম : ২১১৭)। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে লোক পশুর অঙ্গহানি ঘটায় রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে অভিশম্পাত করেছেন।’ (বোখারি : ৫১৯৬)।
হাদিসের মর্ম এই যে, জীবজন্তু ও পশুপাখিকে কষ্ট ও শাস্তি দেওয়া এবং তাদের প্রতি দয়া-মততা না দেখানো ইসলামি শরিয়ার দৃষ্টিতে অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
একইভাবে ইসলাম প্রাণিকুলের আরেকটি মৌলিক অধিকার বিধিবদ্ধ করেছে; অর্থাৎ প্রাণীদের আটকে রাখা ও তাদের ক্ষুধায়-পিপাসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, এ অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। এ কারণে মহিলা জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে দানাপানি কিছুই দেয়নি, এমনকি ছেড়েও দেয়নি যে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।’ (বোখারি : ২২৪২)।
সাহল বিন হানযালিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি উটের পাশ দিয়ে গেলেন। ক্ষুধায় ও পিপাসায় উটটির পেট পিঠের সঙ্গে মিশে গেছে। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা এসব বাকহীন জীবজন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। পরিশ্রান্ত না করে তাদের পিঠে আরোহণ করো এবং সুস্থ রেখে তাদের গোশত আহার করো।’ (সুনানে আবু দাউদ : ২৫৪৮; মুসনাদে আহমদ : ১৭৬৬২)।
একইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক প্রাণীকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তাকে ওই কাজে ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। চতুষ্পদ জন্তুকে কাজে লাগানোর প্রধান উদ্দেশ্য কী, তা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেনÑ ‘তোমরা তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের পৃষ্ঠদেশকে মিম্বরে পরিণত করা থেকে দূরে থাকো। আল্লাহ তায়ালা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন এ কারণে যে, তারা তোমাদের এমন জায়গায় পৌঁছে দেবে, যেখানে তোমরা প্রাণান্তকর ক্লেশ ব্যতীত পৌঁছতে পারতে না।’ (সুনানে আবু দাউদ : ২৫৬৭; বায়হাকি, আস-সুনানুল কুবরা : ১০১১৫)। অর্থাৎ ‘তোমরা তোমাদের বহনকারী জীবজন্তুকে দাঁড় করিয়ে তাদের পিঠের ওপর বসে থেকে কেনাবেচা ও আলাপ-আলোচনা করো না। বরং তাদের পিঠ থেকে নামো, তোমাদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করো, তারপর আরোহণ করো।’ জীবজন্তুর পৃষ্ঠদেশকে বিনা প্রয়োজনে আসন হিসেবে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে।
ইসলামি শরিয়া জীবজন্তু ও প্রাণিকুলের যেসব অধিকারের শেকড় প্রোথিত করে দিয়েছে তার মধ্যে আরেকটি এই যে, ইসলামি শরিয়া কোনো প্রাণীকে তির নিক্ষেপের লক্ষ্যস্থল (চাঁদমারি) বানাতে নিষেধ করেছে। একবার আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুজন তরুণকে দেখতে পেলেন তারা একটি পাখিকে বেঁধে রেখে তার ওপর তির নিক্ষেপ করছে। তিনি তরুণ দুটির উদ্দেশে বললেন, যারা এমন কাজ করে আল্লাহ তাদের অভিশম্পাত করুন। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ ‘যে লোক প্রাণবিশিষ্ট কোনোকিছুকে (তির ছোড়ার) লক্ষ্যবস্তু বানায় তাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিশম্পাত করেছেন।’ (বোখারি : ৫১৯৬; মুসলিম : ১৯৫৮)।
ইসলামি শরিয়া প্রাণিকুলের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। তা হলো তাদের প্রতি দয়া ও মমতা দেখানোর আবশ্যকতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নিম্নবর্ণিত বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছেÑ ‘পথে চলতে চলতে একজন লোকের ভীষণ পিপাসা লাগল, সে কূপে নেমে পানি পান করল। কূপ থেকে বের হয়ে সে দেখতে পেল একটি কুকুর ভীষণ হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে (ভেজা) মাটি চাটছে। সে ভাবল, আমার মতো কুকুরটারও পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং তার মোজা ভরে পানি তুলল। মোজাটিকে মুখ দিয়ে ধরে ওপরে উঠে এলো। (যেহেতু দুই হাত দিয়ে কূপের পাড় ধরে উঠতে হচ্ছিল)। এই পানি কুকুরটাকে পান করাল। আল্লাহ তায়ালা তার আমল কবুল করলেন এবং তার পাপ মাফ করে দিলেন।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘যে কোনো প্রাণীর উপকার করাতে সওয়াব রয়েছে।’ (বোখারি : ৫৬৬৩; মুসলিম : ২২৪৪)।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একটি সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজনে (ইস্তিঞ্জার জন্য) দূরে সরে গেলেন। আমরা একটি ‘হুম্মারা’ দেখতে পেলাম। তার সঙ্গে দুটি ছানা রয়েছে। আমরা ছানা দুটিকে ধরে নিয়ে এলাম। একটু পরই হুম্মারা পাখিটি এসে ডানা ঝাপটাতে লাগল। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এলেন। তিনি পাখিটির অবস্থা দেখে বললেন, ‘কে ছানা দুটি ধরে এনে পাখিটিকে ব্যথিত করেছে? ছানা দুটি তার কাছে ফিরিয়ে দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৫২৬৮; হাকিম, মুসতাদরাক : ৭৫৯৯)।
প্রাণিকুলের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত আগ্রহ প্রদর্শন করেছে। এ কারণে গবাদিপশুর জন্য উর্বর ঘাস ও পানিযুক্ত চারণভূমি নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। যদি কাছাকাছি এমন চারণভূমি না পাওয়া যায়, তাহলে গবাদিপশুর পালকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা কোমল; তিনি কোমলতা পছন্দ করেন এবং কোমলতায় আনন্দিত হন। তিনি কোমলতায় সাহায্য করেন, যা কঠোরতায় করেন না। সুতরাং তোমরা যখন এসব বাকশক্তিহীন জানোয়ারের পিঠে আরোহণ করবে, তাদের উপযুক্ত স্থানে (সাধারণ মঞ্জিলে) থামাবে (স্বাভাবিক দূরত্বের বেশি চালিয়ে তাদের কষ্ট দিও না)। যেখানে অবস্থান করবে সেখানকার জায়গা ঘাসশূন্য পরিষ্কার হলে শিগগিরই তাদের ওখান থেকে বের করে নিয়ে যাও, অন্যথায় তাদের হাড় শুকিয়ে যাবে। (অর্থাৎ ঘাসশূন্য ও লতাপাতাহীন জায়গায় অবস্থান করলে এ প্রাণীগুলো না খেতে পেয়ে শুকিয়ে যাবে এবং পরে আর হাঁটতে পারবে না)। আর তোমাদের জন্য রাতের বেলা ভ্রমণ করাই শ্রেয়। কারণ রাতের বেলা যে পথ অতিক্রম করা যায় দিনের বেলায় তা করা যায় না। রাতের বেলা কোনো স্থানে অবস্থান করতে হলে পথেঘাটে অবস্থান করো না, কারণ তা প্রাণীদের চলাচলের জায়গা এবং সাপের বাসস্থান।’ (ইমাম মালিক, মুআত্তা : ১৭৬৭; আস-সিলসিতুস সাহিহা : ৬৮২)।
প্রাণিকুলের প্রতি দয়া দেখানোর চেয়েও উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি স্তর রয়েছে। ইসলামি শরিয়া প্রাণীদের সঙ্গে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক করে দিয়েছে। তা হলো তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করা এবং তাদের অনুভূতিকে সম্মান দেখানো। এ নীতির সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন তখনই ঘটেছে, যখন নবী করিম (সা.) গোশত খাওয়ার জন্য প্রাণীদের জবাইয়ের সময় তাদের কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। চাই এ কষ্টদান জবাইয়ের নিকৃষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন অথবা জবাইয়ের অস্ত্রের নিকৃষ্টতার কারণে শারীরিকভাবে হোক অথবা ছুরি-চাকু প্রদর্শন করে মানসিকভাবে হোক। এসব কারণে প্রাণীটিকে কয়েকবার হত্যা করা হয়!
শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে দুটি বিষয় আত্মস্থ করে রেখেছি। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক জিনিসের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা যখন কোনো ব্যক্তিকে (কিসাস বা এ রকম কোনো কারণে) হত্যা করবে, তাকে উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করবে। যখন পশুপাখি জবাই করবে, উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করবে। তোমরা অবশ্যই ছুরি ধার দিয়ে নেবে এবং জবাইকৃত পশুকে শান্তি দেবে।’ (মুসলিম : ১৯৫৫; সুনানে আবু দাউদ : ২৮১৫; সুনানে তিরমিজি : ১৪০৯)।
অনুরূপ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক জবাই করার জন্য একটি ছাগল শোয়ালো, তারপর তার ছুরি ধার দিতে লাগল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ অবস্থা দেখে বললেন, ‘তুমি কি প্রাণীটাকে কয়েকবার মারতে চাও? তুমি কি এটাকে মাটিতে শোয়ানোর আগে তোমার ছুরিটাকে ধার দিয়ে নিতে পারলে না?’ (হাকিম, মুসতাদরাক : ৭৫৬৩; আস-সিলসিতুস সাহিহা : ২৪)।
ইসলামে প্রাণীদের অধিকার এমনই; প্রাণীদের রয়েছে নিরাপত্তা ও শান্তির অধিকার, আরাম ও স্বস্তির অধিকার। ইসলামি সভ্যতার পতাকা যেখানে পতপত করে উড়েছে, সেখানে এমনই ছিল পরিবেশ-পরিস্থিতি।


মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিমের সমর্পিত
হজের মৌসুম এলে হৃদয়পটে যার স্মৃতি ঝলমল করে তিনি ইবরাহিম
বিস্তারিত
তামাত্তু হজের সহজ নিয়ম
পবিত্র হজ ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত
বিস্তারিত
যেসব কারণে আল্লাহ তায়ালা ক্ষুব্ধ হন
আল্লাহর রহমত আল্লাহর ক্রোধের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। ‘নিশ্চয়ই আমার রহমত
বিস্তারিত
নারীদের নাক ও কান ফোঁড়ানো
নারীদের নাক ও কান ফোঁড়ানো নিয়ে ধর্মীয় দিক থেকে বিভিন্ন
বিস্তারিত
পশুপাখির প্রতি নবীজির ভালোবাসা
নবীজি পশুপাখির প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। সাহাবিদের শিখিয়েছেন
বিস্তারিত
হজে মাথা মুন্ডানোর ফজিলত
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)
বিস্তারিত