‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি যেভাবে পরিণত হলো মুসলিম হত্যার হুংকারে

সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা তার কাপড়-চোপড় এবং দাড়ি নিয়ে বিদ্রƒপ করে এবং তাকেও ‘জয় শ্রীরাম’ সেøাগান দিতে বলে। তিনি যখন অস্বীকৃতি জানান, তখন তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীরে আঘাত পেয়েছেন। তবে ‘জয় শ্রীরাম’ সেøাগান দিয়ে লোকজনকে হেনস্তা করাটা শুধু রাস্তাঘাটেই সীমাবদ্ধ নেই। এ সেøাগান এখন ঢুকে গেছে ভারতীয় পার্লামেন্টেও

গত মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে, ঝাড়খ- রাজ্যে এক মুসলিম যুবককে খুঁটিতে বেঁধে চারদিক থেকে তার ওপর হামলা চালাচ্ছে একদল হিন্দু।
২৪ বছর বয়সি মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারীকে ভিডিওতে তার প্রাণভিক্ষা চাইতে দেখা যায়। তার মুখ রক্তাক্ত, চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে পানি। হামলকারীরা তাকে বাধ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে। হিন্দিতে জয় শ্রীরাম মানে হচ্ছে দেবতা রামের জয়। উন্মত্ত হিন্দু জনতার হামলার মুখে তাবরেজ আনসারী বাধ্য হলেন ‘জয় শ্রীরাম’ সেøাগান দিতে। এরপর তাকে তুলে দেওয়া হলো পুলিশের হাতে। পুলিশ তাকে হাজতে পাঠাল। তার পরিবারকে পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হলো না। চার দিন পর আহত তাবরেজ আনসারী মারা গেলেন।
তাবরেজ আনসারীই একমাত্র মুসলিম নন; যার ওপর এভাবে হামলা করা হলো। জুন মাস ছিল ভারতীয় মুসলিমদের জন্য বেশ রক্তাক্ত একটি মাস। আরও অনেক মুসলিম একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন ভারতের নানা জায়গায়। আসাম রাজ্যের বড়পেটা জেলায় একদল মুসলিম তরুণের ওপর একইভাবে হামলা চালানো হয়। তাদেরও ‘জয় শ্রীরাম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয়। 
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ২৫ বছর বয়সি এক মুসলিম ট্যাক্সি ড্রাইভারকে মারধর এবং অপমান করে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে বলা হয়। ফয়জল ওসমান খান জানিয়েছিলেন, তার ট্যাক্সি যখন বিকল হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি সেটি ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। তখন তার ওপর হামলা হয়। এক যাত্রী পুলিশে খবর দেওয়ার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কলকাতায়। একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ সাহরুখ হালদার ট্রেনে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। ট্রেনে একদল লোক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে তাকে নাজেহাল করে। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা তার কাপড়-চোপড় এবং দাড়ি নিয়ে বিদ্রƒপ করে এবং তাকেও ‘জয় শ্রীরাম’ সেøাগান দিতে বলে। তিনি যখন অস্বীকৃতি জানান, তখন তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীরে আঘাত পেয়েছেন।
তবে ‘জয় শ্রীরাম’ সেøাগান দিয়ে লোকজনকে হেনস্তা করাটা শুধু রাস্তাঘাটেই সীমাবদ্ধ নেই। এ সেøাগান এখন ঢুকে গেছে ভারতীয় পার্লামেন্টেও। ১৭ জুন নতুন পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের প্রথম অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। মুসলিম এবং বিরোধী এমপিরা যখন শপথ নিতে উঠে দাঁড়ালেন, তখন নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যরা তাদের হেনস্তা করে।
সংখ্যালঘুদের ওপর এ আক্রমণের নিন্দা করেছেন বিরোধী রাজনীতিকরা। রাহুল গান্ধী বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতির পদে ইস্তফা দেওয়ার আগে বলেছিলেন, তাবরেজ আনসারীকে যেভাবে জনতা হত্যা করেছে, তা মানবতার কলংক। এ রকম ঘটনা যেভাবে বাড়ছে তাতে অনেক সমালোচকই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কার্টুনিস্ট সতীশ আচার্য এদের একজন।
এবারের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর অবশ্য মোদি তার আগের সেøাগান ‘সবকা সাথ, সবকা ভিকাস’ এর সঙ্গে আরেকটি সেøাগান যুক্ত করলেন, ‘সবকা বিশ্বাস’। তখন এমন একটি আশাবাদ তৈরি হয়েছিল যে, তার এবারের মেয়াদের সরকার হয়তো ভিন্ন কিছু হবে। কিন্তু বহু ভারতীয়ের মনেই সংশয়, সরকার আসলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত