কোরবানির বিধিবিধান

কোরবানির পশু সুন্দর ও নিখুঁত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন কোরবানির পশুর পশম, খুর ও শিংসহ উপস্থিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ : ৩২১৬)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা কোরবানির পশু শক্তিশালী ও মোটাতাজা দেখে নির্বাচন করো, কারণ এগুলো পুলসিরাতের ওপর তোমাদের বাহন হবে।’ (মুসনাদুল ফিরদাউস : ১/৮৫)

কোরবানি শব্দের অর্থ হলো নিকটবর্তী করে দেওয়া। কোরবানির মাধ্যমে প্রকাশ পায় আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভুত্ব¡। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এভাবে তিনি এ চতুষ্পদ জন্তুগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।’ (সূরা হজ : ৩৪)। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় কর ও পশু কোরবানি কর।’ (সূরা কাওসার : ২)। 
যাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব : ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক, মুকিম ব্যক্তি, যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তাদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। সোনার নিসাব ৮৭.৪৮ গ্রাম বা সাড়ে সাত ভরি। রুপার নিসাব ৬১২.৩৬ গ্রাম বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি। অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার মূল্যমান প্রযোজ্য হবে। রুপার মূল্যমান ধরা হলে টাকার অঙ্কে তা আনুমানিক ৫৫ হাজার টাকা। কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকার শর্ত প্রযোজ্য নয়, বরং কোরবানির দিন এ পরিমাণ সম্পদ মালিকানায় থাকলেই তাকে কোরবানি করতে হবে। আর ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অলংকার, সোনা-রুপা, পোশাক-পরিচ্ছেদ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, খোরাকির প্রয়োজনে আসে না, এমন জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়িও নিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব সম্পদের ওপরও এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়।
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব তার পক্ষ থেকে কোরবানি না করে অন্যের পক্ষে কোরবানি করলে ওয়াজিব আদায় হবে না। তবে নিজের পক্ষ থেকে করার পর অন্যের পক্ষেও করা যেতে পারে। আবার যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, সে কোরবানির অর্থ দান করে দিলে কোরবানির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে না। তাকেই কোরবানি করতে হবে। কিন্তু যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব তার পক্ষে পরিবারের কেউ কোরবানি করে দিলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
কোরবানির পশুর বৈশিষ্ট্য : কোরবানির পশু সুন্দর ও নিখুঁত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন কোরবানির পশুর পশম, খুর ও শিংসহ উপস্থিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ : ৩২১৬)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা কোরবানির পশু শক্তিশালী ও মোটাতাজা দেখে নির্বাচন করো, কারণ এগুলো পুলসিরাতের ওপর তোমাদের বাহন হবে।’ (মুসনাদুল ফিরদাউস : ১/৮৫)। তাই কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য কোরবানির পশুর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।
প্রথমত, কোরবানির পশু হতে হবে দোষত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে না, সেগুলো হচ্ছেÑ ১. দৃষ্টিশক্তি না থাকা। ২. শ্রবণশক্তি না থাকা। ৩. অত্যন্ত দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ হওয়া। ৪. এ পরিমাণ ল্যাংড়া যে, জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম। ৫. লেজের অধিকাংশ কাটা। ৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা। ৭. কানের অধিকাংশ কাটা। ৮. গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া। ৯. পাগল হওয়ার কারণে ঘাস-পানি ঠিকমতো না খাওয়া। ১০. অধিকাংশ দাঁত না থাকা। ১১. রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া। ১২. ছাগলের দুটি দুধের যে কোনো একটি কাটা। ১৩. গরু বা মহিষের চারটি দুধের যে কোনো দুটি কাটা। মোটকথা কোরবানির পশু বড় ধরনের দোষত্রুটি থেকে মুক্ত হবে। যেমন হাদিসে এসেছেÑ ‘চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না। অন্ধÑ যার অন্ধত্ব স্পষ্ট। রোগাক্রান্তÑ যার রোগ স্পষ্ট। পঙ্গুÑ যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহতÑ যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।’ (ইবনে মাজাহ : ৩১৪৪)। 
দ্বিতীয়ত, পশুর মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকলেও কোরবানি দেওয়া যাবে, সেগুলো হচ্ছেÑ ১. গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েজ। জবাই করার পর বাচ্চা জীবিত থাকলে সেটাও জবাই করতে হবে। কিন্তু বাচ্চা প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কোরবানি করা মাকরুহ। ২. পশু পাগল; তবে ঘাস-পানি ঠিকমতো খায়। ৩. লেজ বা কানের কিছু অংশ কাটা; তবে অধিকাংশ আছে। ৪. জন্মগতভাবে শিং নেই। ৫. শিং আছে; তবে ভাঙা। ৬. কান আছে; তবে ছোট। ৭. পশুর একটি পা ভাঙা; তবে তিন পা দিয়ে সে চলতে পারে। ৮. পশুর গায়ে চর্মরোগ। ৯. কিছু দাঁত নেই; তবে অধিকাংশ আছে। স্বভাবগত এক অ-কোষবিশিষ্ট পশু। ১০. পশু বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে বাচ্চা জন্মদানে অক্ষম। তবে উত্তম হচ্ছে ত্রুটিমুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া, ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কোরবানি দেওয়া অনুচিত।
তৃতীয়ত, কোরবানির পশু, পশুর বয়স ও শরিকি কোরবানির ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, তা হচ্ছে কোরবানির পশু হচ্ছে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, ইত্যাদি। উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু-মহিষ কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কমপক্ষে এক বছরের হতে হবে। অবশ্য ছয় মাসের ভেড়া যদি দেখতে মোটাতাজা হয় এবং এক বছর বয়সের মতো মনে হয়, তাহলে তা দিয়েই কোরবানি বৈধ। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পশু শুধু এক ব্যক্তিই কোরবানি দিতে পারবে। গরু, মহিষ, উট সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তি মিলে কোরবানি দিতে পারবে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একটি উট ও গরু-মহিষে সাত ব্যক্তি কোরবানির জন্য শরিক হতে পারে।’ (মুসলিম : ৩২৪৮)।


নারী শিক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে বারবার মানুষকে পড়াশোনা করতে, জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে আল্লাহর
বিস্তারিত
কোরআন-হাদিসে একতার গুরুত্ব
কোরআন এবং হােিদস সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিম জাতি এক প্রাণ
বিস্তারিত
সালাম সম্প্রীতির বিকাশ ঘটায়
দেখা-সাক্ষাতে আমরা একে অপরকে শুভেচ্ছা-অভিবাদন জানাই। এটি আমাদের সহজাত একটি
বিস্তারিত
নীলসাগর
ভ্রমণ একটি আনন্দময় ইবাদত। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উৎস। ভ্রমণের অন্যতম
বিস্তারিত
লোক-দেখানো দান সদকা নয়
ইসলামি পরিভাষায় দান করাকেই সদকা বলা হয়। সদকা শব্দটি এসেছে
বিস্তারিত
সদকার ব্যাপকতা
পৃথিবীতে চলমান অধিকাংশ পেশাই এমন, যেগুলো আল্লাহপাকের ইবাদতের মাধ্যম হতে
বিস্তারিত