হজ তথ্য কর্নার

বদলি হজ : গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ

সুনির্দিষ্ট কতিপয় শর্তের আলোকে প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর আল্লাহ তায়ালা হজকে ফরজ করেছেন। হজ আদায়ের জন্য আর্থিক সামর্থ্যরে পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ও অন্য আরও বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে। যদি কোনো মুসলমান হজ ফরজ হওয়ার পর কোনো কারণে তা পালন করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সম্পূর্ণ খরচ দিয়ে অন্য কারও মাধ্যমে হজ আদায় করা ফরজ। শরিয়তের পরিভাষায় যাকে বদলি হজ বলা হয়।

যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং হজ আদায়ের শারীরিক সক্ষমতাও আছে তার নিজে হজ করা জরুরি। এক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করানো জায়েজ নয়। বদলি করালে এর দ্বারা তার ফরজ হজ আদায় হবে না। (হিদায়া : ১/২৯৬)।
হজ আদায়ের শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করেনি, অতঃপর হজ আদায়ের সক্ষমতা হারিয়ে অক্ষম হয়ে পড়েছেÑ এমন ব্যক্তির ওপর ফরজ নিজের পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো অথবা মৃত্যুর সময় তার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া। হজরত আলী (রা.) অতিশয় বৃদ্ধ লোকের সম্পর্কে বলেছেন, সে কাউকে তার পক্ষ থেকে হজে পাঠাবে এবং হজের খরচ বহন করবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ৮/৫৯৯)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, বিদায় হজে খাছআম গোত্রের একজন নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)কে জিজ্ঞেস করল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বাবার ওপর হজ ফরজ হয়েছে; কিন্তু তিনি এত বৃদ্ধ যে, বাহনের ওপর স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ। (তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারবে)।’ (বোখারি : ১/২০৫)।
অসুস্থ, পাগল, জেলখানায় আটক, স্বামী বা মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বদলি হজের জন্য শর্ত হলো, এগুলো মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হতে হবে। সুতরাং এ ধরনের ওজরে বদলি হজ করানোর পর যদি ওই ওজর অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয় তাহলে ওই বদলি হজ তার ফরজ হজ হিসেবে আদায় হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে বদলি হজ করানোর পর মৃত্যুর আগে উল্লিখিত সমস্যা দূর হয়ে গেলে ওই হজটি নফল হয়ে যাবে এবং তাকে ফের নিজের ফরজ হজ আদায় করতে হবে। পক্ষান্তরে যেসব সমস্যা স্থায়ী, যেমনÑ অন্ধ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বদলি হজের জন্য তা মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া শর্ত নয়। অর্থাৎ এ জাতীয় সমস্যার কারণে অন্যের দ্বারা বদলি হজ করানোর পর আল্লাহ তায়ালার বিশেষ কুদরত ও রহমতে যদি দৃষ্টিশক্তি বা চলনশক্তি ফের ফিরে পায়, তাহলে তাকে ফের ফরজ হজ করতে হবে না। পূর্বের বদলি হজের মাধ্যমে তার ফরজ হজ আদায় হয়ে গেছে। (যুবদাতুল মানাসিক : ৪৪৮)।
পথ-খরচ ইত্যাদি দিয়ে যিনি অন্যকে নিজের পক্ষ থেকে হজ আদায়ে পাঠাচ্ছেন, তিনি যেমন হজের নেকি লাভ করবেন, তেমনি বদলি হজকারীও অনুরূপ নেকি লাভ করবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি কোনো মৃতের পক্ষ থেকে বদলি হজ করল সে-ও মৃতের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ : ৩/৬১৪)। হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কারও পক্ষ থেকে বদলি হজ করবে তার জন্যও ওই ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াবের আশা করা যায়।’
পুরুষের মতো মহিলাকে দিয়েও বদলি হজ করানো যাবে; যদি তার সঙ্গে স্বামী বা মাহরাম পুরুষ থাকে। তবে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, যার মাধ্যমে বদলি হজ করানো হচ্ছে তিনি হজের মাসায়েল সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত কি না। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, ‘জুহাইনা গোত্রের এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বলল, ‘আমার মা হজের মান্নত করেছিলেন। কিন্তু হজ আদায়ের আগেই তিনি মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি তার পক্ষ থেকে হজ কর। যদি তোমার মায়ের কোনো অনাদায়ি ঋণ থাকত, তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? আল্লাহর ঋণও আদায় কর। আল্লাহর ঋণ আরও বেশি আদায়যোগ্য।’ (বোখারি : ১/২৫০)।
বদলি হজের মতো বদলি ওমরাও করা যাবে। হজরত আবু রাজিন আলউকায়লী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বাবা অতিশয় বৃদ্ধ মানুষ। তিনি হজ ও ওমরা করতে সক্ষম নন। (আমি কি তার পক্ষ থেকে তা করতে পারি?)’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমার বাবার পক্ষ থেকে তুমি হজ ও ওমরা আদায় কর।’ (জামে তিরমিজি : ১/১১২)। এ হাদিস দ্বারা বদলি ওমরা করাও প্রমাণিত হয়।
কারও বদলি হজ আদায় করার দ্বারা আদায়কারী ব্যক্তির নিজস্ব ফরজ হজ আদায় হবে না। তার হজের জন্য পৃথকভাবে হজ করতে হবে। (ফাতহুল কাদীর : ৩/৬৮)।
যে ব্যক্তি নিজের হজ আদায় করেনি সে-ও বদলি হজ করতে পারবে। কোনোরূপ সমস্যা নেই। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছেÑ যে ব্যক্তি নিজের হজ করেনি যে অন্যের পক্ষ থেকে বদলি হজ করাকে তিনি দোষের বিষয় মনে করতেন না। বিশিষ্ট তাবেঈ হজরত মুজাহিদ, হাসান বসরি ও সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব (রহ.)-ও এমনই মনে করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ৮/১৮৯)।
বদলি হজের জন্য হজ আদায়কারী ব্যক্তি কোনোরূপ পারিশ্রমিক বিনিময় নিতে পারবে না। কেননা হজ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় নেওয়া ও দেওয়া দুটোই নাজায়েজ। তাই বদলি হজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হলে প্রদানকারী ও গ্রহণকারী দুজনই গোনাহগার হবে। তবে যদি এমনটি করে; তবু খরচদাতার হজ আদায় হয়ে যাবে বটে; তবে হজ আদায়কারী পারিশ্রমিকরূপে যা কিছু নিয়েছে, তা ফেরত দিয়ে দিতে হবে। হজ আদায়ে যে পরিমাণ খরচ শুধু সে পরিমাণই নিতে পারবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৬০০)।


ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি উদযাপনে সুদানিরা
  দ্বীপাঞ্চলের আবদুল কাইয়ুম রাজধানী খার্তুমে সেনা কর্তৃপক্ষ ও বিরোধী জোটের
বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার হামলার পর কেমন
  মাত্র কয়েক মাস আগেও পশ্চিম শ্রীলঙ্কায় মোহাম্মদ ইলিয়াসের ব্যবসা রমরমা
বিস্তারিত
মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েককে নিয়ে বিতর্ক
  ডা. জাকির নায়েক ইস্যুতে মালয়েশিয়ান রাজনীতি বেশ টালমাটাল। নানা কথা
বিস্তারিত
নরেন্দ্র মোদি ও কাশ্মীর ইস্যু
  ১৫ আগস্ট লন্ডনভিত্তিক  আরবি-ইংরেজি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ অ্যারাবে প্রকাশিত ইমাদ
বিস্তারিত
কাশ্মীরকে দমাতে দিল্লির ৪ দফা নীলনকশা
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ভারত অধিকৃত গোটা জম্মু-কাশ্মীর। কারফিউয়ের সঙ্গে পরিস্থিতি
বিস্তারিত
নারী শিক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে বারবার মানুষকে পড়াশোনা করতে, জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে আল্লাহর
বিস্তারিত