সদকার ব্যাপকতা

পৃথিবীতে চলমান অধিকাংশ পেশাই এমন, যেগুলো আল্লাহপাকের ইবাদতের মাধ্যম হতে পারে। যেমন দেখুন, কাপড় না পরে নামাজ হয় না। তাই শুদ্ধ নিয়তে কাপড় বোনাও ইবাদত। কারণ তা নামাজ পড়ার জন্য

হজরত মিকদাম ইবনে মাদি কারাবা (রা.) এর হাদিস, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে ব্যয় করা হয়; তাই সদকা। ধনসম্পদ হোক, কোনো কথা হোক কিংবা কাজ হোক, উদ্দেশ্য হবে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি। কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে খুশিমনে সাক্ষাৎ কিংবা নিজের পানির বালতি থেকে আরেক ভাইয়ের বালতিতে একটু পানি ঢেলে দেওয়া, এমনকি আরেক মুসলমানকে সালাম দেওয়াও সদকা। সদকার বিষয়টি খুবই ব্যাপক। শুধু অর্থসম্পদের সঙ্গেই সদকা সম্পর্কিত নয়। কোনো বিশেষ মানুষের সঙ্গেও সম্পর্কিত নয়। নিজের খানাপিনার জন্য অর্থ ব্যয় করাও সদকা। নিজের বিবি-বাচ্চাদের খানাপিনার ব্যবস্থা করাও সদকা। কেউ যদি স্বেচ্ছায় না খেয়ে উপোস করে মারা যায়, তাহলে সে গোনাহগার হবে।
সুফিদের মাঝে ‘নফসকুশি’ বা প্রবৃত্তি দমনের সাধনা প্রচলিত, শব্দটি তাদের একটি বিশেষ পরিভাষা। এর বাহ্যিক অর্থ করার তো সুযোগ নেই, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ তোমার ওপর তোমার নিজেরও অধিকার রয়েছে। সুফিদের কাছে ‘নফসকুশি’র অর্থ হলো, নফস বা মনের অন্যায় সব চাহিদা ধ্বংস করে দেওয়া। আর এটাই হলো তাসাউফের সার কথা। 
এই মানবদেহ একটি সরকারি মেশিনের মতো, আমাদের তা ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হয়েছে। এ মেশিনে তেল দিতে হয়। খাবার-দাবারই এ মেশিনের তেল। এ দেহ আমাদের কাছে এক আমানত। এর যথাযথ যতœ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ মেশিনে তেল না দেওয়ার অর্থ তো এই, কর্মচারী সরকারি মেশিনে তেল দেওয়ার দায়িত্ব পালন না করে তা নষ্ট করে ফেলল। এ মেশিন আল্লাহপাকের বানানো, এটা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি নয়। তাই এতে মহান মালিকের বিধান অবশ্যই মেনে চলতে হবে। 
কিন্তু কথা হলো, এজন্য নিয়ত শুদ্ধ হতে হবে। নিয়ত যদি এমন হয়Ñ এ খানাপিনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালার একটি হুকুম মানা হচ্ছে, তাহলে এ খাবার গ্রহণও সদকা বলে গণ্য হবে। আর নিজে খাওয়াই যখন সদকা, তখন বিবি-বাচ্চাদের খাবার খাওয়ানো তো অবশ্যই সদকা ও সওয়াবপ্রাপ্তির কারণ বলে বিবেচিত হবে। নাবালেগ সন্তানদের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা বাবার দায়িত্ব। অবাধ্য নয়, এমন স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর দায়িত্ব। চাকর-নওকরদের পানাহারের ব্যবস্থা করাও সদকা। দেখতে যদিও এগুলোকে পার্থিব কাজ মনে হচ্ছে; কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এসবকেও সদকা বানিয়ে দিয়েছেন; তবে শর্ত একটাইÑ উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য।
পৃথিবীতে চলমান অধিকাংশ পেশাই এমন, যেগুলো আল্লাহপাকের ইবাদতের মাধ্যম হতে পারে। যেমন দেখুন, কাপড় না পরে নামাজ হয় না। তাই শুদ্ধ নিয়তে কাপড় বোনাও ইবাদত। কারণ তা নামাজ পড়ার জন্য। তাই এভাবে নিয়ত করুনÑ নামাজ পড়া, সতর ঢাকা এবং মানুষের মাঝে সৌন্দর্য অবলম্বনের জন্য আমরা কাপড় বুনি আর বিক্রি করি; নিজে খাবার খাওয়া ও অন্যকে খাওয়ানোর জন্য আমরা প্লেট বানাই ও বিক্রি করি। নিজে খাওয়া এবং অন্যকে খাওয়ানো সবই ইবাদত। এভাবে সবকিছুই ইবাদতের মাধ্যম হতে পারে। হ্যাঁ, যদি শুধু পেট ভরাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে অবশ্য ইবাদত হবে না। 

অনুবাদ : মাওলানা শিব্বীর আহমদ


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত