হজ তথ্য কর্নার

হজে মাথা মুন্ডানোর ফজিলত

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) মিনায় পৌঁছে প্রথমে জামরায় গেলেন এবং তাতে কঙ্কর মারলেন। অতঃপর মিনায় অবস্থিত তাঁর ডেরায় গেলেন এবং কোরবানির পশুগুলো জবাই করলেন, তৎপর নাপিত ডাকলেন এবং তাকে আপন মাথার ডান দিক বাড়িয়ে দিলেন। সে তা মু-ন করল


হজ ও ওমরার বিধানাবলির মধ্যে মাথা মু-ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি ওয়াজিব। ওমরায় মাথা মু-ন করতে হয় সায়ি করার পর মারওয়ায়, আর হজে কোরবানির পর মিনায়। হজ ও ওমরায় মাথা মু-ানো ও ছাঁটানো উভয়টি জায়েজ আছে। তবে হজে মাথা মু-ানো ছাঁটানো অপেক্ষা উত্তম। কিন্তু তামাত্তুকারীদের পক্ষে ওমরার পর ছাঁটানোই উত্তম, যাতে হজের পর মু-ানোর জন্য কিছু চুল বাকি থাকে। এভাবে হজের মৌসুমে মাথা মু-ন বা ছাঁটানো একটি বিশেষ ইবাদত। এটি পালন করা না হলে হজ বা ওমরা অনাদায়ী থেকে যাবে। তাই ইসলামি শরিয়তে হজ বা ওমরা পালনকালীন মাথা মু-নকে ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে। তবে পুরুষের জন্য মাথা মু-ন বা ছাঁটানো উভয়টি জায়েজ, আর নারীর ক্ষেত্রে শুধু ছাঁটানো জায়েজ।  
হাদিসে মাথা মু-নের ফজিলত : হজ ও ওমরায় মাথা মু-নকে ছাঁটানো অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে। এমনকি মাথা মু-নকারীর জন্য বিশেষভাবে তিনবার দোয়া করা হয়েছে। তাই হাজিদের জন্য মাথা মু-নই উত্তম। নবীজি (সা.) স্বয়ং মাথা মু-নকে পছন্দ করতেন। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি অনুগ্রহ করো যারা মাথা মু-ন করেছে তাদের প্রতি।’ সাহাবারা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যারা মাথা ছাঁটিয়েছে তাদের প্রতিও। রাসুল বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি অনুগ্রহ করো যারা মাথা মু-ন করেছে তাদের প্রতি।’ সাহাবারা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যারা মাথা ছাঁটিয়েছে তাদের প্রতিও। রাসুল তৃতীয়বার বললেন, ‘যারা মাথা ছাঁটিয়েছে তাদের প্রতিও।’ (বোখারি : ১৭৫৪; মুসলিম : ৩২০৫)।  
আরেক হাদিসে আছে, হজরত ইয়াহইয়া ইবনে হুসাইন (রা.) তার দাদি থেকে বর্ণনা করেন যে, তার দাদি বলেন, বিদায় হজে আমি নবী করিম (সা.) কে মাথা মু-নকারীদের জন্য তিনবার দোয়া করতে শুনেছি, আর যারা ছাঁটিয়েছে তাদের জন্য শুধু একবার দোয়া করলেন। (মুসলিম : ৩২১০)।
মাথা ডান দিক থেকে মু-ন সুন্নত : মাথা মু-ানোর ক্ষেত্রে শুধু মু-ন করলেই সওয়াবের পরিপূর্ণতা লাভ করবে না। এতে সুন্নত তরিকার অবলম্বন করতে হবে। ডান দিক থেকে মাথা মু-ানো সুন্নত। তাই হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য উচিত ডান দিক থেকে মাথা মু-ন শুরু করা। এভাবেই নবী করিম (সা.) হজে স্বীয় মাথা মোবারক মু-ন করতেন। 
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) মিনায় পৌঁছে প্রথমে জামরায় গেলেন এবং তাতে কঙ্কর মারলেন। অতঃপর মিনায় অবস্থিত তাঁর ডেরায় গেলেন এবং কোরবানির পশুগুলো জবাই করলেন, তৎপর নাপিত ডাকলেন এবং তাকে আপন মাথার ডান দিক বাড়িয়ে দিলেন। সে তা মু-ন করল। তিনি আবু তালহা আনসারিকে ডেকে কেশগুচ্ছ দিলেন। অতঃপর নাপিতকে মাথার বাঁ দিক বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, মুড়াও। সে মুড়ালো। আর তিনি তা সেই আবু তালহাকে দিয়ে বললেন, যাও মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দাও। (মুসলিম : ৩২১৫)। 

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত