জমজমের পানিতে অলৌকিক নিদর্শন

জমজম কূপের পানি আল্লাহর কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব হাজী হজ করতে যান, তারা নিজেরা জমজমের পানি পান করে থাকেন এবং দেশে ফেরার পথে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের জন্য জমজমের পানি নিয়ে আসেন। আল্লাহ তায়ালার তৌহিদের বিস্ময়কর নিদর্শন এ কূপের পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটে কূপটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়

 

আল্লাহর কুদরতের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। তিনি যেমন অসীম ও অনন্ত, তাঁর নিদর্শনাবলির শেষ বলতে কিছু নেই। আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন হলো জমজমের পানি। পৃথিবীর জমিনের সর্বোৎকৃষ্ট পানি হলো জমজমের পানি। এ পানি যেমন পবিত্র, তেমনি বরকতময় ও সুস্বাদু। জমজমের পানি খাওয়ার স্বাদ কখনও মেটে না। জমজমের পানি পানে শুধু তৃষ্ণাই মেটে না; বরং ক্ষুধা নিবারণ হয়, রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) সবসময় জমজমের পানি সঙ্গে রাখতেন। তিনি নিজে জমজমের পানি পান করতে পছন্দ করতেন। রোগ-বিমারের দাওয়াই হিসেবে অন্যদের জমজমের পানি পান করতে বলতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) জমজমের পানি পান করতেন। সফরে বের হলে জমজমের পানি সঙ্গে রাখতেন। এ পানি অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন।’ (সুনানে তিরিমিজি ও বায়হাকি)।
পবিত্র কাবা ঘর থেকে মাত্র ২১ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে জমজম কূপের অবস্থান। আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে স্ত্রী হাজেরা (আ.) এবং শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.) কে মক্কার ফারান পাহাড়ের পাদদেশে এক জনমানবহীন স্থানে নির্বাসন দেন। ইবরাহিম (আ.) প্রিয়তমা স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে বিরান মরুভূমির পাহাড়ের পাদদেশে রেখে সামান্য আহার সামগ্রী সঙ্গে দিয়ে ফেরত চলে আসেন। ওই সময়কালে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত বিবি হাজেরা (আ.) এবং ইসমাইল (আ.) এর আশপাশে দ্বিতীয় কেউ ছিল না। হজরত ইবরাহিম (আ.) এর রেখে যাওয়া সামান্য আহার সামগ্রী শেষ হয়ে যাওয়ার পর; কোনো একসময় হজরত ইসমাইল (আ.) পানির পিপাসায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। বিবি হাজেরা শিশুপুত্রের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানির খোঁজে চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। বিবি হাজেরা (আ.) পানির খোঁজে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সাতবার ছোটাছুটি করেছেন। কোথাও কোনো পানির সন্ধান পাননি। অবশেষে পানির খোঁজে ব্যর্থ হয়ে শিশুপুত্রের কাছে ফিরে আসেন। হঠাৎ করে বিবি হাজেরা দেখতে পান শিশুপুত্রের পায়ের গোড়ালির ঘষায় আল্লাহর হুকুমে নিচ থেকে পানি উঠছে এবং একটি ঝরনার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ঝরনাটি পরবর্তী সময়ে জমজম কূপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 
জমজম কূপের পানি আল্লাহর কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব হাজী হজ করতে যান, তারা নিজেরা জমজমের পানি পান করে থাকেন এবং দেশে ফেরার পথে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের জন্য জমজমের পানি নিয়ে আসেন। আল্লাহ তায়ালার তৌহিদের বিস্ময়কর নিদর্শন এ কূপের পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটে কূপটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জমজম কূপের সৃষ্টি থেকে আজও পানির স্বাদ, গন্ধ ও গুণাগুণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জমজমের পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমাণ বেশি থাকায় এ পানিতে কোনো জীবাণু জন্মাতে পারে না। আজ পর্যন্ত জমজমের পানিতে একটি ছত্রাক কিংবা শৈবালও জন্মায়নি। অলৌকিকভাবে জমজমের পানি পরিশোধন হয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা জমজম কূপের পানি রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না।
জমজমের পানি সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস এবং বর্ণনায় এসেছে, যে উদ্দেশ্যে জমজমের পানি পান করবে, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ইচ্ছা পূরণ করে দেন। হাজীদের অনেকে জমজমের পানি রোগ-বিমার থেকে আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে পান করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা হাজীদের অনেকেরই শেফা দান করেছেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের জমজমের পানি পানের তৌফিক দান করুক। আমিন। 

লেখক : ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক


বাবা হোক লোকমান হাকিমের মতো
সপ্তম উপদেশ সামাজিক শিষ্টাচার সম্পর্কে : এরশাদ হয়েছে: “অহংকারবশে তুমি
বিস্তারিত
মুসলিম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শংকরপাশা শাহি
কালের বিবর্তনে এক সময় মসজিদ সংলগ্ন এলাকা বিরান ভূমিতে পরিণত
বিস্তারিত
শ্রীমঙ্গলে তুর্কি নকশায় নির্মিত দৃষ্টিনন্দন
  চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী। সবুজ বনানী, পাহাড়
বিস্তারিত
মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত