যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলামী ব্যবস্থা

একটা মেশিনের প্রধান পার্টসগুলো অকার্যকর রেখে যেমন দু-একটা পার্টস দিয়ে মেশিন সচল রাখা যায় না, তেমনি ইসলামে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে পূর্ণ প্রস্তাবনা তা বাস্তবায়ন না করে একটি-দুটি এলিমেন্টের সাহায্যে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলত মাদ্রাসায় এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে ইসলামের প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না

ইসলাম যৌন নির্যাতন (ঝবীঁধষ ঠরড়ষবহপব) নিরোধকল্পে মূলত প্রতিরোধ ও প্রতিকার উভয় পন্থাই অনুসরণ করে। এ দুটি পদ্ধতির কোনো একটি দিকেরই ব্যত্যয় ঘটলে মূলত ইসলামের যে সুরক্ষা প্রস্তাবনা, তা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
প্রতিরোধমূলক (চৎবাবহঃরাব) ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে, নারীর জন্য পর্দার বিধান। সফরকালে সুরক্ষার জন্য সমর্থ পুরুষ রাখা। ঘরে অবস্থানের পরামর্শ। আর পুরুষদের জন্য দৃষ্টিকে অবনত রাখা। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সংযমের চর্চা করা। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা নিশ্চিত করা। পর্ন ও অশ্লীলতার যাবতীয় পথ বন্ধ রাখা। দ্রুত বিবাহ নিশ্চিত করা।
আর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা বলতে মূলত আইনি প্রতিকারকে (খবমধষ জবসবফু) নির্দেশ করে। যেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীর উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হবে প্রকাশ্য দ- কার্যকরের মাধ্যমে। যেন তা সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ মনোবৃত্তির লোকদের জন্য নজির হয়ে থাকে। ইসলাম প্রকাশ্য ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলে। 
ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় যৌনাপরাধ (ঝবীঁধষ ড়ভভবহপব) মূলত দুই ধরনের। একটা হচ্ছে বিবাহবহির্ভূত ইচ্ছাকৃত যৌন সম্পর্ক (ওহঃবহঃরড়হধষ ংবী) যা একটা নির্দিষ্ট বয়স (অমব ড়ভ পড়হংবহঃ) পেরুনোর পর বাংলাদেশে বৈধ। ইসলাম এটাকে জেনা বা ব্যভিচার বলে, এর শাস্তি প্রয়োগ জটিল।
ফলত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ছাড়া সাধারণত এর শাস্তি প্রয়োগ কঠিন। নতুবা চারজন সাক্ষী প্রয়োজন। যেন নিজেরা সংশোধনের দিকে আগায়। এর শাস্তি বিবাহিত হলে মৃত্যুদ- আর অবিবাহিত হলে একশ বেত্রাঘাত। অন্যটা হচ্ছে ধর্ষণ (জধঢ়ব) অর্থাৎ জবরদস্তিমূলক যৌন সম্পর্ক। আরবিতে একে বলা হয় ‘ইগতিসাব’। প্রচলিত আইনে ধর্ষণের সাজা তুলনামূলক কম এবং ধর্ষণচেষ্টার সাজা যৎসামান্য। কিন্তু ইসলামি আইনে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণের জন্য উদ্যত হওয়া, এমনকি শারীরিক আক্রমণ ছাড়া হুমকি প্রদানের মাধ্যমে ধর্ষণ করলেও সেটার সাজা ইসলামি আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি (ঈধঢ়রঃধষ চঁহরংযসবহঃ)। বিবাহিত, অবিবাহিত যাই হোক, গ্রহণযোগ্য ও উপযুক্ত প্রমাণ পেলে দ্রুততম সময়ে দ-ারোপ করা হবে। এর জন্য চারজন সাক্ষীরও বাধ্যবাধকতা নেই।
ইসলামে জোরপূর্বক যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন কিংবা স্থাপনের চেষ্টাকারীকে দেখা হয় ‘মুহাররিব’ হিসেবে, যার ইংরেজি অনুবাদ করা হয় ‘ডধৎ ধমধরহংঃ এড়ফ ধহফ ঃযব ংঃধঃব’ অর্থাৎ রাষ্ট্র ও আল্লাহ?র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী। তা ধর্ষণ কিংবা বলাৎকার অর্থাৎ সমকাম (ঐড়সড়ংবীঁধষরঃু) কিংবা বিষমকাম (ঐবঃবৎড়ংবীঁধষরঃু) যা-ই হোক না কেন। 
ইসলাম যেসব অপরাধীকে মুহাররিব হিসেবে বিবেচনা করে তাদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। রাষ্ট্র তাদের ওপর দ- প্রয়োগে বাধ্য। কোনো অবস্থাতেই তাদের দ- মওকুফ বা শিথিল করা যাবে না। অপরাধীকে ক্ষমার যে সুযোগ বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে, ইসলামে এ ধরনের ক্ষেত্রে সে সুযোগ রাষ্ট্রপ্রধানের নেই। বরং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এই দ- কার্যকরে বাধ্য।
আসলে মূল কথা হচ্ছে, এই যে বাংলাদেশে অধুনা ধর্ষণ, বলাৎকারের মতো ঘটনা বেড়ে গেছে এর মূল কারণ পর্দাহীনতা বা অশ্লীলতা। বরং আইনি প্রতিকার ও ন্যায়বিচার না থাকাটাই এর প্রধানতম কারণ। ভয়ংকর ব্যাপার এই যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা উল্টো ক্রিমিনাল ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠেছে। 
সুতরাং পতনটা সামগ্রিক। মাদ্রাসাগুলোতেও এরকম ঘটনা ঘটছে।আদতে এটা তেমন অস্বাভাবিক কিছু নয়। মাদ্রাসা এই রাষ্ট্রেরই অঙ্গ। রাষ্ট্রে যখন ন্যায়বিচার থাকবে না তখন এরকম ঘটনা ঘটবেই। মাদ্রাসার শুধু যে রক্ষাকবচটা আছে সেটা হচ্ছে পর্দা ও শালীনতা। কিন্তু এ দুটোই এরকম অপরাধ দমনে পৃথকভাবে কার্যকর কিছু নয়।
একটা মেশিনের প্রধান পার্টসগুলো অকার্যকর রেখে যেমন দু-একটা পার্টস দিয়ে মেশিন সচল রাখা যায় না, তেমনি ইসলামে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে পূর্ণ প্রস্তাবনা তা বাস্তবায়ন না করে একটি-দুটি এলিমেন্টের সাহায্যে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলত মাদ্রাসায় এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে ইসলামের প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বরং মাদ্রাসায় এই হার যে এখনও তুলনামূলক কম তা শুধু নৈতিক শিক্ষাটুকুর প্রভাবেই। আদতে এই যে অপরাধ দমনে ব্যর্থতা, তা মূলত শাসনযন্ত্রের। 
ইসলাম যৌন নির্যাতন নিরোধকল্পে ও নিরসনে যে প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে, আমাদের নিজেদের সন্তানদের সুরক্ষার জন্যই তা বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে দাঁড়াতে হবে। মাদ্রাসার কিংবা স্কুলের বদনাম করে লাভ নেই। ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের মধ্যেই কল্যাণ। তাই আসুন আমরা মূল জায়গার দিকে দৃষ্টি দিই।


নারীদের নাক ও কান ফোঁড়ানো
নারীদের নাক ও কান ফোঁড়ানো নিয়ে ধর্মীয় দিক থেকে বিভিন্ন
বিস্তারিত
পশুপাখির প্রতি নবীজির ভালোবাসা
নবীজি পশুপাখির প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। সাহাবিদের শিখিয়েছেন
বিস্তারিত
হজে মাথা মুন্ডানোর ফজিলত
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)
বিস্তারিত
জমজমের পানিতে অলৌকিক নিদর্শন
জমজম কূপের পানি আল্লাহর কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। প্রতি বছর
বিস্তারিত
খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক : একটি
‘সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি’Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে একঝাঁক মানবতাপ্রেমী
বিস্তারিত
ইন্দোনেশিয়ায় হাফেজদের বিনা পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মানেই পরীক্ষা নামক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হওয়া। তারপরও
বিস্তারিত