হজ তথ্য কর্নার

সম্মানিত জিলকদ মাসে করণীয়

বিশাল পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহর হুকুমে সৃষ্টির নিয়মে এ বিশ্বের সবকিছু পরিচালিত হয়। ঠিক তেমনি দিন-রাত ও একটি বছরের বারটি মাস মহান আল্লাহর হুকুমেই অতিবাহিত হয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি। রাতের নিদর্শনকে বানিয়েছি আলোহীন এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল। যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ তালাশ করতে পার এবং মাস ও বছরের হিসাব জানতে সক্ষম হও। এভাবে আমি প্রত্যেকটি জিনিসকে আলাদাভাবে পৃথক করে রেখেছি।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ১২)।
আবার মাসের সূচনা হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি তাদের বলে দিন এটা মানুষের (বিভিন্ন কাজকর্মের) এবং হজের সময় নির্ধারণ করার জন্য।’ (সূরা বাকারা : ১৮৯)। অন্যত্র এরশাদ করেনÑ ‘সূর্য ও চন্দ্র একটি হিসাবের মধ্যে আবদ্ধ আছে।’ (সূরা রহমান : ৫)।
দিন ও রাতের পরিক্রমায় আমরা এখন হিজরি জিলকদ মাস অতিবাহিত করছি। জিলকদ আরবি মাসগুলোর ১১তম মাস। জিলকদ হজের মাস। জিলকদ সম্মানিত মাস ‘আশহুরুল হুরুম’ তথা নিষিদ্ধ মাস। জিলকদ মোমিনের বিশ্রামের মাস। আশহুরে হুরুমের মাহাত্ম্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘যখন আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই আল্লাহর লিখন ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারো চলে আসছে। এর মধ্যে চারটি হারাম মাস। এটিই সঠিক বিধান। কাজেই এ চার মাসে নিজেদের ওপর জুলুম করো না।’ (তওবা : ৩৬-৩৭)।
উল্লেখিত নিষিদ্ধ চারটি মাস হলোÑ জিলকদ, জিলহজ, মোহররম ও রজব। পূর্ববর্তী নবীদের যুগেও এ চারটি মাস অতি বরকতময় ও সম্মানিত মনে করা হতো এবং তাদের শরিয়া মতে এ মাসগুলোতে সব ধরনের ইবাদতের সওয়াব বেশি এবং গোনাহের পরিণামও তুলনামূলক ভয়াবহ। এছাড়া এসব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ, কলহ-বিবাদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ছিল। পবিত্র কোরআনে চারটি জিনিসকে মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও তাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১. বাইতুল্লাহ শরিফ, ২. সম্মানিত চার মাস অর্থাৎ আশহুরে হুরুম, ৩. হাদি অর্থাৎ ওই পশু, যার গলায় মালা পরিয়ে হারাম শরিফে নিয়ে যাওয়া হয় কোরবানি করার জন্য। ৪. কলায়েদ অর্থাৎ গলার হার। ইসলাম-পূর্ব আরবের প্রথা ছিল, যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে রওনা করত, সে হজের নিদর্শনস্বরূপ একটি মালা গলায় পরে নিত (যেমন বর্তমান সময়ে হাজীরা তাদের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে রাখেন)। এটি ছিল কারও অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য। আবু বকর আল জাসসাস (রহ.) বলেন, এ চারটি মাসকে ‘হুরুম’ বলার কারণ দুটিÑ 
১. এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম, যা মুশরিকরাও মানত।
২. অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে গোনাহের পরিণতি বেশি ভয়াবহ এবং ইবাদতের প্রতিদান অনেক বড়।
আশহুরল হুরুম তথা সম্মানিত চারটি মাসের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আবু বকর আল জাসসাস (রহ.) বলেন, এ মাসগুলোতে ইবাদতে অভ্যস্ত হলে অন্য মাসেও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ অটুট থাকবে। আর এ মাসে গোনাহ ও মন্দ কাজগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারলে অন্য মাসেও এর থেকে বেঁচে থাকা সহজ হবে। নিষিদ্ধ মাসগুলো বড়ই মর্যাদাসম্পন্ন। এ মাসগুলোতে পাপ ও শাস্তির দিক দিয়ে এবং সওয়াব ও প্রতিদান প্রাপ্তির দিক দিয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। (তাবারি ১৪/২৩৮)। সুতরাং যারা এ নিষিদ্ধ মাসগুলোকে সম্মান না করে পাপাচারে লিপ্ত হবে নিশ্চই তারা সীমালঙ্ঘনকারী আর সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেন, ‘যে ইচ্ছা করে পাপ কাজের সীমালঙ্ঘন করে তাকে আমি আস্বাদন করাব মর্মন্তুদ শাস্তি।’ (সূরা হজ-২২:২৫)।
আশহুরুল হুরুম তথা সম্মানিত মাসগুলোতে নেক আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং এ মাসের বর্জনীয় আমল সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘অতএব তোমরা এ মাসগুলোর ব্যাপারে নিজেদের ওপর জুলুম করো না।’ (সূরা তওবা : ৩৭)।
‘নিজেদের ওপর জুলুম করো না’ এর তাৎপর্য হলো মক্কার মুশরিকদের মতো তাদের সুবিধামতো মাসগুলোর নাম বদলের মাধ্যমে বিন্যাস পরিবর্তন করে সম্মানিত মাসেও যুদ্ধবিগ্রহ করা। কিংবা এসব মাসের নির্দিষ্ট বিধি-বিধান ও সম্মানের প্রতি ভ্রƒক্ষেপ না করা এবং ইবাদতে অবহেলা করা। পাপাচারে লিপ্ত হয়ে নিজেই নিজের অমঙ্গল ডেকে আনা। যদিও এখন সরাসরি যুদ্ধ নেই; কিন্তু প্রত্যেকেই ছোট ছোট যুদ্ধে প্রতিনিয়তই লিপ্ত আছি, সম্মানিত মাসের সম্মানে এগুলো বন্ধ করা উচিত। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ মানবজাতির মধ্য থেকে রাসুলদের মনোনীত করেছেন। জমিনের মধ্যে মসজিদগুলোকে মর্যাদা দিয়েছেন। মাসগুলোর মধ্যে রমজান ও হারাম মাসগুলোকে সম্মানিত করেছেন। দিনের মধ্যে শুক্রবারকে, রাতের মধ্যে লাইলাতুল কদরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এভাবে আল্লাহপাক যেভাবে ইচ্ছা করেছেন একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সুতারাং যেগুলোকে আল্লাহ তায়ালা মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন সেগুলোর মর্যাদার প্রতিও আমাদেরও লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য।


ঊর্ধ্বলোকের সূর্যের সন্ধানী হও
  এক লোকের বউটা ছিল দুষ্টু প্রকৃতির, লোভী ও পেটুক। তবুও
বিস্তারিত
পাথেয়
প্রত্যেকের সঙ্গে ফেরেশতা ও  শয়তান থাকে যুবাইর বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত,
বিস্তারিত
কয়েকটি অবহেলিত সুন্নত
  রাসুল (সা.) এর সুন্নত থেকে মানুষ যতই বিস্মৃত হয়ে পড়ছে;
বিস্তারিত
কোরআনের পুরোনো কপি
  প্রশ্ন : আমাদের মসজিদে কোরআনের পুরোনো অনেক কপি আছে। যেগুলো
বিস্তারিত
হিংসা-বিদ্বেষ সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক
হিংসা-বিদ্বেষ সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক মাহফুজ আল মাদানী হিংসা বা ঈর্ষার দুটি দিক
বিস্তারিত
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো
  মানবহৃদয়ের সবচেয়ে জঘন্য রোগ হতাশা, যা অনুভূতিকে মেরে ফেলে। নিরাশা,
বিস্তারিত