হজ তথ্য কর্নার

হজের তালবিয়া

হজের সেøাগান ও প্রধান মৌখিক আমল হলো তালবিয়া। তালবিয়া হজের শোভা, সৌন্দর্য ও নিদর্শন। 
তালবিয়ার পরিচয় 
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।
অর্থ : ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা ও নেয়ামত তোমার এবং রাজত্বও, তোমার কোনো শরিক নেই।’ (বোখারি : ৫৪৬০)। 
তালবিয়া পড়ার নিয়ম 
পুরুষরা ইহরাম বাঁধার সময় ও পরে উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন। রাসুলুুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার কাছে জিবরাইল এসে আদেশ দিলেন। আমি যেন আমার সঙ্গীদের তালবিয়া দ্বারা তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করতে নির্দেশ দিই।’ (আবু দাউদ : ১৮১৪)।
পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রেই তালবিয়া পাঠ ও অন্যান্য জিকিরের গুরুত্ব সমান। পার্থক্য এতটুকু যে, মহিলারা পুরুষের মতো উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে না। নিজে শুনতে পারে; এতটুকু আওয়াজে মহিলারা তালবিয়া পাঠ ও অন্যান্য জিকির করবে। ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, আলেমরা এ ব্যাপারে একমত যে, মহিলাদের ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর উঁচু না করাই সুন্নত। মহিলারা এমনভাবে তালবিয়া পাঠ করবেন যেন তারা শুধু নিজেরাই শুনতে পান। তাদের আওয়াজে ফেতনার আশঙ্কা আছে বিধায় তাদের স্বর উঁচু করাকে অপছন্দ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের জন্য আজান ও একামত সুন্নত নয়। নামাজে ভুল শুধরে দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সুন্নত হলো তাসফিক তথা মৃদু তালি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা। (বোখারি : ৬৮৪)। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে, তাসবিহ বা সুবহানাল্লাহ বলে ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মহিলারা স্বর উচ্চ করে তালবিয়া পাঠ করবে না। 
ওমরাকারী ব্যক্তি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শুরু করার পূর্ব মুহূর্তে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। আর হজ পালনকারী ব্যক্তি কোরবানির দিন জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের আগ পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুুল্লাহ (সা.) জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতেন।’ (বোখারি : ১৫৪৪; মুসলিম : ১২৮১)। 
তালবিয়ার পাঠের ফজিলত 
১. তালবিয়া পাঠ হজ-ওমরার সেøাগান। কেননা তালবিয়া পাঠের মধ্য দিয়ে হজ ও ওমরায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তালবিয়াতে স্বর উঁচু করার জন্য জিবরাইল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ এটি হজের বিশেষ সেøাগান।’ (ইবন খুযাইমাহ : ২৬৩০)। 
জায়েদ ইবনে খালিদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিবরাইল আমার কাছে এলেন অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, যেন আপনি আপনার সঙ্গীদের নির্দেশ প্রদান করেন যে, তারা যেন তালবিয়া দ্বারা স্বর উঁচু করে। কারণ এটি হজের সেøাগানভুক্ত।’ (তাবরানি : ৫১৭২)।
২. তালবিয়া পাঠ হজ-ওমরার শোভা বৃদ্ধি করে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অমুকের ওপর আল্লাহর অভিশাপ! তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনের ইচ্ছা করে তার শোভা মিটিয়ে দিল। আর নিশ্চয়ই হজের শোভা হলো তালবিয়া।’ (মুসনাদ আহমদ : ১/২১৭)।
৩. যে হজে উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা হয় সেটি সর্বোত্তম হজ। 
আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হজটি সবচেয়ে উত্তম? অন্য বর্ণনায় এসেছে, জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হজের মধ্যে কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং পশুর রক্ত প্রবাহিত করা।’ (তিরমিজি : ২৯২৪)। 
৪. তালবিয়া পাঠকারীর সঙ্গে পৃথিবীর জড় বস্তুগুলোও তালবিয়া পড়তে থাকে। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মোমিন ব্যক্তি যে তালবিয়া পড়ে তার সঙ্গে তার ডান-বামের গাছ-পাথর থেকে নিয়ে সবকিছুই তালবিয়া পড়তে থাকে। যতক্ষণ না ভূপৃষ্ঠ এদিক থেকে ওদিক থেকে অর্থাৎ ডান থেকে এবং বাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’ (তিরমিজি : ১৬৫৬)।


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত