বন্যাদুর্গতদের সেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি

প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল প্লাবিত। দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এহেন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবান ও বৃত্তবানদের নৈতিক এবং ঈমানি দায়িত্ব। 
শ্রেষ্ঠতম জাতির দায়িত্ব : আল কোরআনে মুসলিমদের শ্রেষ্ঠতম জাতি বলা হয়েছে। এ শ্রেষ্ঠতম জাতিকে সৃষ্টির রহস্য কী? এর জবাবও আল কোরআনে দেওয়া হয়েছে। ‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১১০)। এ পৃথিবীতে মানুষের আগমন শুধু নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নয়; বরং তাদের আগমন হয়েছে গোটা মানবতার কল্যাণে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গোটা মানবজাতির প্রতি তাদের দায়দায়িত্বে কথা। এ দায়িত্ব অবেহেলার পরিণতি হবে জাহান্নাম। জাহান্নামিদের প্রশ্ন করা হবে, ‘তোমাদের কীসে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবে, আমরা নামাজ পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না। (সূরা মুদ্দাচ্ছির : ৪২-৪৪)। এ আয়াতে বিপদগ্রস্ত, গরিব-অসহায়দের সাহায্য, আহার্য না দেওয়া, জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
মানবসেবায় মহানবীর ভূমিকা : মানবসেবা ও কল্যাণকামিতায় শামিল হতে মুসমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেনÑ ‘তোমরা দুনিয়াবাসীর ওপর দয়া কর, আসমানের বাসিন্দা আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়া করবেন।’ (তিরমিজি : ১৯২৪)। রাসুল (সা.) আরও বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।’ (কানযুল উম্মাল : ৫৯৭১)। তিনি আরও বলেছেনÑ ‘কোনো বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যরত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তাকে সাহায্য করতে থাকেন।’ (তিরমিজি : ১৯৩০)। এ হাদিসগুলোতে আল্লাহর রহমত, দয়া ও সাহায্য প্রাপ্তির জন্য মানুষের প্রতি ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতার শর্তজুড়ে দেওয়া হয়েছে। 
মানুষ মানুষের জন্য : মানুষের জন্য মানুষের সার্থক বাস্তবায়ন রয়েছে ইসলামি অনুশাসনের মাঝেই। প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে পূর্ণ আহারকারীর ঈমানকে বলা হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ। মহানবী (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘ওই ব্যক্তি পরিপূর্ণ মোমিন নয়, যে তৃপ্তি সহকারে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী থাকে ক্ষুধার্ত।’ (শুয়াবুল ইমান : ৫৬৬০)। মহানবী (সা.) একদিন আবু জার (রা.) বললেনÑ ‘হে আবু জার! তুমি যখন তরকারি পাকাও তখন তাতে একটু বেশি পানি দিয়ে ঝোলটা বাড়িয়ে নিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে তা পৌঁছে দিও।’ (মুসলিম : ৬৮৫৫)। ইসলাম নিঃস্ব, অসহায়, অভাবী ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের বিপন্ন অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং তাদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কষ্ট দূর করতে নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাপকভাবে সাহায্য করার ক্ষমতা না থাকলে তরকারির কিছু ঝোল দিয়ে হলেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও কোনো মানুষ বিপদগ্রস্ত হলে মানুষ হিসেবে তার বিপদে এগিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব। কারও কষ্ট ও বেদনায়, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সত্যিকার মানুষ কখনও নির্বিকার থাকতে পারে না। ইমানেরও দাবি হচ্ছেÑ সুখে-দুঃখে এক মোমিন অপর মোমিনের পাশে থাকবে। তাদের কষ্ট লাঘবে সদা তৎপর থাকবে। মহানবী (সা.) সব মুসলমানকে একটা দেহের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেনÑ ‘পারস্পরিক স্নেহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতার দিক থেকে গোটা মুসলিম সমাজ একটি দেহের সমতুল্য। যদি দেহের কোনো বিশেষ অঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও তা অনুভূত হয়; সেটা জাগ্রত অবস্থায়ই হোক কিংবা জ্বরাক্রান্ত অবস্থায়।’ (মুসলিম : ৬৭৫১)। তিনি আরও বলেছেনÑ ‘একজন মোমিন অপর মোমিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ আরেক অংশকে মজবুত করে।’ (মুসলিম : ৬৩৪৯)। অর্থাৎ সবল মোমিনদের সাহায্য-সহযোগিতায় অসহায় ও দুর্বলরা সবল হয়ে উঠবে, তাদের দুর্দশা কেটে যাবে; এটিই সত্য ধর্ম ইসলামের শিক্ষা ও প্রত্যাশা। 
অনুদান হবে নিঃস্বার্থ : ইসলামে বিপন্ন মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে। নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত শুধু ইবাদত নয়, বরং দুর্গত ও বিপন্ন মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা, খাদ্য, আবাসন, বস্ত্র, চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে মানবসেবায় নিয়োজিত থাকাও ইবাদত বলে স্বীকৃত। এ ব্যাপারে মহানবী (সা.) বলেছেনÑ ‘মাবরুর হজের প্রতিদান হচ্ছে একমাত্র জান্নাত।’ (বোখারি : ১৬৮৩)। আর ‘মাবরুর হজ হলো খাদ্য খাওয়ানো এবং সুন্দর কথা বা ভালো আচরণ করা।’ (কানযুল উম্মাল : ১১৮৮১)। অতএব যারা হজে যেতে পারি নাই তারা বাংলাদেশে বসেও অসহায় ও বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে কিছু ত্রাণ পৌঁছিয়ে কবুল হজের সওয়াব পেতে পারি। তবে এ সাহায্য ও দান হবে নিঃশর্তভাবে মানবিক কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যে। শুধু নাম-যশের মানসিকতা নিয়ে দান করলে তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে না। দান করতে হবে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের দুর্গতি ও তাদের অসহায়ত্ব লাঘব করার পরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে।


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত