পশুপাখির প্রতি নবীজির ভালোবাসা

নবীজি পশুপাখির প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। সাহাবিদের শিখিয়েছেন সৃষ্টিকুলের প্রতি দয়ার সংরাগ। তিনি বলেছেন, জগদ্বাসীর প্রতি যে দয়ার আচরণ করে না, আসমানবাসী তার ওপর দয়া করে না। তাই সব ধরনের সৃষ্টিসহ পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা, সদয় ব্যবহার ও দয়া প্রদর্শন করা ইসলামের বিধান। যারা অবুঝ পাখির প্রতি দয়া করবে না, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না

মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) কে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র বিশ্বজগতের অনুগ্রহস্বরূপ পাঠিয়েছেন। শুধু মানুষের জগৎ নয়, তাঁর অনুগ্রহের চাদর বিস্তৃত ছিল সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য। তিনি যেমন মানুষের নবী ছিলেন, তেমনি ছিলেন ফুল-পাখিদের নবী। তাঁর দয়া অবারিত ছিল পশুপাখির প্রতিও। আল্লাহর রাসুল একবার সফরে ছিলেন। পথিমধ্যে কয়েকজন সাহাবির হাতে তিনি পাখির বাসা দেখলেন। বাসায় দুটি ছানা। ছানা দুটি তারা আটকে রেখেছে। এদিকে মা পাখিটা তাদের চারপাশে ওড়াউড়ি করছে আর ডানা ঝাপটাচ্ছে। আল্লাহর রাসুল এ অবস্থা দেখে সাহাবিদের বললেন, ‘ছানা দুটিকে আটকে রেখে মা পাখিটাকে কষ্ট দিচ্ছ কেন? এক্ষুণি ছানা দুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও।’
আরেকবার আল্লাহর রাসুল দেখলেন, পিঁপড়ের দুটি বাসা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, ‘এটি কে পুড়িয়েছে? একজন সাহাবি বললেন, আমি হে আল্লাহর রাসুল! নবীজি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন। বললেন, আগুন দিয়ে শাস্তি শুধু তার, যিনি এর প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া আগুনে পোড়ানোর অধিকার কারও নেই।’ 
আল্লাহর রাসুল ছিলেন উদারতার প্রতীক। নিরীহ প্রাণীকুলের প্রতিও তিনি সীমাহীন উদার ছিলেন। একবার তিনি ওজু করছিলেন। একটি বিড়াল এলো। রাসুলের মনে হলো বিড়ালটির পিপাসা লেগেছে। তিনি ওজুর পাত্রটি ঝুঁকিয়ে দিলেন। বিড়ালটি পানি পান করল। অবশিষ্ট পানি দিয়ে নবীজি ওজু শেষ করলেন। 
আরেক দিনের ঘটনা। নবীজি কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক ব্যক্তিকে দেখলেন, মাটিতে একটি বকরি শুইয়ে রেখেছে। একদিকে সে বকরিটার ঘাড়ে পা দিয়ে চেপে ধরে রেখেছে, অন্যদিকে জবাইয়ের জন্য ছুরি ধার দিচ্ছে। আর বকরিটি করুণ নয়নে তার দিকে তাকিয়ে আছে। এ অবস্থা দেখে নবীজি খুব রাগ করলেন। বললেন, ‘তুমি কি বকরিটাকে দুবার মারতে চাও? শোয়ানোর আগে কেন ছুরি ধারালে না?’ 
একদিন নবীজি দুই ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, তারা উভয়ে উটনীর ওপর বসে খোশগল্প করছে। এ অবস্থা দেখে উটনী দুটির প্রতি নবীজির মায়া হলো। তাই তিনি পশুকে চেয়ার বানিয়ে বসতে নিষেধ করলেন। 
এভাবে নবীজি পশুপাখির প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। সাহাবিদের শিখিয়েছেন সৃষ্টিকুলের প্রতি দয়ার সংরাগ। তিনি বলেছেন, জগদ্বাসীর প্রতি যে দয়ার আচরণ করে না, আসমানবাসী তার ওপর দয়া করে না। তাই সব ধরনের সৃষ্টিসহ পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা, সদয় ব্যবহার ও দয়া প্রদর্শন করা ইসলামের বিধান। যারা অবুঝ পাখির প্রতি দয়া করবে না, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। তাদের প্রতি অবিবেচক ও অশোভন আচরণ করলে এবং শিকার বা বধ করলে এর জন্য পরকালে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। পশুপাখির প্রতি সদয় হয়ে তাদের ফরিয়াদ থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় পশুপাখির পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানসহ আল্লাহর সব সৃষ্টির প্রতি সদয় ব্যবহার এবং দয়া প্রদর্শন করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব ও অবশ্য কর্তব্য।

লেখক : শিক্ষার্থী, মারকাযুল ফিকরি ওয়াল বুহুসিল ইসলামিয়া, ঢাকা


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত