তরুণদের অলস ও কর্মক্ষমতা হ্রাস করছে সোশ্যাল মিডিয়া

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। লেখক ও মনোবিজ্ঞানী। বাংলাদেশের অন্যতম এ লেখক কথাসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৮ পেয়েছেন। সম্পাদনা করছেন সাহিত্য সংস্কৃতির পত্রিকা শব্দঘর আর কর্মজীবনে তিনি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক। তিনি মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণরা সমাজে ভালো-মন্দ দুই ধরনের ভূমিকাই রাখছে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, দিনের খুব বড় একটা সময় এ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকায় তরুণদের অলসতা বাড়ছে। বিস্তারিত তুলে ধরেছেন মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ও আজহারুল হক ফরাজী

তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ামুখী কেন?
মোহিত কামাল : এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছোটবেলায় মাঠে যেতাম। এখন মাঠ নেই। শিশুরা ঘরে থাকে। এখন তাদের বিনোদনের মাধ্যম বলতে সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে তারা চ্যাট করছে, আড্ডা দিচ্ছে। ফলে ব্যক্তি যোগাযোগ ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর কিছু ভালো দিক আছে। যেমন এবারের বইমেলায় আমার চারটি বই বের হয়েছে। সেটা আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দিলাম, আমার পাঁচ হাজার বন্ধু সেটা দেখল, তারা বইটা নিয়ে সমালোচনা করল, আলোচনা করল, তাতে আমি সমৃদ্ধ হলাম। তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আবেগের চাপ থাকলে সেটা একটু রিলিজ করে। আর অপজিট সেক্সের প্রতি দুর্বলতা আমাদের সহজাত প্রবণতা।
এ সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সহজেই মেয়েবন্ধু পাওয়া যায়, ছেলেবন্ধু পাওয়া যায়। এ যোগাযোগের কারণে মানুষের আবেগ একটা জায়গায় আবদ্ধ থাকছে না। চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। এ সম্পর্ক ব্যক্তি জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আরও ভালো উদাহরণও আছে। এ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই আমাদের গণজাগরণ মঞ্চের তৈরি হয়েছিল।
সব জায়গায় খারাপ গ্রুপ আছে, এখানেও আছে। ওই গ্রুপগুলো মেয়েদের টার্গেট করে, গৃহবধূদের টার্গেট করে। দীর্ঘদিন ধরে একটা সম্পর্ক তৈরি করে, এরপর তারা অনৈতিক সম্পর্ক করে এবং সেটা ভিডিও করে পরে ব্ল্যাকমেইল করছে। এমন একজন নারী আমার কাছে এসেছিলেন তিনি ওই খপ্পরে পড়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্টটিও তাদের লিখে দিয়েছিলেন। তাতেও নিষ্কৃতি পাননি। পরে তিনি মানসিক রোগী হয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আগ্রহী হওয়ার পেছনে কীসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি?
মোহিত কামাল : আমরা সবাই কিন্তু নিজের কথাটা অন্যের কাছে বলতে চাই। এ শেয়ার করার প্রবণতা আগেও ছিল। আগে হয়তো এটা বন্ধুবান্ধবের কাছে বলত। এখন সেটা সে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দিয়ে দিচ্ছে। সেটা দেখে অনেকে কমেন্ট করছে, অনেক রকম মন্তব্য হচ্ছে। সবার হাতেই যেহেতু এখন স্মার্টফোন আছে, সেই ফোনের ব্যবহার এক্ষেত্রে বেশি হচ্ছে। 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তরুণরা কি উপকার পাচ্ছে? এর ক্ষতিকর প্রভাবটা কী?
মোহিত কামাল : হ্যাঁ, অবশ্যই উপকার পাচ্ছে। এখানে যারা বই পড়ে, তাদের একটা গ্রুপ আছে। ওই বইগুলোতে কী আছে, সেগুলো নিয়ে তারা আলোচনা করছে। আমি নিজেও এ ধরনের গ্রুপে ঢুকে ওদের আলোচনাগুলো দেখি। ওরা এমন সব বই পড়েছে, যে বইগুলো দুর্লভ। আমি তাদের আলোচনা দেখে সমৃদ্ধ হই। আবার এর খারাপ প্রভাবও আছে, কারণ তরুণরা এমন সব ওয়েবে ঢুকে যাচ্ছে, সেখানে পেশাদার নারী-পুরুষের রঙ্গলীলা তারা দেখছে। এতে তাদের বাস্তব জৈবিক চাহিদা বিকৃত হচ্ছে। আমি তো বলব এসব সাইটে ঢুকে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ক্ষতিটা হচ্ছে বেশি। কারণ এসব দেখার কারণে একটা মেয়ের স্বাভাবিক পিরিয়ড শুরু হওয়ার সময় ১৩ থেকে ১৫ বছর, এখন সেটা ৮ থেকে ৯ বছরেই হয়ে যাচ্ছে। এতে তার মধ্যে একটা যৌন চাহিদা তৈরি হচ্ছে। তখন সে হয়তো খারাপ খপ্পরে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কিছু মানুষের মধ্যে স্মার্টফোনের আসক্তির এমন তীব্রতা লক্ষ করেছেন, যা রীতিমতো বিস্ময়কর। তারা দেখেছেন, কিছু লোক মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, যেন মোবাইল বন্ধ হয়ে গেলে জীবনই অচল। এমন হলে বুঝতে হবে আপনিও নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বা অচিরেই হবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের আগে ও পরে কী ধরনের পার্থক্য দেখা যায়?
মোহিত কামাল : সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা যখন বসে, তখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা সেটা ব্যবহার করছে। এমনকি রাত জেগে তারা এটা ব্যবহার করছে। যখন তারা রাত জাগে, তখন পরের দিন সকালে স্কুলে বা কলেজে যেতে চায় না। এতে তাদের রেজাল্ট খারাপ হয়। বাবা-মা চাপ দেয়। তখন তারা মানসিক রোগী হয়ে যায়, আর আমাদের কাছে আসে। এতে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। কিন্তু ব্রেনকে রাতে ঘুমাতে দিতে হবে। আপনি যদি ঠিকমতো না ঘুমান, তাহলে আপনার ব্রেন ঠিকমতো কাজ করবে না। চাপে থাকবে। আপনার প্রোডাক্টটিভিটি কমে যাবে। আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।


বঙ্গবন্ধু আজও বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ নিয়ে
বিস্তারিত
মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের কল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
বিস্তারিত
আসুন বদলে দিই বদলে যাক
  ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে কখনও হেঁটে গেলে নাক-মুখ চেপে আমরা
বিস্তারিত
উদ্যম ও প্রচেষ্টায় দেশের কল্যাণে
ডিএমপির ওয়ারী বিভাগে কর্মরত উপপুলিশ কমিশনার তেরোবারের মতো আবারও শ্রেষ্ঠ
বিস্তারিত
বন্ধু ফোরামের দপ্তর থেকে
উন্নয়নের মূলধারায়Ñ এ সেøাগানকে সামনে রেখে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের লেখক-পাঠক-
বিস্তারিত
যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের জন্য কাজ
যারা সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র, অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না
বিস্তারিত