ক্ষণিকের মুসাফিরখানা

ফুলে-ফলে ভরা আলোঝলমলে এ পৃথিবী কত সুন্দর! শরতের উদাস দুপুরে গাছে গাছে পাখিদের কলরব কত মধুর! মেঘধোয়া আকাশে দিগন্ত বিস্তৃত রংধনু কত মনোরম! মাঠে-ঘাটে, জলে-জঙ্গলে বিচিত্র প্রাণীদের বিচরণ কত মনোহর! এ পৃথিবীতে পরিবার-পরিজন, মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে থাকতে কতই না আনন্দ লাগে! কিন্তু মায়াজালে আবদ্ধ এ জগৎ সংসারে আমাদের জীবন যে অতি সংক্ষিপ্ত! অতি ক্ষণস্থায়ী! তাই সব মায়াজাল ছিন্ন করে সবাইকে চলে যেতে হয়। মা-বাবার আদর-যতœ, সন্তান-সন্ততির স্নেহ-মমতা, প্রিয়জনের ভালোবাসাÑ সবকিছু বিসর্জন দিয়ে মানুষ হঠাৎ করে চলে যায়। যেমন একাকী এসেছিল ঠিক, তেমনি একাকী চলে যায়। কারও দুঃখকষ্ট কিংবা বিরহ-বেদনার পরোয়া করে না। আসলে কার যে কখন ওপারের ডাক এসে যায়, কেউ জানে না। আর ডাক আসার পর মুহূর্ত পরিমাণ অপেক্ষারও কোনো সুযোগ নেই। তাই না বলে চলে যায়। আমাদের সামনে আসছে পরকাল। সে এক অনন্ত কালের জগৎ। যার শুরু আছে, শেষ নেই। বুদ্ধিমান তো সেই, যে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করেছে। কিন্তু যে তাকে অবহেলা করেছে, সে বড়ই নির্বোধ। এ পার্থিব জীবন ও পরকালের অনন্ত জীবনে সফল হতে চাইলে আমাদের কিছু করণীয় আছে। তা হলো আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করা। তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ও তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নতের অনুসরণ করা। কিন্তু শয়তান যে আমাদের চিরশত্রু। তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তাই আমাদের সর্বদা তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

এ পৃথিবীতে আগমনকারী প্রতিটি শিশুই রুহের জগতে মহান আল্লাহকে স্বীয় রব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মায়ের পেটে আসে। সেখানে আল্লাহ তায়ালা তাকে নিজ কুদরতি হাতে নিপুণ শৈলীতে সৃষ্টি করেন ধাপে ধাপে। আল্লাহ যে কত জ্ঞানী! কত মহান! কত শক্তিশালী! কত বিস্ময়কর শৈল্পিক দক্ষতার অধিকারী তা বোঝার জন্য মানুষের নিজের সৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করাই যথেষ্ট। মহান আল্লাহ মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন মৃত্তিকার সারাংশ দিয়ে, যা থেকে বীর্য সৃষ্টি হয়। সে বীর্য চল্লিশ দিন পর্যন্ত মায়ের গর্ভাশয়ে সঞ্চিত থাকে। চল্লিশ দিন পর তা জমাট রক্তে পরিণত হয়। এরপর আরও চল্লিশ দিন অতিবাহিত হলে তা মাংসপি- হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা প্রেরিত হন। তিনি তাতে রুহ ফুঁকে দেন। এ সময় তার সম্পর্কে চারটি বিষয় লিখে দেওয়া হয়। যথাÑ 
তার বয়স কত হবে। 
সে কী পরিমাণ রিজিক পাবে। 
এবং পরিণামে সে ভাগ্যবান হবে না কি হতভাগা। (মারেফুল কোরআন, সূরা হজ, ৫নং আয়াতের তাফসির)।
এভাবে সৃষ্টির চারটি ধাপ সমাপ্ত হলে পঞ্চম ধাপে এসে তার অস্থি-পিঞ্জর সৃষ্টি করা হয়। ষষ্ঠ ধাপে অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করা হয়। সপ্তম ধাপে সৃষ্টির পূর্ণতা দান করা হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তাকে শুক্রবিন্দু রূপে সংরক্ষিত করে আঁধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্ত রূপে সৃষ্টি করেছি। তারপর জমাট রক্তকে মাংসপি-ে পরিণত করেছি। এরপর সেই মাংসপি- থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি। তারপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি। অবশেষে এক নতুন সৃষ্টি রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়!।’ (সূরা মুমিনুন : ১২-১৪)।
শিশু মায়ের পেটে একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। তারপর ভূমিষ্ঠ হয়। একটুখানি কান্না দিয়ে সবাইকে হাসায়। শিশুর চেহারা দেখে মা তার প্রসব বেদনার কথা ভুলে যায়। সুবহানআল্লাহ! কী সুন্দর শিশু! কচি কচি হাত! কচি কচি পা! ছোট ছোট আঙুল! নিষ্পাপ চেহারা! কী মায়াবী চাহনি! যেই দেখে, সেই মুগ্ধ হয়! কাছে টেনে নেয়! কোলে নিয়ে আদর করে! চুমু খায়! প্রথম দর্শনেই যে কারও মন কেড়ে নেয়! এই যে মুগ্ধকর শিশু, যাকে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখার পূর্বে সাতটি ধাপে সৃষ্টি করেছেন, মানুষ যদি শুধু এ বিষয়টি নিয়ে ভাবত, তাহলেই মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারত। স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করত যে, মহান আল্লাহই তাঁর সৃষ্টিকর্তা। তিনিই বিশ্বজগতের নিয়ন্তা। আমরা আজ পৃথিবীতে শৈশব-কৈশোর পার করে কেউ যুবক, আবার কেউ বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি। আমরা সবাই জানি, এ পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী। যে কোনো সময় যে কারও মৃত্যুর ডাক চলে আসতে পারে। কিন্তু আফসোস! আমরা বড় উদাসীন হয়ে আছি। পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করছি না। আমাদের চিরশত্রু শয়তান দুনিয়ার সাজসজ্জা আমাদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, মনে হয় এ জীবনই আমাদের আসল জীবন। মৃত্যুর পর আর কিছুই নেই। ফলে আমাদের মনের অবস্থা হয়েছে এমন যে, ‘যত পার ফুর্তি করো। লুটেপুটে খাও আর উপভোগ করো।’ অথচ চরম বাস্তবতা হলো, মৃত্যুর পর আরেকটি জগৎ আছে। আমাদের সবাইকে সেখানে চলে যেতে হবে। এ জীবনে আমরা যা করেছি তার হিসাব হবে। প্রতিটি ভালো ও মন্দ কাজের হিসাব হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তা-ও দেখতে পাবে।’ (সূরা জিলজাল : ৭-৮)।
যারা আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের আল্লাহ জান্নাত দান করবেন। আর যারা অবাধ্য হয়েছে তাদের দেবেন জাহান্নাম। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে এমন সুন্দর চমৎকার পুরস্কার দেবেন, যা সে কোনো দিন দেখেনি। কানেও শোনেনি। এমনকি তার কল্পনায়ও আসেনি যে, পুরস্কার এত সুন্দর হতে পারে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে কোনো পাখি উড়তে দেখে তোমাদের মনে তার গোস্ত খাওয়ার বাসনা সৃষ্টি হবে। তৎক্ষণাৎ তা ভাজা অবস্থায় সামনে আনীত হবে।’ অন্য হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি জান্নাতি ব্যক্তি নিজ গৃহে সন্তান জন্মের বাসনা করে; তবে গর্ভধারণ, প্রসব, শিশুর দুধ ছাড়ানো এবং যৌবনে পদার্পণ সব এক মুহূর্তের মধ্যে হয়ে যাবে।’ (মারেফুল কোরআন; সূরা হামিম সাজদাহ, ৩১নং আয়াতের তাফসির)।

লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আরাবিয়া আহসানুল উলুম, ৭০/১, উত্তর আদাবর, ঢাকা-১২০৭


প্রথমে গুণ্ডামি করে মসজিদটা ভাঙা
এ রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হলো, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি
বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাবরি মসজিদের রায়
বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ভারতে হিন্দু-মুসলমান সংঘাত আরও
বিস্তারিত
অবসরে যাওয়ার আগে আরেকটি অন্যায্য
বাবরি মসজিদের নিচে থাকা স্থাপনাটি ঠিক কী ছিল। তা সুনির্দিষ্ট
বিস্তারিত
৫০০ বছরের ইতিহাসে ঐতিহাসিক বাবরি
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে শহীদ হওয়া ভারতের উত্তর প্রদেশের বাবরি মসজিদের
বিস্তারিত
ট্রাম্পের অভিশংসন
৭ নভেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আরবি-ইংরেজি সংবাদমাধ্যম নিউ অ্যারাবে
বিস্তারিত
ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দ শোভাযাত্রা রাজধানীতে
ইবাদত-বন্দেগি, মিলাদ, জসনে জুলুস, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির
বিস্তারিত