গোটা মুসলিম জাতি এক দেহের মতো

ইসলামে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধভাবে জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে (ইসলাম) আঁকড়ে ধর (ঐক্যবদ্ধ হও) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)

ইসলামে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধভাবে জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে (ইসলাম) আঁকড়ে ধর (ঐক্যবদ্ধ হও) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। 
এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, সংঘবদ্ধ জীবনযাপন, আমিরের নির্দেশ শ্রবণ, নির্দেশ পালন, হিজরত এবং আল্লাহর পথে জিহাদ। যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধতা ত্যাগ করে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেছে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলেছে। যদিও সে নামাজ কায়েম করে এবং রোজা পালন করে এবং মুসলমান বলে দাবি করে (তবুও সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে)।’ (তিরমিজি : ২৭৯০)। 
বর্তমানে মুসলমানদের লাঞ্ছনা, পরাজয় ও পরাধীনতার জন্য তাদের অনৈক্য অনেকাংশে দায়ী। নিজেদের পারস্পরিক হানাহানিতেই তাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত না হয়, তবে এই দমন-পীড়ন ও নির্যাতন তাদের ওপর চলতেই থাকবে। পৃথিবীর কোথাও থাকবে না তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আধিপত্য। এ কথারই যেন প্রতিধ্বনি হচ্ছে নিম্নোক্ত আয়াতে, ‘আর আনুগত্য করো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের এবং কোনো বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, পাছে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে।’ (সূরা আনফাল : ৪৬)। 
মুসলমান ভীরু বা কাপুরুষ কোনো জাতি নয়। তারা হচ্ছে বীরের জাতি। আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের এই পৃথিবীতে পরাজিত শক্তি হিসেবে নয়; বরং বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এরশাদ হচ্ছে, ‘তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রাসুলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের ওপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।’ (সূরা তাওবা : ৩৩)। 
মুসলিম উম্মাহর বিচ্ছিন্নতা ও বিভক্তির সুযোগে ইসলামের দুশমনরা মুসলমানদের ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদের মুসলমানরা আজ চরম নিষ্ঠুরতা ও নিপীড়নের শিকার। ফিলিস্তিন, মিয়ানমার ও কাশ্মীরের নিপীড়িত মুসলমানদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। ভারতে মুসলমানদের জীবন গরুর জীবনের চেয়েও মূল্যহীন। গরুর গোশত পাওয়া গেছে অজুহাতে মুসলমানকে হত্যা করা হচ্ছে। জয় শ্রীরাম না বলার কারণে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এখন কাশ্মীরের নিরপরাধ জনগণকে অবরুদ্ধ করে গণহত্যার সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদিরা। এসব কিছুর পরও মুসলিম জাতির শাসকগোষ্ঠী কাপুরুষের মতো নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উচিত তাদের শাসকবর্গের ওপর চাপ প্রয়োগ করা, যাতে শাসকরা জালিমদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। আর মুসলিম শাসকদের উচিত ওআইসিকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করা। 
জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। জাতিসংঘ গঠিত হয়েছে ইহুদি-খ্রিষ্টান স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য। মুসলমাদের পক্ষে জাতিসংঘ কখনও কাজ করেনি, করবেও না। মুসলমানদেরই মুসলমানের কথা ভাবতে হবে। মজলুমের পক্ষে এগিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ তায়ালা জালিমের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে সম্বোধন করে বলেন, ‘তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না, দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।’ (সূরা নিসা : ৭৫)।
পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলমান কষ্টের সম্মুখীন হলে এবং বিপদগ্রস্ত হলে মুসলমান হিসেবে তার বিপদে এগিয়ে যাওয়া আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। কোনো মুসলমানের কষ্ট, বেদনা ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সত্যিকার মোমিন কখনও নির্বিকার থাকতে পারে না। ঈমানেরও দাবি হচ্ছে, সুখে-দুঃখে এক মোমিন অপর মোমিনের পাশে থাকবে। তাদের কষ্ট লাঘবে সদাতৎপর থাকবে। রাসুল (সা.) সব মুসলমানকে একটা দেহের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া-মায়া ও স্নেহ-মমতার দিক থেকে গোটা মুসলিম সমাজ একটি দেহের সমতুল্য। যদি দেহের কোনো একটি অঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে বাকি সব অঙ্গ-বিনিদ্রা ও জ্বরাক্রান্ত হয়ে আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গের সঙ্গে সমব্যথায় ব্যথিত হয়।’ (মুসলিম : ৬৭৫১)।
তিনি আরও বলেছেন, ‘একজন মোমিন অপর মোমিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ আরেক অংশকে মজবুত করে।’ (মুসলিম : ৬৩৪৯)। অর্থাৎ সবল মোমিনদের সাহায্য-সহযোগিতায় অসহায় ও দুর্বলরা সবল হয়ে উঠবে, তাদের দুর্দশা কেটে যাবে। এটিই সত্য ধর্ম ইসলামের শিক্ষা ও প্রত্যাশা। মুসলমানদের ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে ঈমান। ঈমানদাররা নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রেরণা পেয়ে থাকে। তাদের মধ্যে ঈমানের পরিমাণ যত বেশি থাকবে, তারা তত বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, প্রকৃতপক্ষে ঈমানদাররা পরস্পরের ভাই (সূরা হুজুরাত : ১০)। রাসুল (সা.) মোমিনকে ভালোবাসা ঈমানের মাপকাঠি হিসেবে সাব্যস্ত করে বলেছেন, ‘ঈমান ছাড়া তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, পরস্পরকে ভালোবাসা ছাড়া তোমরা মোমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলে দেব না, যাতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? পরস্পরকে সালাম দেবে। (মুসলিম : ২০৩)।


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত