সালাম সম্প্রীতির বিকাশ ঘটায়

দেখা-সাক্ষাতে আমরা একে অপরকে শুভেচ্ছা-অভিবাদন জানাই। এটি আমাদের সহজাত একটি গুণ। মানবসমাজে এ প্রচলন চলে আসছে প্রাচীনকাল থেকে। মুসলমান যারা ইসলামে সমর্পিত তাদের শুভেচ্ছা-অভিবাদন প্রকাশ করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। তা হলো সালাম আদান-প্রদান। একজন বলবে আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি। অপরজন বলবে ওয়ালাইকুম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। সালাম ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম সৌন্দর্য। ইসলাম যে সাম্যের কথা, ধনী-গরিবে ভেদাভেদ মোচনের কথা বলে তা বাস্তবায়নের প্রথম উপায় হলো, পারস্পরিক সালামের আদান-প্রদান।
সালাম আরবি শব্দ। এর অর্থ শান্তি, প্রশান্তি, কল্যাণ, দোয়া ইত্যাদি। একে অপরের জন্য কল্যাণ ও শান্তির প্রার্থনার মাধ্যমে সাক্ষাৎ ও কথাবার্তার সূচনাই সালামের মূলকথা। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সালাম শিক্ষা দেন। হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা তাকে ফেরেশতাদের সালাম দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সালাম দিলে ফেরেশতারা প্রতিউত্তর দেন। কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কথা বলার আগে সালাম দেওয়া নবীজির আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (সা.) কে এক সাহাবি প্রশ্ন করলেনÑ ইসলামের শ্রেষ্ঠ আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘তুমি মানুষকে খাবার খাওয়াবে আর তোমার পরিচিত-অপরিচিত সব্ইাকে সালাম দেবে।’ (বোখারি : ১২)। তাই দেখা-সাক্ষাতে সালাম দেওয়া প্রিয় নবীজির সুন্নত। অতঃপর কেউ যখন কাউকে সালাম দেয়, তখন এর উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। এ আদেশ সরাসরি আল্লাহ তায়ালার। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয় তখন তোমরা এর চেয়ে উত্তম পন্থায় সালামের উত্তর দাও কিংবা (অন্তত) ততটুকুই বলো।’ (সূরা নিসা : ৪)। 
রাসুল (সা.) মুসলমানদের সালামের অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। সালামের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। সম্পর্ক গভীর ও মধুর হয়। শত্রুতা দূর হয়। সমাজে সৌজন্যমূলক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তোমাদের ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা একে অন্যকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের কথা বলব, যখন তোমরা তা করবে, তখন একে অন্যকে ভালোবাসবে। তোমরা তোমাদের মাঝে সালামের প্রচলন ঘটাও।’ (মুসলিম : ৫৪)। পাশাপাশি সালাম মানুষকে অহংকার থেকে মুক্ত রাখে। তবে এ জন্য শর্ত হলো আগে সালাম দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার থেকে মুক্ত।’ (বায়হাকি : ৮৪০৭)। রাসুল (সা.) এতই সচেতন ছিলেন যে, শিশুদের পর্যন্ত তিনি সালাম দিতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেছেন, নবী করিম (সা.) যখন আনসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যেতেন তখন তাদের শিশুদের সালাম দিতেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। (নাসাঈ : ৮২৯১)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘আমরা শুধু সালাম দেওয়ার জন্যই বাজারে যাই। যার সঙ্গে দেখা হয় তাকেই আমরা সালাম দিয়ে থাকি।’ (মুয়াত্তা : ১৭২৬)। তাই আসুন পরস্পরে সালাম আদান-প্রদানের চর্চা করি। সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বিকাশ ঘটাই। তাহলে অহংকারমুক্ত হবে হৃদয়।
হ জুবায়ের রশীদ


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত