বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

মানুষের কষ্ট, দুর্দশা দেখে যার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না, সে প্রকৃত মোমিন নয়। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.) সর্বদা অসহায় নির্যাতিত ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তাদের দিকে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত। নিঃস্ব, নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা, তাদের প্রতি সহানুভূতি-সহমর্মিতার হস্ত প্রসারিত করা নিঃসন্দেহে বরকতময় ও পুণ্যময় কাজ। মানুষের কষ্ট, দুর্দশা দেখে যার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না, সে প্রকৃত মোমিন নয়। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.) সর্বদা অসহায় নির্যাতিত ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তাদের দিকে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি সমাজের বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক একটি সেবামূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিলÑ দুস্থ-অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। নবুয়তের ২৩ বছর তিনি মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন মানবতার মর্মবাণী।
যারা নিঃস্ব, অভাবী ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনÑ ‘তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের খাবার দান করে তারা বলে, শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা তোমাদের আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।’ (সূরা দাহর : ৮-৯)। 
হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা কর এবং বন্দিকে মুক্ত কর; যাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে।’ (বোখারি : ৫৩৭৩)।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘যে (মুসলমান) ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীন মুসলমানকে কাপড় পরিধান করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্ত মুসলমানকে খানা খাওয়ায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো পিপাসার্ত মুসলমানকে পানি পান করায়, মহান আল্লাহ তাকে এমন শরাব পান করাবেন, যার ওপর মোহর লাগানো থাকবে।’ (আবু দাউদ : ১৬৮২)। 
হজরত হারেসা ইবনে নোমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘মিসকিনকে নিজ হাতে দান করা অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে।’ (জামে সগির : ৬৫৭/২)।
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর শাসন আমলে একবার মদিনায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। প্রচ- খাদ্য সংকটে মদিনাবাসীর জীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠল। সেই সময় ওসমান (রা.) এর একটি ব্যবসায়িক কাফেলা বিশাল খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মদিনায় এসে পৌঁছাল। এ খবর মদিনাবাসীর মাঝে বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ল। মদিনার কিছু ব্যবসায়ী তার কাছে হাজির হয়ে খাদ্যসামগ্রী ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করল। ওসমান (রা.) বললেন, যে আমাকে ৭০০ গুণ লাভ দিতে পারবে, আমি তার কাছে এ খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করব। কেননা একজন আমাকে ৭০০ গুণ লাভ দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। এ কথা শুনে মদিনার ব্যবসায়ীরা নিরাশ হয়ে চলে গেল। 
অতঃপর তিনি তার সমুদয় খাদ্যসামগ্রী বিনামূল্যে মদিনাবাসীর মাঝে বিতরণ করে দিলেন। ব্যবসায়ীরা বলল, আপনি ৭০০ গুণ লাভ দাবি করেছিলেন অথচ এখন বিনামূল্যে বিতরণ করছেন? জবাবে ওসমান (রা.) বললেন, আমি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করছি; যিনি পবিত্র কোরআনে একের বিনিময়ে ৭০০ গুণ দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। 
কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক তাদের স্বপ্নের সোনালি ফসল হারিয়ে আজ বড় অসহায়। শতাধিক মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বহু জায়গায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেসব এলাকায় এখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের তীব্র সংকট। বানভাসি এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো; তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক, মানবিক ও ঈমানি দায়িত্ব। তাই আসুন, প্রত্যেকে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়, দুর্গত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই।


ঘুষখোরদের ওপর আল্লাহর লানত
অবৈধ আয়ের উদ্দেশ্যে জনগণের ওপর কখনও সরাসরি কখনও পরোক্ষভাবে জুলুম
বিস্তারিত
বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার ফজিলত ফিরোজ
  আল্লাহ আমাদের রিজিক দাতা। তিনি আমাদের দুনিয়ায় পাঠানোর আগে রিজিকের
বিস্তারিত
সুপারিশে সওয়াব মেলে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ আমি শুধুই একজন সুপারিশকারী। (অর্থাৎ এটা তোমার
বিস্তারিত
ব্যবসায়িক চুক্তি প্রসঙ্গে
প্রশ্ন : মোশাররফ ও হাসান একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। শ্রম
বিস্তারিত
ঊর্ধ্বলোকের সূর্যের সন্ধানী হও
  এক লোকের বউটা ছিল দুষ্টু প্রকৃতির, লোভী ও পেটুক। তবুও
বিস্তারিত
পাথেয়
প্রত্যেকের সঙ্গে ফেরেশতা ও  শয়তান থাকে যুবাইর বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত,
বিস্তারিত