মেন্টাল থেরাপি কেন নেবেন?

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সচেতন থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই মানসিক অসুস্থতা নিয়ে ভাবেন না। ‘সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে’ কিংবা কুসংস্কারের মারপ্যাঁচে মানসিক এই সমস্যাগুলো আড়ালেই থেকে যায়। 

অনেকেই আবার ভাবেন, সাইকোথেরাপি খুব একটা কাজের না। আসলেও কি কথাটি সত্যি? সাইকোথেরাপি বা মানসিক সাহায্য নেওয়ার খুব বড় কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো।  জীবনের এই সময়গুলোতে আপনি মানসিক চিকিৎসকের সাথে কথা বলে থেরাপি নিতেই পারেন- 

সবসময় মানসিকভাবে খারাপ থাকলে- 

মানুষ হিসেবে আপনি কখনো ভালো থাকবেন, কখনো খারাপ থাকবেন। কখনো খুব কষ্ট পাবেন, কখনো আনন্দে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার এই খারাপ থাকার ব্যাপারটি কি অনেক দীর্ঘমেয়াদী। আপনি কি সারাক্ষণই মানসিকভাবে কষ্টে থাকেন, অতিরিক্ত চিন্তা করেন? এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। কারণ, সারাক্ষণ মানসিকভাবে খারাপ থাকলে সেটা মোটেও ভালো কিছু হতে পারে না। 

কোনো নির্দিষ্ট সমস্যায় ভুগলে- 

আপনি নানারকম শারীরিক সমস্যায় ভুগতে পারেন। এগুলোর সবটাই যে মানসিক হতে হবে তা না। তবে এই শারীরিক সমস্যাগুলোই মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চিন্তা করা, ভয় পাওয়া, ঘুম না আসার মত এমন ব্যাপারগুলো আপনার মধ্যে থাকলে সেটা নিয়েও চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। কারণ, এখন যেটাকে খুব ছোট কোন ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে, পরবর্তীতে সেটা খুব বড় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।  

আপনার দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে- 

মনে করুন, আপনি খুব মানসিক কষ্টে থাকলে প্রচুর পরিমাণ আইসক্রিম খাচ্ছেন। রাগের কারণে আপনার অফিসের কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আপনি হয়তো বুঝতেই পারছেন না, অথচ আপনার আচরণ অন্যান্য মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। এর পেছনে অবশ্যই কোনো না কোনো কারণ আছে। 

হতে পারে, আপনি নিজেই মানসিকভাবে সুস্থ নেই। আর তাই এর দ্বারা এমন কোনো কাজ আপনি করছেন যেটা স্বাভাবিক অবস্থায় আপনি করতেন না। এমনটা যদি চলতে থাকে, তাহলে মানসিক সাহায্য নিন।

কঠিন কোনো সমস্যায় পড়লে- 

কিছু কিছু সময় শুধু ওই নির্দিষ্ট অবস্থার কারণেই মানসিকভাবে অনেক ভারাক্রান্ত মনে হয় নিজেকে। একটা সময় মনে হয়, আর হয়তো সম্ভব হচ্ছে না জীবনকে টেনে নেওয়া। সেটা হতে পারে ভালোবাসার মানুষের সাথে ঝগড়া। আবার হতে পারে খুব বড় কোন শারীরিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাওয়া। 

এমন সময় শুধু ওই নির্দিষ্ট অবস্থার মধ্যেই ভালো থাকার জন্য, মানসিকভাবে একটু সুস্থ থাকার জন্য থেরাপি নিতে পারেন আপনি। এতে সমস্যা হয়তো কমে যাবে না, তবে সমস্যার কারণে তৈরি হওয়ার আপনার কষ্টটা কমে যাবে। সমস্যার সাথে মোকাবেলা করার মানসিক শক্তি আরেকটু বেশি পাবেন আপনি।

ভালোবাসার সম্পর্কে খারাপ থাকলে-

এটা ঠিক যে, আপনার নিজের মানসিক শক্তিই আপনাকে সম্পর্কের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। তবে তারপরেও এমন অনেক পর্যায় আসে যখন এই শক্তিটুকু যথেষ্ট মনে হয় না। এমন সময় প্রয়োজনে আপনি আপনার সঙ্গীকে নিয়ে চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন। হতেই তো পারে যে, আপনারা দুজনই যে ছোট্ট সমস্যার কারনে বড় বড় ঝড় পার করছিলেন মানসিকভাবে, সেগুলো বোঝাটা একটু সহজ হয়ে গেল। অনেক বড় বড় সমস্যা সম্পর্কে আসতেই পারে। এর প্রভাবে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লে সেটা কাটিয়ে উঠতেও এই চেষ্টা করতে পারেন আপনি।

আরও ভালো কিছু করতে- 

অনেকসময় শুধু খারাপ সময় থেকে ভালো সময়ে যাওয়ার জন্যই নয়, নিজ থেকেই আরও একটু উন্নত হতে, মানুষ হিসেবে নিজেকে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতেও থেরাপি নিতে পারেন আপনি। এতে করে সমস্যা সামনে আসার আগেই সেটা প্রতিরোধ করার মানসিকতা রাখা আপনার জন্য সহজ হবে।

তাই, মানসিক এই সাহায্যকে ট্যাবু ভাবা বা ভয় পাওয়া কোন কারণ নেই। মানুষ হিসেবে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আর এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের মধ্যে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেগুলোকে সরিয়ে নিতে এমন থেরাপির কথা আপনি ভাবতেই পারেন। সূত্র- ওয়েবএমডি। 


ছেলে সন্তান চাইলে যে ১০টি
বিজ্ঞান থেমে নেই। প্রতিনিয়ত সে চেষ্টা চালাচ্ছে নানা অজানা বিষয়েকে
বিস্তারিত
বাসর রাতে স্ত্রীর কাছে কী
বিয়ের প্রথম রাত, অর্থাৎ ফুলশয্যার রাত হচ্ছে যে কোনো দম্পতির
বিস্তারিত
আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের কারণে যে
নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ের কারণে জন্ম নেয়া শিশু আক্রান্ত হচ্ছে
বিস্তারিত
ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে
জন্ম নিলে মারা যেতেই হবে। এই বাস্তবতা থেকে বের হওয়ার
বিস্তারিত
অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট ভালো নাকি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শুধুই সেলফি!তবে অতিরিক্ত সেলফি
বিস্তারিত
৯ ঘণ্টার বেশি বসে কাজ
টানা অথবা বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু
বিস্তারিত