তিস্তার পানি বাড়ছে, পানিবন্দি ৩০ হাজার পরিবার

গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে  শুক্রবার বিপৎসীমার ২৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত করছে। তিস্তায় পানি বাড়ায় রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কাউনিয়া উপজেলা টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি হঠাৎ করে বাড়ছে। এতে ইউপির বিশ্বনাথ, চরগনাই, হয়বৎখা ও বালাপাড়া ইউপির ঢুষমারা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার সকালে নদীর তীরবর্তী ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কাউনিয়ার ইউএনও মোছা. উলফৎ আরা বেগম বলেন, বন্যায় পানিবন্দি মানুষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছি। বন্যার ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। জরুরি অবস্থায় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর চর এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে পুকুর, মৎস খামারে মাছ, বিভিন্ন আবাদি ফসল তলিয়ে গেছে।

গবাদি পশুপাখি ও ছোট শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারের প্রধান নারী-পুরুষরা। বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকৃত খাবার সমস্যা কারণে অনেকে শুকনো খাবার, আবার কেউ আত্মীয়দের দেয়া খাবার খাচ্ছে। শুধু এসব সমস্যা নয়, ঘুমানোসহ প্রস্রাব-পায়খানার সমস্যায় পড়েছে পানিবন্দি মানুষগুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছে পানি। পানিবন্দি মানুষগুলো ভেলায় চলাচল করছে।

লক্ষীটারী ইউনিয়নের পানিবন্দি এলাকা বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। তিনি দ্রুত এসব মানুষকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, কোলকোন্দ ইউনিয়নে পশ্চিম চিলাখাল চর, চিলাখালচর, মটুকপুরচর, খলাইরচর, বিনানিবা চর, সাউদপাড়া বাঁধের ধার, উত্তর কোলকোন্দ বাঁধের ধার, কুড়িবিশ্বা বাঁধের ধারসহ নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার ৫শ পরিবার, মর্নেয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্ন এলাকার ১ হাজার পরিবার, লক্ষীটারীর বাঘের হাট, টাউরাশের চর, ইশরকুলচর, কলাগাছি চর ও বাঁধের ৮শ পরিবার, নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাঘডোহরা চর ৭ ও ৮নং ওয়ার্ড, বৈরাতি বাঁধের ধারের ৫শ পরিবার, আলমবিদিতরের হাজীপাড়া, ব্যাংকপাড়া ও বাঁধের ধারের ৩শ পরিবার, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ধামুর, বোল্লার পাড় ও গান্নার পাড় বাঁধের ধারের ৪শ পরিবার এবং গজঘন্টা ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ৫শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি ৮৫০ জনের মাঝে চিড়া, মুড়ি, গুড়, দেশলাই, মোমবাত শুক্রবার বিতরণ করা হয়েছে।পীরগাছা উপজেলার ছাওলা, তামম্বুলপুর ইউনিয়নের চলগুলোতে ১ হাজার  মানুষ পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে কাউনিয়া পয়েন্টে ৫৫ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, তিস্তার নিম্ন এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করছে। বাঁেধ আশ্রিতদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।


অবশেষে বাবার কবরে ছেলের বাথরুম
বগুড়ার শাজাহানপুরে বাবার কবরের উপর ছেলের বাথরুম ও প্রাচীর নির্মাণকাজ
বিস্তারিত
আইপিইউ’র অধিবেশনে রেজুলেশনবিষয়ক আলোচনায় এমপি
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে চলমান ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৪১তম অধিবেশননে আইপিইউ’র
বিস্তারিত
পটিয়ায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে
বিস্তারিত
চকরিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যানজট,
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সোমবার (১৪ অক্টোবর)
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে ২ ইউপিতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ও পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কঠোর
বিস্তারিত
রংপুরে বন্যপাখি ও খরগোশসহ আটক
রংপুর র‌্যাব-১৩ এর একটি অভিযানিক দল রোববার বিকেলে গোপন সংবাদের
বিস্তারিত