হজ তথ্য কর্নার

তামাত্তু হজের সহজ নিয়ম

পবিত্র হজ ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায়ের রয়েছে বহু নিয়ম-পদ্ধতি। তবে আমাদের দেশের অধিকাংশ হাজী সাধারণত তামাত্তু হজ আদায় করে থাকেন। এতে একই সফরে ওমরা ও হজ উভয়টি সম্পাদন করা যায়। তুলনামূলক এটি অধিক সহজ। তামাত্তু হজ আদায়কারী হজের সফরে হজকার্য সম্পাদনের আগে শুধু ওমরার নিয়তে ইহরাম বাঁধাবেন এবং মক্কা মুকাররমায় পৌঁছে ওমরার কাজ সম্পন্ন করে চুল ছেঁটে বা কেটে ইহরামমুক্ত হয়ে যাবেন। অতঃপর এই সফরেই সময়মতো (৮ জিলহজ) হজের ইহরাম বেঁধে হজের নির্ধারিত কাজগুলো সম্পন্ন করে কোরবানি দিয়ে দিলেই তামাত্তু হজ আদায় হয়ে যাবে। 
তামাত্তু হজের পদ্ধতি 
মক্কা শরিফের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় নিজগৃহে অথবা বিমানবন্দরে কিংবা জেদ্দা পৌঁছার প্রায় এক ঘণ্টা আগে বিমানে শুধু ওমরার ইহরাম বাঁধা (ফরজ)। মক্কায় পৌঁছে সুবিধামতো সময়ে নিয়মানুযায়ী কাবা শরিফের তাওয়াফ করা (ফরজ)। অতঃপর সাফা মারওয়া সায়ি করা (ওয়াজিব)। এরপর মথার চুল মু-ানো বা ছোট করে হালাল হয়ে যাওয়া। এরপর ইহরামের কাপড় খুলে হালাল অবস্থায় মক্কায় অবস্থান করা। অতঃপর হজ আদায়ের পদ্ধতিগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পাদন করা। 
ওমরার ফরজ দুটি : ১. ওমরার ইহরাম বাঁধা। ২. বাইতুল্লাহ শরিফের তাওয়াফ করা। 
ওমরার ওয়াজিব দুটি : ১. সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ি করা। ২. মাথার চুল মু-ানো বা ছাঁটা। 
হজের ফরজ তিনটি : ১. ইহরাম বাঁধা। হজের নিয়তে তালবিয়া পাঠ করা। ২. আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ৯ জিলহজ দ্বিপ্রহর থেকে পরবর্তী সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত যে কেনো সময় এক মুহূর্তের জন্য হলেও আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ৩. তাওয়াফে জিয়ারত করা। ১০ জিলহজ সুবহে সাদেক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে যে কোনো সময় পবিত্র অবস্থায় অজুর সঙ্গে তাওয়াফের নিয়ত করে বাইতুল্লাহ শরিফের চতুর্দিকে সাতবার চক্কর দেওয়া। 
তামাত্তু হজের ওয়াজিব ৬টি : ১. মুজদালিফায় অবস্থান করা। ২. শয়তানকে কংকর মারা। ৩. কোবানি করা। ৪. মাথার চুল মু-ানো বা ছাঁটা। ৫. সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ি করা। ৬. বিদায়ী তাওয়াফ করা।
হজের সুন্নত : ১. ইহরামের সময় গোসল করা অথবা অজু করা। ২. ইহরামের নিয়ত করে দুই রাকাত নামাজ পড়া। ৩. তাওয়াফের সময় রমল করা তথা প্রথম তিন চক্করে কাঁধ ঝাঁকিয়ে দ্রুতপদে হাঁটা। ৪. ৮, ১০, ১১ ও ১২ তারিখে মিনায় অবস্থান করা। ৫. সূর্য ওঠার পর ৯ তারিখে মিনা থেকে আরাফায় রওনা হওয়া। ৬. আরাফায় গোসল করা। ৭. আরাফা থেকে মুজদালিফায় সূর্য ডোবার পর রওনা হওয়া। ৮. মুজদালিফায় অবস্থান করা (রাতে)। ৯. ১২ বা ১৩ জিলহজ কংকর নিক্ষেপের পর ‘মুহাসসাব’ (মুআবাদা) নামক স্থানে অবস্থান করা। ১০. মক্কা শরিফে অবস্থানকালে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। 
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ 
১. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা। অনুরূপভাবে সুগন্ধিযুক্ত তেল, জয়তুন, তিলের তেল, সুগন্ধি সাবান, পাউডার, স্নো, ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করা। ২. স্ত্রী সহবাস করা কিংবা তার সামনে এ সংক্রান্ত আলোচনা করা। ৩. শরীরের কোনো অঙ্গ থেকে কোনো চুল, পশম কাটা বা উপড়ানো এবং উকুন মারা। ৪. নখ কাটা। ৫. ‘ইজখির’ নামক গাছ ব্যতীত নিজ থেকে জন্মায় এমন গাছ কাটা। ৬. বন্যপশু শিকার করা বা শিকারিকে সহযোগিতা করা। ৭. পুরুষের জন্য সেলাই করা কাপড় পরা। ৮. মহিলাদের জন্য চেহারা ঢাকা। তবে গায়রে মাহরামদের সামনে কাপড় পরে এমনভাবে চেহারা ঢেকে নেবে, যাতে কাপড় চেহারার সঙ্গে লেপ্টে না থাকে। ৯. পুরুষের জন্য স্যান্ডেল ব্যবহার করা। ১০. যে কোনো গোনাহের কাজ করা। বিশেষভাবে ঝগড়া-বিবাদ করা। ১১. ইচ্ছাকৃতভাবে ফল-ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া মাকরুহ। 
এখানে তামাত্তু হজের সংক্ষিপ্ত মাসায়েল লেখা হলো। এছাড়াও তামাত্তু হজের গুরুত্বপূর্ণ ফাজায়েল ও মাসায়েল রয়েছে যা আমরা বিভিন্ন বই-পুস্তক পড়ে জেনে নিতে পারি। 

 লেখক : মুহাদ্দিস, মুফাসসির, খতিব ও টিভি উপস্থাপক


লোক-দেখানো দান সদকা নয়
ইসলামি পরিভাষায় দান করাকেই সদকা বলা হয়। সদকা শব্দটি এসেছে
বিস্তারিত
সদকার ব্যাপকতা
পৃথিবীতে চলমান অধিকাংশ পেশাই এমন, যেগুলো আল্লাহপাকের ইবাদতের মাধ্যম হতে
বিস্তারিত
প্রতারণা বন্ধ করুন
প্রতারণা মানে কাউকে ধোঁকা দেওয়া, ঠকবাজি করা। ভালোর সঙ্গে মন্দের
বিস্তারিত
পার্থিব লক্ষ্যে কোরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গ
কোরআনের শুদ্ধ তেলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের বিশেষ মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখা
বিস্তারিত
জীবন ও মরণের রহস্য সন্ধান
আমাদের ঘুম ছোট মৃত্যু আর জেগে ওঠা ছোট হাশর। এ
বিস্তারিত
ইসলামে আদব কায়দার গুরুত্ব
আমাদের প্রিয়নবী (সা.) উম্মতের জন্য আদব তথা শিষ্টাচারের সব নিয়মই
বিস্তারিত