ক্যাশ ওয়াক্ফ শরয়ি বিধান

ইসলামে ক্যাশ ওয়াক্ফ স্বীকৃত। মিসরে উসমানি যুগেও এর ব্যবহার শনাক্ত করা যায়। ওয়াক্ফ প্রশাসনের ক্ষেত্রে তুরস্কের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। গবেষণায় দেখা যায়, তুরস্কে ক্যাশ ওয়াক্ফ আর্থিক ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সমাজের সচ্ছল ও বিত্তশালীদের সঞ্চয়ের একটি অংশ দিয়ে ক্যাশ ওয়াক্ফ সার্টিফিকেট ক্রয় করে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষা ও মানবিক সেবামূলক কর্মকা-ে বিনিয়োগ করার একটি আদর্শ মাধ্যম হিসেবে যুগে যুগে ব্যবহৃত হয়ে আসছে

 

ক্যাশ ওয়াক্ফ বলতে মূলত নগদ অর্থ ওয়াক্ফ করাকে বোঝায়। ফিকহের প্রাচীন কিতাবগুলোতে ক্যাশ ওয়াক্ফের বিধান নিয়ে আলোচনা করা হলেও এর কোনো গ্রন্থাবদ্ধ সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। তবে সমসাময়িক অনেকেই ক্যাশ ওয়াক্ফের সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে মুহাম্মদ সালেম আবদুল্লাহ বাখদার ক্যাশ ওয়াক্ফের একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদানের প্রয়াস পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কর্জে হাসান প্রদান অথবা ওয়াক্ফকারীর শর্ত মোতাবেক বা দাতব্য ক্ষেত্রে লভ্যাংশ ব্যয়ের উদ্দেশ্যে শরয়ি দৃষ্টিতে বৈধ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য নগদ অর্থ ওয়াক্ফ করা।’ (তামইউল ওয়াক্ফ আন-নুকুদ, পৃ. ৪৭)।

এ সংজ্ঞাটির কয়েকটি দিক রয়েছে। যেমনÑ ক. কর্জে হাসান প্রদান দ্বারা উদ্দেশ্য ওয়াক্ফকৃত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিময়হীন ঋণ হিসেবে প্রদান; খ. শরয়ি দৃষ্টিতে বৈধ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ দ্বারা ওয়াক্ফকৃত সম্পদ ইসলামি শরিয়তে বৈধ যে কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য বোঝানো হয়েছে; গ. নগদ অর্থ ওয়াক্ফ করা দ্বারা যে কোনো ধরনের বৈধ মুদ্রা বা মুদ্রায় রূপান্তর যোগ্য সার্টিফিকেট, যেমনÑ চেক, শেয়ার ইত্যাদি উদ্দেশ্য; ঘ. ওয়াক্ফকারীর শর্ত বলতে যদি ওয়াক্ফকারী তার ওয়াক্ফকৃত সম্পদের উপযোগ বা লভ্যাংশ ব্যয়ের কোনো ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে দেন বা এ বিষয়ে কোনো শর্তারোপ করেন তাকে বোঝানো হয়েছে; ঙ. দাতব্য ক্ষেত্র দ্বারা উদ্দেশ্য ওয়াক্ফকারী যদি কোনোরূপ শর্তারোপ না করেন; তবে ওয়াক্ফ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে জনহিতকর যে কোনো ক্ষেত্রে তা ব্যয় করা যাবে। 

ইসলামি শরিয়তে ক্যাশ ওয়াক্ফের বিধান

ক্যাশ ওয়াক্ফ মূলত অস্থাবর সম্পত্তির একটি ধরন। এ কারণে ক্যাশ ওয়াক্ফের বিধান অবগত হওয়ার জন্য ইসলামি ফিকহে অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফের বিধান জানা প্রয়োজন। স্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ করার ব্যাপারটি ইসলামি শরিয়তে সুস্পষ্ট। স্থাবর সম্পদের মতো অস্থাবর সম্পদ, যেমনÑ যুদ্ধের ঘোড়া, অস্ত্র এবং টাকা-পয়সা, মুদ্রা ও নোট ওয়াক্ফ করা বৈধ কি না, তা নিয়ে ফিকহের ইমামদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। এ ব্যাপারে ফকিহদের বক্তব্য নিম্নরূপ :

এক. যেসব অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করা যায় এবং বিদ্যমান রেখে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়, তা ওয়াক্ফ করা বৈধ। যেমনÑ যুদ্ধাস্ত্র, গোলাম ইত্যাদি। অতএব এ মতের আলোকে যেসব সম্পত্তি বজায় রেখে তার উপকার ভোগ করা যায় না, তা ওয়াক্ফ করা যায় না। এটি মালিকি, শাফিয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের জমহুরের মত।

দুই. শর্তসাপেক্ষে অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ করা বৈধ। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে, ওয়াক্ফকৃত স্থাবর সম্পত্তিতে বিদ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ করা বৈধ। যেমনÑ বিদ্যমান অস্থাবর কোনো সম্পত্তি সহকারে ভূমি ওয়াক্ফ করা। এক্ষেত্রে ভূমি মূল ওয়াক্ফ এবং বিদ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি তার অনুগামী হিসেবে গণ্য হবে। তারা আরও মনে করেন যুদ্ধাস্ত্র এবং ঘোড়াও ওয়াক্ফ করা বৈধ, এ ব্যাপারে ইমাম ইবন হাজমও তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। ইমাম মুহাম্মদ মনে করেন, অস্ত্র ও ঘোড়ার পাশাপাশি মানুষ সচরাচর যেসব বিষয় ব্যবহার করে তা-ও ওয়াক্ফ করা বৈধ। 

তিন. অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ বৈধ নয়, বরং ওয়াক্ফ স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ হবে। এটি ইমাম আবু হানিফার অভিমত। তাছাড়া ইমাম মালিক ও আহমাদ থেকে বর্ণিত একাধিক মতের একটি।

উপর্যুক্ত মতপার্থক্যকে সামনে রেখে ক্যাশ ওয়াক্ফের বিধানের ব্যাপারে ফকিহদের মতামতকে নিম্নোক্তভাবে ব্যাখ্যা করা যায়Ñ

প্রথমত সামগ্রিকভাবে ক্যাশ ওয়াক্ফ অবৈধ : এটি হানাফি মাজহাবের পূর্বসূরি ইমামরা, যেমনÑ আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে আল-বারকালির মত। মালিকি মাজহাবের ইবনুল হাজিব ও শাসের ও শাফিয়িদের অভিমত এটিই। এটি হাম্বলি মাজহাবেরও বিশুদ্ধ মত।

দলীল প্রমাণ : ওই মত পোষণকারীরা তাদের মতের পক্ষে যেসব যুক্তি প্রমাণ পেশ করেন, তা নিম্নরূপÑ

ওয়াক্ফ শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত ওয়াক্ফকৃত বস্তুর স্থায়ীভাবে বিদ্যমান থাকা। কিন্তু নগদ অর্থ থেকে উপকার গ্রহণ করতে হলেই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। ওমর বিন খাত্তাব (রা.) যে ওয়াক্ফ করেছিলেন, তা ছিল স্থায়ী সম্পদ। অস্ত্র ও ঘোড়া ওয়াক্ফের বিষয়টি সরাসরি নস থেকে প্রতীয়মান বিধায় তা বৈধ। মৌলিকভাবে এগুলো ওয়াক্ফ বৈধ নয়।

ক্যাশ ওয়াক্ফ নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ,  ক্যাশ নিঃশেষ করা ছাড়া এ থেকে উপকার গ্রহণ করা যায় না অথচ ওয়াক্ফ বলা হয় মূলবস্তু বজায় রেখে এর উপযোগিতা দান করা। ক্যাশ ওয়াক্ফের মধ্যে এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না। 

আলেমরা ওয়াক্ফকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, মৃত্যুর পরও যার সওয়াব অব্যাহত থাকে। এখানে জারিয়া বা প্রবহমান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বস্তু দান করা, যার মূল বজায় রেখে উপকার আবর্তিত হবে এবং এ আবর্তনের ফলে দানকারীর হিসাবে পুণ্য যুক্ত হতে থাকবে। কিন্তু ক্যাশ তেমনটি নয়। কেননা মূলস্বত্ব বজায় রেখে এর ব্যবহার সম্ভব নয়। 

ক্যাশ বা নগদ অর্থ অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য; আর নস দ্বারা সাব্যস্ত ছাড়া কোনো অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ করা বৈধ নয়। 

মহানবী (সা.) সাহাবি ও সালফে সালিহিনের সময়ে ক্যাশ ওয়াক্ফ পরিচিত ছিল না। এ কারণে ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, ‘নগদ সম্পদ ওয়াক্ফের কোনো ইতিহাস আমার কিছু জানা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাথিরা যে ওয়াক্ফ করেছেন তার আলোকে ওয়াক্ফ মূলত বাড়ি ও ভূমিতে সীমিত। নগদ অর্থ ওয়াক্ফ করার বিষয়ে আমি একেবারেই কিছু অবগত নই।’ (আল-উকুফ ওয়া আত-তারাজ্জুল, পৃ. ৭১)। 

