আমি অনেক আশাবাদী মানুষ

"Only dead fish goes with the flow."

স্রোতের বিপরীতে সাঁতার না কাটার সুপরামর্শ বেশিরভাগ সহকর্মী, অনেক আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু বান্ধব দিয়েছেন। খরস্রোতা নদীতে সাঁতার কাটতে কেমন কষ্ট হয় সেটা নদী মাত্রিক দেশের মানুষ হিসেবে আমরা সবাই কম বেশি জানি।

প্রথম দিকে বেশিরভাগ মানুষই স্রোতের বিপরীতে চলতে চেষ্টা করেন, কিন্তু স্রোতের তীব্রতা তাদের সমুদ্রে ফেলে দেয় যেখানে বড় রাঘব বোয়ালরা তাদের গিলে ফেলে। সেখান থেকে কেউ বেড় হয়ে আসতে পারে আবার কেউ আসতে পারে না। সেই রাঘব বোয়ালের নাম হলো লোভ। অনেকটা গুড়ের পাত্রে বসা মাছির মতো। এতো বেশি গুড় খায় যে গুড়ের পাত্রেই তার মৃত্যু হয়।

আবার কেউ কেউ স্রোতের ভয়ে সাঁতার কাটতে সাহস পান না। তারা ডাঙ্গায় উঠে বসে থাকেন কবে স্রোত থামবে। কিন্তু চির বহমান এই স্রোত কখনো থামেনা আর তারাও নদীতে নামতে পারেন না। অনন্তকাল ধরে তারা অপেক্ষায় অপেক্ষায় অবসরে চলে যান। তাদের নিয়ে সেই ডেড ফিশদের সমস্যা হয় না। কারণ তারা বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে শুধু নীতি নৈতিকতার গল্প বলেন। ডেড ফিশদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

ডেড ফিশদের সব থেকে বড় শত্রু স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা কিছু চেলাপাতা মাছ। এই মাছেরা সারাজীবন সাঁতার কেটে যায়। কোথাও বোয়াল, কোথাও শোল, এমনকি মাঝে মধ্যে ভেটকিমাছও গিলে খেতে চায় সুযোগ পেলে। কেন খেতে চায়? শুধু ডেড ফিশেরাই জানে। আর জানে সেই চেলাপাতা মাছ।

যারা স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে দেয় তাদের নিজস্বতা বলে কিছু নেই। স্বকীয়তা বলে তাদের চরিত্রে কিছু নেই। সারাজীবন তারা লোভের সাগরে ঢুবে থাকে আর তেলবাজি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। অন্যের পা চ্যাটে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।    

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এখন সেই ডেড ফিশদের ধরতে শুরু করেছে। কেউ একজন বলেছিল বাংলাদেশের নিজের টাকায় দশটা পদ্মাসেতু নির্মাণ করা সম্ভব যদি রাঘববোয়ালদের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তার বড় প্রমাণ কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি সাহেব।

আমি অনেক আশাবাদী মানুষ। স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে যারা বাংলাদেশকে লুটেপুটে খেয়েছে, দুদক তাদের নাড়িভুঁড়ি বের করে আনবে। এবার সে পুটি মাছ হোক বা বোয়াল মাছ হোক। আর যারা স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছে তারা সেই সময় তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলবেন, সাঁতার কাটা শরীর স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো তেমনি সম্মানের জন্যেও ভালো।

লেখক- ফাহাদ মোহাম্মদ, ট্রাফিক সার্জেন্ট, বাংলাদেশ পুলিশ।


গাড়ির নাম্বারে গ্রেফতারী পরোয়ানা, জেনে
বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, পিক-আপ ইত্যাদি গাড়ি চালিয়ে মামলা হলে
বিস্তারিত
সঠিক জায়গায় প্রকৃত নেতাদের মূল্যায়ন
১৯৯২ সালে বরগুনা জেলা স্কুল শাখা ছাত্রলীগে নাম লিখিয়ে তার
বিস্তারিত
রোহিঙ্গা সংকট ও আন্তর্জাতিক শক্তির
রাতের অন্ধকার কেটে পূর্ব প্রভাতের ক্ষীণ আলোচ্ছটায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে
বিস্তারিত
যে সমাজের মানুষ যেমন সেই
যখন কোনো বন্ধুর সাথে সিভিল পোশাকে দেখা হয় তখন সবাই
বিস্তারিত
ভেঙে যাওয়া বিয়ে দিয়ে ফের
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি সুপার শপ থেকে দুধ চুরি করতে গিয়ে
বিস্তারিত
নিজের নিরাপত্তায় হেলমেট ব্যবহার করেন
বাংলাদেশে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সবথেকে বড় সমস্যা হলো অতি গরীব
বিস্তারিত