হজ তথ্য কর্নার

হজের সফর শুরুর পর মারা গেলে কি হাজী হিসেবে গণ্য হবে?

প্রশ্ন : যদি কোনো ব্যক্তি হজের নিয়তে সফর শুরু করার পর মৃত্যুবরণ করেন, তাকে কি হাজী হিসেবে গণ্য করা হবে?

উত্তর : সব প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার। যখন কোনো ব্যক্তি হজের নিয়ত করে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার দুই অবস্থাÑ হয়তো ইহরামের আগে মৃত্যুবরণ করেছেন বা ইহরামের পর। যদি ইহরামের আগে মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দিয়ে দেবেন। তবে তার পক্ষ থেকে ফরজ হজ আদায় করতে হবে। আর যদি ইহরামের পর মারা যান, তাহলে হজের সওয়াব পাবেন। বরং কেয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে। সুতরাং তার পক্ষ থেকে আর হজ করতে হবে না। 
শায়খ সালেহ বিন উসাইমিন (রহ.) কে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যে হজের উদ্দেশ্যে সম্পদ জমা করেছেন; কিন্তু হজের আগে মারা গেছেন, তখন তিনি উত্তর দিলেন : যে ব্যক্তি হজের দৃঢ় ইচ্ছাপোষণ করল, হজের উদ্দেশ্যে তার কাছে থাকা সম্পদগুলোও বিক্রি করে দিল, অতঃপর হজের আগেই তার মৃত্যু এসে পড়ল, তাহলে আমরা আশা করি আল্লাহ তায়ালা তাকে হাজীদের সমান প্রতিদান দান করবেন। কেননা তিনি সৎকাজের নিয়ত করেছেন এবং তার জন্য নিজের সাধ্যানুযায়ী উপকরণও সংগ্রহ করেছেন। আর যে ব্যক্তি সৎকাজের নিয়ত করে এবং তার জন্য সাধ্যানুযায়ী উপকরণও সংগ্রহ করে, তাহলে তাকে সে কাজের সওয়াব দিয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করে সে পৃথিবীতে বহু প্রশস্ত স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে এবং যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের উদ্দেশ্যে হিজরত করতে নিজ গৃহ থেকে বের হয়, অতঃপর সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাহলে নিশ্চয়ই এর প্রতিদান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত রয়েছে।’ (সূরা নিসা : ১০০)।
যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে তার সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে সেটা যদি ফরজ হজের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তাহলে তার মৃত্যুর পর প্রস্তুতকৃত এ টাকা দিয়েই তার পক্ষ থেকে কেউ হজ আদায় করবে; এটা তার কোনো অভিভাবকও করতে পারে বা অন্য কেউ করতে পারে। 
ইবনে আব্বাস (রা.) এর হাদিসে এসেছে, এক মহিলা নবী করিম (সা.) এর দরবারে এলো। অতঃপর বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা হজের মানত করেছিলেন, অতঃপর হজ না করেই তিনি মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আর এটা ছিল বিদায় হজের সময়। (ফাতাওয়া উসাইমিন : ২১/২৩২)।
ইবনে উসাইমিনকে এ-ও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এক ব্যক্তি তার দেশ থেকে হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে, অতঃপর গন্তব্যে পৌঁছার আগেই বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা যায়, তাহলে তাকে কি হাজী হিসেবে গণ্য করা হবে?
তিনি উত্তর দিলেন : যে হজের নিয়ত করল অতঃপর সফরে বের হওয়ার আগেই মারা গেল সে হাজী হিসেবে গণ্য হবে না। তবে আল্লাহ তার আমলের প্রতিদান দান করবেন। আর যদি ইহরামের পর মারা যায়, তাহলে সে হাজী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা রাসুল (সা.) ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যে আরাফার ময়দানে ছিল অতঃপর তার উট তাকে ঘাড় ভেঙে দিয়েছিল, তিনি বলেন : তাকে পানি ও কুলপাতা দিয়ে গোসল দাও। তার দুই কাপড়েই তাকে কাফন পরাও। কর্পূর লাগিয়ো না। তার মাথা ঢাকিও না। কেননা কেয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠকারী হিসেবে উঠানো হবে। তিনি তাকে হজ কাজা করতে বলেননি। এতে বোঝা যায়, তিনি হাজী হিসেবে গণ্য হবেন। (ফাতাওয়া উসাইমিন : ২১/২৫২)।

ইসলাম কিউ অ্যান্ড এ থেকে ভাষান্তর যাইনুল আবিদীন


হজ-পরবর্তী জীবন হোক পাপমুক্ত
হজ ইসলামি শরিয়তের অন্যতম ভিত্তিমূল। তবে ব্যতিক্রমী ব্যাপার হলো, হজ
বিস্তারিত
খুবাইব (রা.) শহীদ হওয়ার মর্মস্পর্শী
আমর ইবনু আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর
বিস্তারিত
পবিত্র মক্কার ১৫টি অনন্য বৈশিষ্ট্য
১. পবিত্র মক্কায় রয়েছে পৃথিবীতে স্থাপিত সর্বপ্রথম ঘর ও সর্বপ্রথম
বিস্তারিত
তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতি
ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি’ঈ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিন শ্রেণির
বিস্তারিত
মশা কাহিনি ও ডেঙ্গু প্রসঙ্গ
মশা বর্তমান সময়ে একটি আলোচিত প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হঠাৎ
বিস্তারিত
সুস্থতা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
সুস্থতা আল্লাহর এক বিরাট নেয়ামত। ব্যক্তি ও জাতির উন্নতির জন্য,
বিস্তারিত