আশার বেড়িবাঁধে অশনি সংকেত

বাঁশখালীতে সদ্যনির্মিত বাঁধের ব্লকধসে শঙ্কিত উপকূলবাসী

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীবাসীর জীবন রক্ষার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধের ব্লকধসে পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও সাগরের প্রবল জোয়ারের তোড়ে এই নবনির্মিত বেড়িবাঁধের ব্লকগুলো ধসে পড়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে উপকূলবাসী।

সরজমিনে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের ব্লকগুলো সরে গিয়ে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। ব্লক সরে যাওয়ায় ওই স্থানে বাঁধের মাটিগুলো ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্নের একমাত্র বেড়িবাঁধ নির্মাণ হতে না হতেই এভাবেই ভেঙে পড়ছে। এ যেন আশার বেড়িবাঁধে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। 

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের তোড়ে ব্লকগুলো সরে গিয়ে মাটি ভেঙে পড়ছে। নতুন নির্মিত বেড়িবাঁধের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমাদের আর নিরাপত্তা কোথায়। পূর্বের ন্যায় যেকোনো সময় জোয়ারের পানি আমাদের বসতবাড়ি ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। 

সূত্রমতে, বিগত দিনে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে অরক্ষিত উপকূলে সাধারণ মানুষের জানমাল,  বসতবাড়ি ও গৃহপালিত পশু পানিতে ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপকূলবাসীর এই দুর্দশা লাঘবে স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাঁশখালীর সুদীর্ঘ উপকূলে ২৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ করা হয়। প্রায় কাজ সম্পন্ন করা হলেও ছনুয়া উপকূলের কিছু অংশে এখনো বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ না হওয়ায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

এদিকে শুরু থেকেই এই বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল স্থানীয় জনসাধারণের। নিম্নমানের বালি ও লবণাক্ত নিম্নমানের পাথর দিয়ে কাজ চলছে বলে সমালোচনার মুখে এই বাঁধ নির্মাণকাজ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদাররা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন সম্পূর্ণরূপে। কিন্তু এলাকাবাসীদের প্রশ্ন ছিল স্বপ্নের এই বেড়িবাঁধ আদৌ টেকসই হবে কিনা?

সম্প্রতি গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও সাগরের প্রচণ্ড জোয়ারের তোড়ে এই বেড়িবাঁধের ব্লকগুলো সরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর সেই প্রশ্নের প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। পূর্বের ন্যায় জানমাল নিয়ে অনেকটা শঙ্কায় রয়েছেন তারা। যেন আশার বেড়িবাঁধে ধোঁয়াসার সৃষ্টি!

পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁশখালী দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী ধীমান কৃষ্ণ চৌধুরী বলেন, বেড়িবাঁধের যে অংশে ব্লক সরে গেছে তা রিপিয়ারিং করা হচ্ছে। বেড়িবাঁধ করার সময় জিআর ২.৮ থাকলে বর্তমানে জিএল ১.৫-এ চলে এসেছে। তাছাড়া ডিজাইনের ইঞ্জিনিয়ার এসে ডাম্পিং ভলিয়ম ৩.৭-এর থেকে ডাম্পিং ভলিয়ম ৮.১২ এ উত্তীর্ণ করার কাজ করছে। বর্তমানে বৃষ্টি কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। 
এদিকে দীর্ঘদিনের আশার এই বেড়িবাঁধ যথাযথভাবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণ। 


পুলিশের গুলিতে দুই আনসার সদস্য
সিরাজগঞ্জে অসতর্কতায় পুলিশ কনস্টেবলের গুলিতে দুই আনসার সদস্য আহত হয়েছেন।
বিস্তারিত
‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী
আশুলিয়ায় চিরকুট লিখে আখি আক্তার (১৫) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা
বিস্তারিত
ফেনী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত
জমকালো আয়োজনে ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
বিস্তারিত
ফেনীতে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের সমিতি বাজার এলাকায় দলীয় আধিপত্য
বিস্তারিত
বিএনপি-জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করা হবে: নাসিম
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতকে বাংলাদেশ থেকে
বিস্তারিত
রাজশাহী জেলা আ.লীগের সভাপতি মেরাজ,
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি
বিস্তারিত