দ্বিতীয়ত, সমাজে প্রচলিত থাকলে ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ : কোনো সমাজে ক্যাশ ও অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ করার রীতি প্রচলিত থাকলে সেখানে ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ। হানাফি মাজহাবের ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এ মত পোষণ করেন। তার এ মতই হানাফি মাজহাবের মাজহাবি সিদ্ধান্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইবন আবিদিন বলেন, ‘আমাদের সময়ে রোমান ও অন্যান্য সাম্রাজ্যে দিনার ও দিরহাম ওয়াক্ফের যে রীতি আছে, তা ইমাম মুহাম্মাদের সমাজে প্রচলিত অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াক্ফ সম্পর্কিত যে বক্তব্যের ভিত্তিতে মাজহাবি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত।’ (রাদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬৩)। 

তৃতীয়ত, সাজসজ্জার জন্য দিনার ও দিরহাম ওয়াক্ফ করা বৈধ : এটি শাফিয়ি মাজহাবের একটি অভিমত। আল-মাওয়ারদি বলেন, ‘দিনার ও দিরহাম নিঃশেষ হয়ে যায় এমন কাজের জন্য ওয়াক্ফ করা জায়েজ নয়, এক্ষেত্রে তা খাদ্যের মতো। তবে (স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা দ্বারা তৈরি) অলংকার ওয়াক্ফ করা বৈধ, কেননা তা ভাড়ায় আদান প্রদান ও অস্তিত্ব বজায় রেখে তা থেকে উপকার গ্রহণ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কেউ মতভেদ করেননি।’ (আল-ইনসাফ, খ. ৭, পৃ. ৫১৯)।

চতুর্থত, ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ : এটি হানাফি মাজহাবের ইমাম জুফার ও তার সাথি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারির অভিমত। মালিকি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য এবং শাফিয়ি মাজহাবের ও হাম্বলি মাজহাবের একটি মত। বিশিষ্ট তাবেঈ ইমাম জুহরি ও ইমাম বোখারি প্রমুখের অভিমত। ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

যুক্তি প্রমাণ : এ মত পোষণকারীরা যেসব দলীল পেশ করেন, তা নিম্নরূপÑ

ওয়াক্ফ ও ক্যাশ ওয়াক্ফের বিধান একই। ওয়াক্ফ বৈধ হওয়ার যেসব দলিল প্রমাণ রয়েছে তার মধ্যে ক্যাশ ওয়াক্ফও অন্তর্ভুক্ত হয়। কেননা ক্যাশ ওয়াক্ফ নিষিদ্ধ বা অবৈধ হওয়ার কোনো দলিল নেই। 

নসে বর্ণিত অস্থাবর সম্পত্তি তথা ঘোড়া ও যুদ্ধাস্ত্রের সঙ্গে ক্যাশকে তুলনা করা যায়। কেননা উভয়ই অস্থাবর সম্পত্তি। তাছাড়া এতে ওয়াক্ফের উদ্দেশ্য তথা দুনিয়ায় ওই সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া এবং ওয়াক্ফকারীর আখেরাতে পুণ্যের অধিকারী হওয়া অর্জিত হয়। 

ক্যাশ নিঃশেষ না করে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়। কেননা ক্যাশের মৌলিকত্ব হলো মূল্য, স্বয়ং মুদ্রা নয়। ক্যাশ ঋণ প্রদান করলে বা বিনিয়োগ করলে এর মূল্য ও মালিকানা বজায় থাকে নিঃশেষ হয়ে যায় না, পক্ষান্তরে যার জন্য ওয়াক্ফ করা হয় তিনি এ থেকে উপকার অর্জন করতে পারেন।

বর্তমান যুগের ক্যাশ স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি নয়, বরং কাগুজে বা সাধারণ ধাতবের মুদ্রা মাত্র। সুতরাং স্বর্ণ ও রৌপ্য যেমন নিঃশেষ না করে ব্যবহার করা কষ্টকর ছিল, সে অবস্থা বর্তমানের কাগুজে মুদ্রায় নেই। বরং এর মূল্যমান ঠিক রেখে তা থেকে উপকার ভোগ করা সম্ভব। 

অগ্রাধিকার : ক্যাশ ওয়াক্ফের বিধান সম্পর্কে উপরিউক্ত বক্তব্য ও দলিল প্রমাণ পর্যালোচনান্তে বলা যায়, ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ। কেননাÑ

ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ দাবিদারদের দলিল প্রমাণ শক্তিশালী। তাছাড়া এটি অবৈধ হওয়ার কোনো দলিল প্রমাণ নেই।

শরিয়তের আর্থিক লেনদেনের সাধারণ নীতি হলো, যদি কোনো লেনদেন শরিয়তের দলিলের ভিত্তিতে অবৈধ প্রমাণিত না হয়; তবে তা বৈধ হিসেবে গণ্য। এ দৃষ্টিকোণ থেকেও ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ হিসেবে বিবেচিত।

এমন কোনো ফিকহি মাজহাব নেই, যে মাজহাবের সবাই ক্যাশ ওয়াক্ফ অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বরং প্রত্যেক মাজহাবের কেউ না কেউ একে বৈধ বলেছেন।

এটি ওয়াক্ফের মূলনীতি তথা ‘ওয়াক্ফকৃত বস্তুর অস্তিত্ব বজায় রেখে তার উপকার বিলানো’ এর সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকৃতিগত দিক থেকে ক্যাশের মৌলিকত্ব হলো মূল্য-কেন্দ্রিক বস্তু নয়; ক্যাশ ওয়াক্ফের ক্ষেত্রে অর্থের মূল্য ঠিক রেখে তা থেকে উপকার গ্রহণ করা হয়। 

ক্যাশ ওয়াক্ফ ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্য তথা মাকাসিদুশ শরিয়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কেননা এর সুফল ভোগ করে সমাজের অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী। তারা করজে হাসান বা ক্ষুদ্র-মাঝারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এ থেকে উপকৃত হয়।

আধুনিক আলেম-ফকিহরা ও ফিকহ বোর্ডগুলো ক্যাশ ওয়াক্ফ বৈধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। যেমনÑ ওআইসির অধীনস্থ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ১৪২৫ হিজরির ১৪-১৯ মহররম (৬-১১ মার্চ, ২০০৪ সাল) তারিখে ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত একাডেমির ১৫তম অধিবেশনের ১৪০ (৬/১৫) নং সিদ্ধান্তে ক্যাশ ওয়াক্ফের বৈধতা ঘোষণা করে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেÑ নগদ অর্থ ওয়াক্ফ করা শরয়ি দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ ওয়াক্ফের শরয়ি উদ্দেশ্য হলো, ‘মূলধনকে অক্ষত রাখা ও এ থেকে অর্জিত উপকারকে ব্যাপক করা, এ উদ্দেশ্য ক্যাশ ওয়াক্ফের মাধ্যমে অর্জিত হয়। কেননা নগদ অর্থ বা মুদ্রা নির্দিষ্ট করলেও তা নির্দিষ্ট হয় না; বরং তার সমমানের অন্য কোনো মুদ্রা তার সমপর্যায়ের গণ্য হয়।’ (আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি, ডিক্রি ১৪০, ২০০৪)। 

১৯৯৫ সালে জেদ্দায় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক প্রকাশিত প্রফেসর ড. এমএ মান্নান কর্তৃক রচিত ‘ঝঃৎঁপঃঁৎধষ অফলঁংঃসবহঃ ধহফ ওংষধসরপ ঠড়ষঁহঃধৎু ঝবপঃড়ৎ রিঃয ংঢ়বপরধষ জবভবৎবহপব ঃড় অয়িধভ রহ ইধহমষধফবংয’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ইসলামে ক্যাশ ওয়াক্ফ স্বীকৃত। মিসরে উসমানি যুগেও এর ব্যবহার শনাক্ত করা যায়। ওয়াক্ফ প্রশাসনের ক্ষেত্রে তুরস্কের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। গবেষণায় দেখা যায়, তুরস্কে ক্যাশ ওয়াক্ফ আর্থিক ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সমাজের সচ্ছল ও বিত্তশালীদের সঞ্চয়ের একটি অংশ দিয়ে ক্যাশ ওয়াক্ফ সার্টিফিকেট ক্রয় করে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষা ও মানবিক সেবামূলক কর্মকা-ে বিনিয়োগ করার একটি আদর্শ মাধ্যম হিসেবে যুগে যুগে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


ঘুষখোরদের ওপর আল্লাহর লানত
অবৈধ আয়ের উদ্দেশ্যে জনগণের ওপর কখনও সরাসরি কখনও পরোক্ষভাবে জুলুম
বিস্তারিত
বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার ফজিলত ফিরোজ
  আল্লাহ আমাদের রিজিক দাতা। তিনি আমাদের দুনিয়ায় পাঠানোর আগে রিজিকের
বিস্তারিত
সুপারিশে সওয়াব মেলে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ আমি শুধুই একজন সুপারিশকারী। (অর্থাৎ এটা তোমার
বিস্তারিত
ব্যবসায়িক চুক্তি প্রসঙ্গে
প্রশ্ন : মোশাররফ ও হাসান একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। শ্রম
বিস্তারিত
ঊর্ধ্বলোকের সূর্যের সন্ধানী হও
  এক লোকের বউটা ছিল দুষ্টু প্রকৃতির, লোভী ও পেটুক। তবুও
বিস্তারিত
পাথেয়
প্রত্যেকের সঙ্গে ফেরেশতা ও  শয়তান থাকে যুবাইর বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত,
বিস্তারিত