জান্নাতে ঘর তৈরির আমল

দুনিয়ার জমিনে বিভিন্ন ডিজাইনের ঘর তৈরি করার জন্য কত কষ্ট করে টাকা উপার্জন করি। সবাই টাকা-পয়সা অর্জন করে একটু জমি ক্রয় বা ক্রয়কৃত জমির ওপর ঘর কিংবা তৈরিকৃত ঘর ভেঙে নতুনভাবে উন্নত করে ঘর নির্মাণ করা হয়। দুনিয়ায় ঘর নির্মাণ করলে সে ঘরে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করা যায় নাÑ এটা আমরা সবাই জানি। পরকালে যদি জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয় সেই ঘরে চিরস্থায়ীভাবে থাকা যাবে আর সেটাই হবে সবচেয়ে বেশি আনন্দের। জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে প্রয়োজন দুনিয়ায় নেক আমল আর নেক আমল করলেই মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে সেই নেক আমলের বিনিময়ে বান্দাকে ঘর তৈরি করে দেবেন। জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে সর্বপ্রথম  দুনিয়ার জমিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য ঘর নির্মাণ করে দিয়ে সেই ঘরের মালিক বানিয়ে দেবেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মসজিদ নির্মাণ করল তার জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন।’ (মুজামুস সগির-১১৬১, শুআবুল ঈমান-২৯৩৯)।
মসজিদ তৈরি করার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। এরপরও যার যতটুকু সম্ভব মসজিদ নির্মাণ বা মসজিদ উন্নতকরণের জন্য কিছু টাকা বা শ্রম দিতে হবে। তাছাড়া সময় পেলেই মসজিদে গমন করতে মুসল্লিদের কষ্ট হবে এমন কোনো বস্তু সামনে পরলে মসজিদের খাদেমের অপেক্ষায় না থেকে তা দূর করে সবসময় মসজিদকে পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। হজরত সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে ময়লা-আবর্জনা কিংবা কষ্ট হয় এমন বস্তু দূরীভূত করবে তার জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন।’ (ইবনে মাজাহ ২/৩২৯; তুহফাতুল আশরাফ, ৫/৩৬২)।
জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে ফরজ নামাজের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের দিকে রাসুল (সা.) গুরুত্ব দিয়েছেন। সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ দৈনিক ১২ রাকাত আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন। হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফরজ নামাজগুলো ছাড়া দৈনিক বার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ আদায় করল তার জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন।’ (ইবনে মাজাহ-১১৪১)।
ঘর তৈরি করতে হলে বাজারে গিয়ে টাকা দিয়ে ঘর তৈরির জিনিসপত্র আনতে হয় আর বাজারে প্রবেশ করেও বিনা টাকায় জান্নাতে ঘর তৈরি করা যায়, সে জন্য প্রয়োজন হয় শুধু একটি দোয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে ‘লা-ইলাহা ইল্লাাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহইয়ু ওয়া ইউমিতু ওয়াহুয়া ইউমিতু ক্ষিয়াদিহিল খাইরু কুল্লুহু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ এ দোয়টি পড়বে আল্লাহ তায়ালা তার আমলনামায় দশ লাখ নেকি লিখে দেবেন আর তার দশ লাখ পাপ মোচন করে দেবেন এবং  দশ লাখ মর্যদা বৃদ্ধি করবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ (তিরমিজি-৩৪২৯, আহমদ-৩২৯)।
জান্নাতে সেই ব্যক্তি ঘর তৈরি করতে পারবে যে কি-না তার সন্তানের মৃত্যু হলে ধৈর্য ধরতে পারবে। অর্থাৎ সন্তান জন্মগ্রহণ করে বা মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি সন্তান মৃত্যুবরণ করে তাহলে সেই সন্তানের মা-বাবার ধৈর্য ধারণ করাটা খুব কষ্টের হয়ে যায়। তখন যেই মা-বাবা সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত-বন্দেগি করবে তাকে আল্লাহ তায়ালা ‘বাইতুল হামদ’ নামক একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন। হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যখন কারও সন্তান মারা যায় তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের ডেকে বলেন যে, তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করে ফেলেছ? তারা বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা তার কলিজার টুকরার জান কবজ করে ফেলছ? তারা বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার বান্দা কি বলছে? তারা বলেন আপনার বান্দা এই বিপদেও ধৈর্য ধারণ করে আপনার প্রশংসা করেছে এবং ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং তার নামকরণ কর বাইতুল হামদ প্রশংসার গৃহ।’ (মিশকাত : ১৭৩৬; তিরমিজি, ৩য় খ-, পৃষ্ঠা ২১)।
জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে দুনিয়ার জমিনে কখনও মিথ্যা কথা বলা এবং ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকবে যদিও সে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় আমি তার জন্য জান্নাতের নিম্নাংশে একটি ঘরের জামিন হলাম। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকবে যদিও তা ঠাট্টার ছলে হোক আমি তার জন্য জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে একটি গৃহের জামিন হলাম আর যে ব্যক্তির চরিত্র সুন্দর হবে তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে একটি গৃহের জামিন হলাম।’ (আবু দাউদ-৪৮০০, বাইহাকি-২১৭৮০)।


লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা


হতাশাকে জয় করতেই হবে
হতাশা শব্দের অর্থ নিরাশা, নৈরাশ্য, আশাভঙ্গ ইত্যাদি। হতাশা মানব জীবনের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : অনেকে বলে থাকেন, এখন তো সব চাকরিতেই ঘুষ
বিস্তারিত
শির দেগা নেহি দেগা আমামা
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাই এ নিয়োগের ব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি
বিস্তারিত
মানুষ হত্যা মহাপাপ
বিনা কারণে মানুষ হত্যা জঘন্যতম একটি মহাপাপ। এটা ইসলাম ধর্মের
বিস্তারিত
আধুনিক ইসলামি অর্থনীতি-চিন্তার বিকাশ ।। আবদুস
বর্তমানে বিশ্বে ১ হাজার ১৪৩টি ইসলামি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর
বিস্তারিত
দুর্নীতির নাগপাশে বন্দি মানুষ
দুর্নীতি আজ আকাশ ছুঁয়েছে। বালিশ-তুলা থেকে পর্দা কাহিনি মানুষের মনে
বিস্তারিত