নকলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে বেড়েছে পাটের আবাদ

ধানের দরপতনের কারনে কৃষকরা ধান চাষে আস্তে আস্তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার কৃষকরা ধান ছেড়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন। উপজেলায় এবছর ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অথচ উপজেলা কৃষি অফিসের লক্ষমাত্রা ছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করার।

উপজেলায় গত বছর (২০১৮ সাল) পাটের আবাদ হয়েছিল ২৬০ হেক্টর জমিতে, যদিও ২০১৭ সালে উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছিল ৪২০ হেক্টর জমিতে। ২০১৮ সালে আউশ ধানের আবাদ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায়, উপজেলায় পাটের আবাদ কমেছিল ২০০ হেক্টর। কিন্তু এবছর ধানের দাম কম থাকার কারনে আউশ আবাদ কমেছে, পক্ষান্তরে পাটের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৯০ হেক্টর জমিতে। বিভিন্ন এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নকলা উপজেলায় এবছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট চাষী ও কৃষি কর্মকর্তারাও এমনটাই জানিয়েছেন। অন্যদিকে পাটের বাম্পার ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছিল। কিন্তু ধানের দরপতনের কারনে কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হওয়ায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়ে হয়েছে ৩৩০ হেক্টর। এরমধ্যে তোষা পাট ২৫৫ হেক্টরে, দেশি পাট ৬০ হেক্টরে, ১০ হেক্টরে কেনাফ পাট এবং ৫ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। গড়ে প্রতি হেক্টরে ১১ দশমিক ৪২ বেল হিসাবে এ বছর পাট উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তাগন। ভালো দাম পেলে আগামীতে পাটের আবাদ আরো বাড়বে বলে জানান কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাগন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এদশে সাধারনত অ্যাটম পাট-৩৮, সি-২, সিভিএল-১, সিভিই-৩, সিসি-৪৫, ডি-১৫৪-২, বিজেআরআই দেশী পাট-৮, দেশী পাট-৯, ওএম-১, ও-৪, ও-৯৮৯৭, ও-৭২, বিজেআরআই তোষা পাট-৪, বিজেআরআই তোষা পাট-৫, বিজেআরআই তোষা পাট-৬, বিজেআরআই তোষা পাট-৭, এইচসি-২, এইুস-৯৫, বিজিআরআই কেনাফ-৩ (বট কেনাফ), বিজিআরআই কেনাফ-৪ (কেই-৩ ফুন্ডুক) ইত্যাদি জাতের পাট চাষ করা হলেও, নকলায় ও-৪, ও-৭২, ও-৯৮৯৭ এবং দেশী ও ভারতীয় কিছু জাতের পাট বেশি চাষ করা হয়েছে।

বানেশ্বরদী এলাকার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান খান, আবুল হোসেন ও আমিন মিয়া, চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের সাজু সাঈদ সিদ্দিকী ও রফিক মিয়া, ভ‚রদী খন্দকারপাড়া কৃষিপন্য উৎপাদক কল্যান সংস্থার সভাপতি আলহাজ্ব মো. ছায়েদুল হকসহ অনেক পাট চাষীরা জানান, পাটের গাছ খুব ভাল হয়েছে, ফলনও খুব ভাল হবে ইনশাল্লাহ। এরিমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে বলে তারা জানান। তারা বলেন, এবছর পাটের ভালো দাম পেলে আগামীতে আবাদ অনেক বাড়বে।

পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন। কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মনি ও কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে দেশী, কেনাফ ও মেসতা জাতের পাট হেক্টরে ৬ মেট্রিকটন থেকে ৭ মেট্রিকটন হারে এবং তোষা জাতের পাট হেক্টরে ৮ মেট্রিকটন থেকে ৯ মেট্রিকটন হারে উৎপাদন হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০ জন কৃষককে প্রতিজনে ১০ শতাংশ জমিতে তোষা পাটের বীজ উৎপাদনের জন্য প্রদর্শনী প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাটের হারিয়ে যাওয়া সেই সানালী ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাট অধিদপ্তরের আওতায় কৃষকদের পাট চাষ ও উৎপাদন কলা কৌশলের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, অন্তত জেলা ভিত্তিক একটি করে হলেও সরকারি ভাবে পাট ক্রয়ের কেন্দ্র স্থাপন করতে পারলে পাট চাষে কৃষকরা আরো আগ্রহী হবে। তাছাড়া, পানি স্বল্পতার কারনে অনেক সময় কৃষকের পাটের রং নষ্ট হয়ে যায়, এমনকি মাঝেমধ্যে শুকিয়ে যায়। তাই কাঁচা অবস্থায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য স্বল্প মূল্যের রিবন রেটিং পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করার পক্ষে মতদেন তিনি। এতে নদী নালার পনির প্রয়োজন পড়বে না। বাড়ীতে ছোট গর্তে বা চাড়িতে বা গর্তে পলিথিন দিয়ে সেখানেও পাট পাঁচানো সম্ভব। এতে একদিকে সময় বাচঁবে, অন্যদিকে পাটের রং ও গুণগতমান ভালো হবে।


পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্যে আসছে টাকা,
মানুষের ব্যবহার্য্য প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত পণ্যের কারনে প্রতি মুহুর্তে পরিবেশ
বিস্তারিত
রংপুরে বেগুন চাষে বাজিমাত আ.
“পরিশ্রমে ধন আনে, পূর্ণে আনে সুখ, অলসতা দারিদ্রতা, পাপে আনে
বিস্তারিত
সন্ধ্যা নদীর পাড়ে জমজমাট ভাসমান
যুগ যুগ ধরে উপকূলীয় জেলাগুলোতে চাষাবাদ আমন ধানের। এই ধান
বিস্তারিত
নকলার জাম্বুরার কদর রাজধানীসহ সারাদেশে
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানকার জাম্বুরা
বিস্তারিত
দেড় হাজার টাকায় খামার শুরু,
গল্পের শুরুটা ২০০২ সালের। তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা প্রাণীসম্পদ অফিসারের সহযোগিতায় মাত্র
বিস্তারিত
বাণিজ্যিক ভাবে বারোমাসি সজিনা চাষের
শেরপুরের নকলা উপজেলায় বারোমাসি সজিনা ডাটা চাষের গভীর সম্ভবনা দেখা
বিস্তারিত