হজ তথ্য কর্নার

হজের ফরজ ওয়াজিব

যারা হজ করবেন তাদের প্রথমে জানতে হবে হজের ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কী কী। আজ আমরা এ নিয়েই আলোচনা করব। 

হজের ফরজ
১. ইহরাম তথা হজের নিয়ত করা। যে ব্যক্তি হজের নিয়ত করবে না তার হজ হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আমলগুলো নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেকের জন্য তাই হবে, যা সে নিয়ত করে।’ (বোখারি : ১)। 
২. উকুফে আরাফা বা আরাফায় অবস্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হজ হচ্ছে আরাফা।’ (ইরওয়াউল গালিল : ৪/২৫৬)।
৩. তাওয়াফে ইফাজা বা তাওয়াফে জিয়ারা (বাইতুল্লাহর ফরজ তাওয়াফ)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা যেন প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে।’ (হজ : ২৯)।
সাফিয়্যা (রা.) যখন ঋতুবতী হলেন, তখন নবীজি বললেন, ‘সে কি আমাদের আটকিয়ে রাখবে?’ আয়েশা (রা.) বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, সে তো ইফাজা অর্থাৎ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছে। তাওয়াফে ইফাজার পর সে ঋতুবতী হয়েছে।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তাহলে এখন যাত্রা কর।’ (বোখারি : ৪২৮)। এ থেকে বোঝা যায়, তাওয়াফে ইফাজা ফরজ। মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি কোনো একটি ফরজ ছেড়ে দেবে, তার হজ হবে না। 
হজের ওয়াজিব 
সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করা : অবশ্য অধিকাংশ সাহাবি, তাবিঈ ও ইমামের মতে এটা ফরজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাঈ কর, কেননা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর সাঈ ফরজ করেছেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ৪২১)।  আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার জীবনের কসম! আল্লাহ কখনও সে ব্যক্তির হজ পরিপূর্ণ করবেন না, যে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করে না।’ (মুসলিম : ৯২৮)।
মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা : অর্থাৎ মিকাত অতিক্রমের আগেই ইহরাম বাঁধা। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিকাতগুলো নির্ধারণ করার সময় বলেন, ‘এগুলো তাদের জন্য এবং যারা অন্যত্র থেকে ওই পথে আসে হজ ও ওমরা আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে তাদের জন্যও।’ (বোখারি : ১৫২৪; মুসলিম : ১১৮১)।  
সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা : যে ব্যক্তি আরাফার ময়দানে দিনে উকুফ করবে, তার ওপর ওয়াজিব হচ্ছে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে দিনে উকুফ করেছেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেছেন। মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফায় আমাদের উদ্দেশে বক্তৃতা করার সময় বললেন, মুশরিক ও পৌত্তলিকরা সূর্যাস্তের সময় এখান থেকে প্রস্থান করত, যখন সূর্য পাহাড়ের মাথায় পুরুষের মাথায় পাগড়ির মতোই অবস্থান করত। অতএব আমাদের আদর্শ তাদের আদর্শ থেকে ভিন্ন।’ (বায়হাকি, আস-সুনানুল-কুবরা : ৫/১২৫)। 
সুতরাং সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রস্থান মুশরিকদের আচারের সঙ্গে ভিন্নতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই ছিল। 
মুজদালিফায় রাত যাপন 
ক. কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) মুজদালিফায় রাত যাপন করেছেন এবং বলেছেন, ‘আমার উম্মত যেন হজের বিধান শিখে নেয়। কারণ আমি জানি না, এ বছরের পর সম্ভবত তাদের সঙ্গে আমার আর সাক্ষাৎ হবে না।’
খ. তিনি অর্ধরাতের পর দুর্বলদের মুজদালিফা থেকে প্রস্থানের অনুমতি দিয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায়, মুজদালিফায় রাত যাপন করা ওয়াজিব। কারণ অনুমতি তখনই প্রয়োজন হয় যখন বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে। 
গ. আল্লাহ তায়ালা মাশ’আরে হারামের কাছে তাঁর জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সুতরাং যখন তোমরা আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখন মাশ’আরে হারামের কাছে আল্লাহকে স্মরণ কর।’ (বাকারা : ১৯৮)।
তাশরিকের রাতগুলো মিনায় যাপন 
১০ তারিখ দিবাগত রাত ও ১১ তারিখ দিবাগত রাত মিনায় যাপন করতে হবে। ১২ তারিখ যদি মিনায় থাকা অবস্থায় সূর্য ডুবে যায় তাহলে ১২ তারিখ দিবাগত রাতও মিনায় যাপন করতে হবে। ১৩ তারিখ কঙ্কর মেরে তারপর মিনা ত্যাগ করতে হবে। 
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জোহরের সালাত মসজিদুল হারামে আদায় ও তাওয়াফে জিয়ারত শেষ করে মিনায় ফিরে এসেছেন এবং তাশরিকের রাতগুলো মিনায় কাটিয়েছেন।’ (আবু দাউদ : ১৬৮৩)। 
হাজীদের জমজমের পানি পান করানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) সংশ্লিষ্টদের মিনার রাতগুলো মক্কায় যাপনের অনুমতি দিয়েছেন এবং উটের দায়িত্বশীলদের মিনার বাইরে রাত যাপনের অনুমতি দিয়েছেন। এই অনুমতি প্রদান থেকে প্রতীয়মান হয়, মিনার রাতগুলো মিনায় যাপন করা ওয়াজিব। 
জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা
১০ জিলহজ জামরাতুল আকাবায় (বড় জামরায়) কঙ্কর নিক্ষেপ করা। তাশরিকের দিনগুলো তথাÑ ১১, ১২ এবং যারা ১৩ তারিখ মিনায় থাকবেন, তাদের জন্য ১৩ তারিখেও যথাক্রমে ছোট, মধ্য ও বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) এভাবে জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন। জাবের (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.) কে দেখেছি কোরবানির দিন তিনি তাঁর বাহনের ওপর বসে কঙ্কর নিক্ষেপ করছেন এবং বলছেন, তোমরা তোমাদের হজের বিধান জেনে নাও। কারণ আমি জানি না, সম্ভবত আমার এ হজের পর আমি আর হজ করতে পারব না।’ (মুসলিম : ১২৯৭)।
মাথা মু-ন অথবা চুল ছোট করা 
রাসুলুল্লাহ (সা.) মাথা মু-ন অথবা চুল ছোট করার আদেশ দিয়ে বলেন, ‘সে যেন মাথার চুল ছোট করে এবং হালাল হয়ে যায়।’ (বোখারি : ১৬৯১; মুসলিম : ১২২৭)। আর তিনি মাথা মু-নকারীদের জন্য তিনবার মাগফেরাতের দোয়া করেছেন এবং চুল ছোটকারীদের জন্য একবার মাগফেরাতের দোয়া করেছেন। 
বিদায়ী তাওয়াফ  
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায়ী তাওয়াফের আদেশ দিয়ে বলেন, ‘বাইতুল্লাহর সঙ্গে তার শেষ সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত যেন কেউ না যায়।’ (মুসলিম : ২৩৫০)। 
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘লোকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর সাক্ষাৎ। তবে তিনি ঋতুবতী মহিলার জন্য ছাড় দিয়েছেন।’ (মুসলিম : ২৩৫১)।
উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি এসবের একটিও ছেড়ে দেবে, তার ওপর দম ওয়াজিব হবে অর্থাৎ একটি পশু জবেহ করতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার হজের কোনো কাজ করতে ভুলে যায় অথবা ছেড়ে দেয়, সে যেন একটি পশু জবেহ করে।’ (মুআত্তা মালেক : ৮৯০; দারাকুতনি : ২/২৪৪)।


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত