পরিবর্তিত ধারায় ফিরছে চবি ছাত্রলীগ

দেশব্যাপী ইতোমধ্যে ইতিবাচক রাজনীতির ধারা সৃষ্টি করেছে ছাত্রলীগের বর্তমান 'শোভন-রাব্বানী' কমিটি। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর  সিন্ডিকেট (কথিত) থেকে বের হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আর এই শোভন-রাব্বানী কমিটির অনুমোদিত কমিটির প্রথম জেলা ইউনিট হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট। এই ইউনিটের প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রয়েছে ব্যাপক আশা-ভরসা। তাই এসব নিয়ে ইউনিটটির প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির থাকবে বিশেষ দৃষ্টি। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশকে এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি সূত্র।

অন্যদিকে দীর্ঘ ১৯ মাস পর ইউনিটটির কমিটি ঘোষণা করায় উজ্জীবিত নেতা-কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি অতীতের কমিটিগুলোর ব্যর্থতা, খারাপ অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির একটা ধারা সৃষ্টি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। 

সূত্র মতে, ছাত্রলীগের গৌরব ও ঐতিহ্যে এই ইউনিটকে গতিশীল, সুসংহত করতে শনিবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সেক্রেটারি করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রুবেল-টিপুকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয় বলেও জানা যায়। যা আলোকিত বাংলাদেশকে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিতে দেখা যায়, যা ছাত্র সংগঠনগুলোকে গতানুগতিক রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলে। সেক্ষেত্রে চবি ছাত্রলীগকে ও শিক্ষার্থীদের মনোভাব বুঝে ক্যাম্পাসের দাবি অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। 

হলভিত্তিক রাজনীতিতে ফিরছে চবি ছাত্রলীগ: 

শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতি থেকে বের হয়ে হলকেন্দ্রিক রাজনীতির দিকে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

জানা যায়, ছাত্রলীগের এক নম্বর মডেল ইউনিট বিবেচনা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে। যেখানে সংগঠনটির শক্তির আধার হিসেবে বিশাল কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা হয় হল থেকে। আর এই হলে কেন্দ্র থেকে শুরু করে ঢাবির বিভিন্ন বিভাগ কমিটির নেতৃবৃন্দ এক সাথে অবস্থান করে। এই সহাবস্থানের ফলে ঢাবির রাজনীতি অধিকতর শক্তিশালী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সক্রিয় হয়ে থাকে। এতে কর্মীরা বেশ চাঙ্গা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চবির রাজনীতিকে হলমুখী করার প্রতি গুরুত্ব দিতে ইঙ্গিত রয়েছে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। 

এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি রেজাউল হক রুবেল আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, চবি ছাত্রলীগকে দেশের অন্যতম একটি সেরাও মডেল ইউনিটে রূপ দিতে আমরা বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিব। এর মধ্যে সংগঠনকে গতিশীল করতে এবং নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হল কমিটি ঘোষণা করব। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদ কমিটি গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

হলেই অবস্থান করতে হচ্ছে চবি নেতৃত্বকে: 

চবি ছাত্রলীগের অতীতের সব সফলতার পাশাপাশি একটি ব্যর্থতার কথা শোনা যায় শীর্ষ নেতৃত্বকে হলে অবস্থান না করা। ফলে ছাত্রলীগের গ্রুপ, উপ-গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে তা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের  প্রত্যাশা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হলে অবস্থান করলে যেকোন ধরনের হামলা, সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা খুব সহজেই ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা ও ক্যাম্পাস শান্ত রাখার দাবি অনুযায়ী চবি ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বকে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চবি ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং যেকোন ধরনের ঘটনা সহজেই এড়াতে আমরা শীর্ষ নেতৃত্ব হলে অবস্থান করব। একই সাথে আগামীতে আমরা যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করব তাদেরও হলে অবস্থান করাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

বগিভিত্তিক রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ: 

শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্নভাবে এর কার্যক্রম চলে আসছে। আর ক্যাম্পাসে যে সংঘর্ষগুলো হয়ে থাকে এর অধিকাংশ বগি রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা বগিভিত্তিক রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা গেলে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। আর চবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে এমনটাই নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, শাটল হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর। এটি কোন রাজনৈতিক দল বা গ্রুপের নয়। এতে কারো নির্দিষ্ট কোন আসন থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র বহনকারী প্রতিটি শিক্ষার্থী সমান অধিকার ভোগ করবে। বগি রাজনীতি কোনভাবে চলবে না। এছাড়া ক্যাম্পাসে অস্ত্রের রাজনীতিও চলবে না। বুদ্ধিভিত্তিক শিক্ষাবান্ধব রাজনীতিই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনেই হবে চবি ছাত্রলীগের কর্মসূচি:

ডাকসুর ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই কর্মসূচি গ্রহণ করবে চবি ছাত্রলীগ। এক্ষেত্রে চাকসু নির্বাচন, শাটলে বগি সংকট, আবাসন সংকট, হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, লাইব্রেরিতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ এই জাতীয় সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই আমাদের রাজনীতি। তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনের বিষয় মাথায় রেখে আমরা আমাদের কর্মসূচি গ্রহণ করব।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন 'চবি ছাত্রলীগের কমিটি নেই ১৮ মাস ধরে' শিরোনামে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে খবর প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। শুরু হয় নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড়। অবশেষে শনিবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে বহুল প্রতীক্ষিত চবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।


ধর্ষণের শিকার হয়ে বিয়েতে বাধ্য
পাঁচ বছর আগে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছিলেন এক ব্যক্তি।
বিস্তারিত
মেয়র মতিয়ার রহমানের পিতৃবিয়োগ
আমতলী পৌরসভার জননন্দিত মেয়র মো: মতিয়ার রহমানের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন
বিস্তারিত
বাউফলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস
পটুয়াখালীর বাউফলে ‘দুর্নীতি আমরা করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দিবো
বিস্তারিত
বাউফলে রোকেয়া দিবসে জয়িতা’দের সম্মাননা
পটুয়াখালীর বাউফলে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস
বিস্তারিত
ডিসেম্বর থেকেই ঢাকা-সিকিম বাস চলাচল
রাজধানী ঢাকা থেকে ভারতের দার্জিলিং ও সিকিমে প্রথমবারের মতো চালু
বিস্তারিত
নাটোরের সদর উপজেলা আ.লীগের নতুন
নাটোরের সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার
বিস্তারিত