হজ তথ্য কর্নার

যেভাবে দাঁড়াব প্রিয় নবীর (সা.) সামনে

ইসলাম-পূর্ব যুগে মদিনা শরিফের নাম ছিল ইয়াসরিব। রাসুলে করিম (সা.) এর হিজরতের পর এ শহরের নাম হয় মদিনাতুন্নবী বা নবীজির শহর। এখন বলা হয় মদিনা। সোনার মদিনা, প্রাণের মদিনা। মোমিন-মুসলমানদের প্রাণের ভূমি। মদিনা শরিফ হলো নবীজি (সা.) এর প্রিয় শহর, শান্তির নগর। 

হাদিস শরিফে রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘যে আমার রওজা জিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।’ (বায়হাকি : ৩৮৬২)। তিনি আরও বলেন, ‘যে হজ করল কিন্তু আমার রওজা জিয়ারত করল না; সে আমার প্রতি অন্যায় করল।’ (ইবনে হিব্বান, দারা কুতনি, দায়লামি শরিফ)। ফকিহদের মতে, হাজীদের জন্য মদিনা শরিফ জিয়ারত করা সুন্নত। পাকিস্তানের প্রখ্যাত মুফতি এবং হানাফি মাজহাবের জবরদস্ত আলেম আল্লামা ইউসুফ ইসলাহি তার আসান ফিকাহ গ্রন্থে লিখেছেন, হাজীদের জন্য রওজা শরিফ জিয়ারত করা ওয়াজিব।
জান্নাতপ্রত্যাশী প্রতিটি মোমিন মুসলমানের অন্তর সর্বদা উন্মুখ হয়ে থাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত ও পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারা দেখার জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রওজাপাকের সবুজ গম্বুজ তো বেহেশতের একটি নিদর্শন, যা দর্শনে শুধু চোখ পবিত্র হয় না, প্রশান্তিতে ভরে ওঠে হৃদয় ও মন। সবুজ গম্বুজের চতুর্দিকে রহমতের এমন স্রোতধারা প্রবহমান, যার প্রস্রবণে কার না অবগাহন করতে ইচ্ছে করে। কার না মন চায় হৃদয় উজাড় করে বাদশাহর বাদশাহ কামলিওয়ালা নবীকে (সা.) কে সালাম জানাতে! কারণ এখানেই শুয়ে আছেন সুলতানে মদিনা, রাহমাতুল্লিল আলামিন, মোহাম্মদ মোস্তফা আহমাদ মোজতবা (সা.)।
জান্নাতি নিশান রওজাপাকের জিয়ারতে রয়েছে অধিক পুণ্য ও ফজিলত, যা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা সমর্থিত ও উত্তম ইবাদত হিসেবে গণ্য। রওজাপাকের জিয়ারতের ফজিলত কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। 
আল কোরআনের আলোকে : কোরআনে রওজাপাকের জিয়ারতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যদি তারা নিজেদের আত্মার ওপর জুলম করে তাহলে যেন তারা আপনার দরবারে আসে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং রাসুল (সা.) যদি তাদের জন্য ক্ষমা চেয়ে সুপারিশ করেন তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও দয়ালু পাবে। (সূরা নিসা : ৬৪)। 
এ আয়াতের ব্যখ্যায় আল্লামা কাজী আয়াজ তার আশ-শিফা গ্রন্থে বলেন, নবীজির জীবদ্দশায় যেমন এই আয়াতের আমল প্রযোজ্য ছিল, তেমনি হুজুরের ওফাতের পরও এই আয়াতের আমল হুবহু অবিকল কার্যকর থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রওজা শরিফের কাছে গিয়ে তার উসিলা দিয়ে ক্ষমা চাইলে, দোয়া করলে হুজুর (সা.) ওই উম্মতের জন্য সুপারিশ করবেন এবং আল্লাহতায়ালা তাকে ক্ষমা করবেন, তার দোয়া কবুল করবেন।  
হাদিসের আলোকে : রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার রওজা মোবারক জিয়ারত করল তার জন্য আমার শাফায়াত (সুপারিশ) ওয়াজিব হয়ে গেল। (বায়হাকি)। আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে মদিনায় উপস্থিত হয়ে আমার রওজা জিয়ারত করবে কেয়ামত দিবসে আমি তার পক্ষে সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব। (বায়হাকি)। অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ শরিফ হজ করল অথচ আমার রওজা জিয়ারত করল না, মূলত সে আমার ওপর জুলুম করল। (ইবনু হিব্বান, দারা কুতনি এবং দায়লামি)।
যেভাবে দাঁড়াব প্রিয় নবীর (সা.) সামনে : রাসুল (সা.) এর রওজাপাক হাজারো বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তার শান ও মর্যাদা মহান আল্লাহ প্রদত্ত। এই মহিমান্বিত পুণ্যস্থান জিয়ারতে আদব বজায় রাখা ঈমানের দাবি। আসুন জেনে নিই কীভাবে আদবের সঙ্গে রওজা শরিফ জিয়ারত করব। 
দেহ-মনে পবিত্র হয়ে নিন। সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হোন। খুশবু মেখে নিন মন ভরে। দুরু দুরু বুকে পা ফেলুন। প্রবেশ করুন মসজিদে নববিতে। বারবার মনকে বলুন, এই মসজিদেই জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন দোজাহানের বাদশাহ সরকারে কায়েনাত উম্মতের কা-ারি নবী (সা.)।
রিয়াজুল জান্নাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়–ন। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিগলিত হয়ে নবীজির প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করতে থাকুন। খুব আদবের সঙ্গে বিনয়ের সুরে বলুনÑ ‘আস-সালাতু আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ।’ তারপর হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) এর প্রতি সালাম পেশ করুন এবং তাদের মাজার জিয়ারত করুন। 
জিয়ারতের সময় হৃদয়-মন পরিপূর্ণ বিনয়াবনত ও সম্পূর্ণ নম্র করে ফেলুন। সাবধান! রওজাপাকে উচ্চ আওয়াজে কথা বলা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকুন। প্রিয় নবীকে অসিলা করে আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে দোয়া করুন। নবীপ্রেমে সিক্ত হৃদয়ে অঝোরে কাঁদুন। দুই চোখের অশ্রুতে নিজের ভেতরের সব পাপ-তাপ ধুয়ে-মুছে সাফ করে নিন। বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করুন। আরও বেশি সালাত সালাম পেশ করুন।  
হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) এবং জান্নাতুল বাকিসহসহ সব সাহাবি, উম্মাহাতুল মুমেনিন, সারা বিশ্বের মুসলমান নর-নারীর জন্য দোয়া করুন। দোয়ায় একথাও বলুন, ওগো আমার প্রেমময় আল্লাহ! এই জিয়ারতই যেন আমার শেষ জিয়ারত না হয়। বারবার যেন তোমার প্রিয় হাবিবের রওজা শরিফ জিয়ারত এবং প্রিয় নবী (সা.) এর দিদার নসিব হয়। 


প্রথমে গুণ্ডামি করে মসজিদটা ভাঙা
এ রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হলো, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি
বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাবরি মসজিদের রায়
বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ভারতে হিন্দু-মুসলমান সংঘাত আরও
বিস্তারিত
অবসরে যাওয়ার আগে আরেকটি অন্যায্য
বাবরি মসজিদের নিচে থাকা স্থাপনাটি ঠিক কী ছিল। তা সুনির্দিষ্ট
বিস্তারিত
৫০০ বছরের ইতিহাসে ঐতিহাসিক বাবরি
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে শহীদ হওয়া ভারতের উত্তর প্রদেশের বাবরি মসজিদের
বিস্তারিত
ট্রাম্পের অভিশংসন
৭ নভেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আরবি-ইংরেজি সংবাদমাধ্যম নিউ অ্যারাবে
বিস্তারিত
ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দ শোভাযাত্রা রাজধানীতে
ইবাদত-বন্দেগি, মিলাদ, জসনে জুলুস, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির
বিস্তারিত