থাই পেয়ারা থ্রি চাষে বেকারত্ব জয়

বিভিন্ন ফলের বাগান করে দেশের অনেক বেকার তাদের বেকারত্ব জয় করেছেন, হয়েছেন স্বাবলম্বী, এমন প্রমাণ প্রায় প্রতিটি এলকাতেই মিলে। তবে থাই পেয়রা-থ্রি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন শেরপুরের অনেক পেয়ারা চাষী। থাই পেয়রা-থ্রি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় জেলার নকলা উপজেলার শিক্ষিত বেকার যুবকরা নিজের বেকারত্ব জয় করতে বা স্বাবলম্বী হতে এই ফল চাষে ঝুঁকছেন।

সফল হওয়া চাষীদের মধ্যে এমন একজন হলেন, পৌরসভার কায়দা এলাকার নাজমুল হক। তিনি ৩ বছর আগে নাটোর থেকে এ জাতের পেয়ারার চারা এনে আবাদ করে অল্প সময়ের মধ্যেই আজ সফল পেয়ারা চাষী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি যেন শিক্ষিত বেকারদের সফল হওয়ার মডেলে পরিণত হয়েছেন। তার সফলতা দেখতে ও পরামর্শ নিতে বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকরা তার কাছে আসেন, যা লক্ষ্য করার মতো।

পেয়ারা বাগানে পরিচর্যারত অবস্থায় নাজমুল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এপর্যন্ত ৩ লক্ষাধিক টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছেন। বাগানে আরো যে পরিমাণ পেয়ারা আছে তা থেকে এবছর আরো অন্তত অর্ধলাখ টাকা আয় করতে পারবেন। তার এ সফলতা দেখে পেয়ারা চাষে আগ্রহী হয়েছেন এলাকার অনেকে। এরিমধ্যে কেউ কেউ পেয়ারার বাগান করে সফলতার মুখদেখা শুরু করেছেন। 

এখানকার চাষীদের উৎপাদিত পেয়ারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ পাশ্ববর্তী জেলা উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। নাজমুল হক বলেন, চাষ উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া পেয়ারা চাষের অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় থাই পেয়ারা চাষ করে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। তার বাগানের প্রতিটি পেয়ারার ওজন ২৫০ থেকে ৪৫০ গ্রাম পর্যন্ত। প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি করে পেয়ারা ধরে। পরিকল্পনা মোতাবেক কৃষি বিভাগের পরামর্শে পেয়ারা চাষ করলে প্রতিটি পেয়ারা গাছ থেকে প্রতিবছর এক হাজার থেকে একহাজার ৫০০ টাকার পেয়ারা পাওয়া যায়। এবছর তার বাগান থেকে ১৭ হাজার ভালো মানের পেয়ারা বাজারজাত করেছেন। আরো কয়েক হাজার পেয়ারা গাছে ঝুলছে, যা সরজমিনে দেখা গেছে।

মাত্র ৩ বছর আগে নাটোর থেকে পেয়ারার চারা এনে ৬০ শতাংশ জমিতে ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে ২৪০টি চারার মাধ্যমে বাগান তৈরি করেন নাজমুল। পরের বছর থেকে ফলন আসে এবং সারা বছরই কম-বেশি ফলন পাওয়া যায়। বাজারে পেয়ারার দাম কম হলেও অধিক ফলনে লাভবান হওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। নাজমুলসহ ভুরদী এলাকার হেলাল, মনির, কামাল; বাছুর আলগার মোকসেদ, আজিম; বানেশ্বরদীর শামীম, দেলুয়ারসহ অনেকে জানান, তাদের উৎপাদিত পেয়ারা নিরাপদ হওয়ায় বেশ সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। তাই এখানকার পেয়ারার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। পেয়ারার রোগবালাই দমনে কোনো রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়না। 

রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে তার বাগানে জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নিরাপদ পেয়ারা উৎপাদনে পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করছেন কৃষি বিভাগ। এমনটা বললেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি ও কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, নকলার মাটি যে কোনো ফল চাষের জন্য উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ আগে শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকলেও, এখন তারা ছাষের ধরন পরিবর্তন করেছেন। বর্তমানে ধানের দরপতনসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কারণে চাষীরা লাভজনক ফল বাগানের দিকে ঝুঁকছেন। নতুন করে ফল বাগান তৈরীর জন্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছেন মাঠ পর্যায়ে কাজ করা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন। তিনি বলেন, দেশে কাক্সিক্ষত পরিমাণে দেশীয় ফলের চাষ করতে পারলে, বিদেশ থেকে ফল আমদানি বাবদ খরচ কমবে; পাশাপাশি কমবে বেকারত্বের সংখ্যা। এ লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস।


শেরপুরে নতুন পেঁয়াজে মিলছে কাঁচা
দেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক তখনই
বিস্তারিত
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্যে আসছে টাকা,
মানুষের ব্যবহার্য্য প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত পণ্যের কারনে প্রতি মুহুর্তে পরিবেশ
বিস্তারিত
রংপুরে বেগুন চাষে বাজিমাত আ.
“পরিশ্রমে ধন আনে, পূর্ণে আনে সুখ, অলসতা দারিদ্রতা, পাপে আনে
বিস্তারিত
সন্ধ্যা নদীর পাড়ে জমজমাট ভাসমান
যুগ যুগ ধরে উপকূলীয় জেলাগুলোতে চাষাবাদ আমন ধানের। এই ধান
বিস্তারিত
নকলার জাম্বুরার কদর রাজধানীসহ সারাদেশে
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানকার জাম্বুরা
বিস্তারিত
দেড় হাজার টাকায় খামার শুরু,
গল্পের শুরুটা ২০০২ সালের। তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা প্রাণীসম্পদ অফিসারের সহযোগিতায় মাত্র
বিস্তারিত