রঙিন বল

টিউটরের কাছে পড়া শেষে মাঠে পৌঁছতেই টুটুন দৌড়ে এসে বলল, ‘জুয়েল লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে তোর বলটা ফাটিয়ে ফেলেছে।’ কোনো অপরাধই যেন করেনি, তেমন নির্বিকার ভঙ্গিতে বলটা আমার হাতে তুলে দিয়ে গেল জুয়েল। রঙিন বলটা হাতে নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। আর কখনও বাবা আমাকে বল কিনে দেননি। কিন্তু তার দেওয়া রঙিন বলের কথা আজও ভুলিনি

বিকেলবেলা বাসার সামনে খেলছিলাম। হঠাৎ দেখি বাবা আসছেন। আমার কাছাকাছি এসে বললেন, ‘বাসায় চল।’
বাবার পেছনে পেছনে বাসার দিকে যেতে যেতে ভাবলামÑ বাসায় নিয়ে বাবা হয়তো বকবেন। কিন্তু তা হলো না।
বাসায় ঢুকেই মায়ের উদ্দেশে বাবা বললেন, ‘বাজারের ব্যাগ দাও। আমরা বাজারে যাব।’
আমার মনে ধুকপুক। এই বুঝি বাবা খেপে উঠে বলবেনÑ ‘পড়াশোনা রেখে সারাদিন শুধু খেলা আর খেলা!’
বাবা বললেন, ‘বাজারে যাবি না? তৈরি হয়ে নে।’
বাবার কথায় আমার মনের ধুকপুক ধক করে নিভে গেল।
প্রায়ই বাবা আমাকে বাজারে নিয়ে যান। মাঝে মাঝে ভাবিÑ বাবা কি আমাকে বাজার করা শেখাচ্ছেন?
বাজারে ঢোকার আগে বাবা একটা রেস্টুরেন্টে বসলেন। দই-মিষ্টির অর্ডার দিলেন। দই-মিষ্টি বাবার খুব প্রিয়। আমারও।
রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে বাজারে ঢুকতেই একটা স্পোর্টস সামগ্রীর দোকানে ঢুকলেন বাবা। পেছনে আমি। দোকানে সাজানো ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, নানা রঙের জার্সিতে আমার চোখ আটকে রইল।
ভাবলামÑ বাবাকে হয়তো তার অফিস থেকে কিছু কিনতে বলেছে!
বাবা একটা ফুটবল কিনলেন। আহ, কী সুন্দর রঙিন বল! দোকানদার বলটাকে একটা রঙিন নেটের পেটে সেঁধিয়ে আমার হাতে দিলেন।
দাম চুকিয়ে বেরিয়ে এলাম আমরা।
বাবার পেছনে বাজারের এ-দোকান ও-দোকান ঘুরছি আর সুযোগ পেলেই বলটায় নজর বুলাচ্ছি। বলটাকে জড়িয়ে থাকা নেটটাও কত না সুন্দর! এমন একটা বল কবে আমার হবে!
বাসায় ফিরে বলটা খাবার টেবিলের ওপর রেখে দিলাম। বাবা হয়তো অফিসে যাওয়া সময় নিয়ে যাবেন!
মা একসময় বলটা সরিয়ে খাবার ঘরের এক কোণে রাখলেন।
বলটার দিকে প্রতিদিন কত হাজারবার চোখ যায়, তা শুধু আমি জানি!
একদিন খেতে বসে বাবা হয়তো খেয়াল করলেন। বললেন, ‘বলটা এখনও পড়েই আছে?’
মা জানতে চাইলেনÑ ‘বলটা কার?’
‘ওর জন্যই তো কিনেছিলাম।’ আমাকে দেখিয়ে বললেন বাবা। এই বলে আমার মুখের দিকে তাকালেন।
আমার মনে ঈদের আনন্দ বইতে শুরু করল। বলটা মাঠে নিয়ে গেলে কাল আমার বন্ধুদের চমকে দেওয়া যাবে।
সুন্দর রঙিন বলটা আমার নজর কেড়ে নিচ্ছে বারবার।
রাতে ভালো ঘুম হলো না। ঘুরেফিরে চোখে শুধু বাবার দেওয়া রঙিন ফুটবলটা।
স্কুলেও মন বসে না। কখন রঙিন বল নিয়ে মাঠে যাব!
আমার বন্ধুরা ঠিক চমকিত হলো। নতুন বলে খেলা শুরু হলো। কিন্তু আমার মেজাজ গরম হলো। খেলতে খেলতে মাঠ থেকে জুয়েল একটা লাঠি তুলে নিল।
তারপর পায়ে খেলতে খেলতে লাঠি দিয়েও বলটা পেটাতে লাগল। এভাবে লাঠি দিয়ে পেটালে আমার নতুন বলটা খোয়া যাবে না? বাবাও বকবেন।
জুয়েল ছেলেটাই কেমন যেন! কোয়ার্টারের লোকেরা ওকে মোটেই পছন্দ করে না। 
পরের দিনও একই ঘটনা।
জুয়েলকে কিছু বলতেও পারছি না। অফিসে ওর বাবা আমার বাবার চেয়ে উঁচু পদবির। জুয়েলকে কিছু বললে ওর বাবা ক্ষেপে গিয়ে অফিসে আমার বাবাকে কোনো সমস্যায় ফেলে না দেন!
বাবাকে বললাম। বাবাও বোধ হয় অফিসের কথা ভেবে কিছু বললেন না!
আজ আমার টিউটর এসেছেন। তাই খেলতে যেতে পারিনি। কিন্তু জুয়েল এসে বলটা চেয়ে নিল।
টিউটরের কাছে পড়া শেষে মাঠে পৌঁছতেই টুটুন দৌড়ে এসে বলল, ‘জুয়েল লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে তোর বলটা ফাটিয়ে ফেলেছে।’
কোনো অপরাধই যেন করেনি, তেমন নির্বিকার ভঙ্গিতে বলটা আমার হাতে তুলে দিয়ে গেল জুয়েল।
রঙিন বলটা হাতে নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম।
আর কখনও বাবা আমাকে বল কিনে দেননি। কিন্তু তার দেওয়া রঙিন বলের কথা আজও ভুলিনি!


বৃষ্টি
বৃষ্টি আসে যখন তখন ব্যাঙ মেলেছে ছাতা, পানির ভেতর ডুবে তবু
বিস্তারিত
বৃষ্টি নামের মিষ্টি মেয়ে
বৃষ্টি নামের মিষ্টি মেয়ে আয়রে ছুটে আয় বন-বনানীর ছায়াঘেরা সবুজ-শ্যামল গাঁয়। আয়রে
বিস্তারিত
মেঘ-বৃষ্টি
মেঘ মিষ্টি মেঘ সন্দেশ  মেঘ বৃষ্টির বোন মেঘ জোসনা আলোর
বিস্তারিত
মেঘের কন্যা
নীল আকাশে ভেসে বেড়াও ওগো মেঘের পরি জলনাচনের গল্পগুলো তোমার
বিস্তারিত
মেঘের দেশে
সন্ধ্যা নামার আগে হঠাৎ বাড়ির কাছে এসে ওই যে দূরে
বিস্তারিত
টিপটিপ টুপটাপ
টিপ টিপ টুপ টাপ কখনোবা ঝুম ঝুম। পড়ছে যে বৃষ্টিটা
বিস্তারিত