কোরআন-হাদিসে একতার গুরুত্ব

কোরআন এবং হােিদস সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিম জাতি এক প্রাণ এক দেহÑ এ চেতনাবোধ ক্ষীণতর হয়ে আসছে। ইসলামে মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের। এ সম্পর্কের ভিত্তি ইসলামের একটি স্তম্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইসলামের অপরিহার্য বিধান উপেক্ষা করে মুসলিম জাতি আজ শতধাবিভক্ত। অথচ মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিশ্বের সব তাগুতি শক্তি আজ এক প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ আজ পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ, নিন্দাবাদের ঘৃণ্য সেøাগান ও কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত। ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতালিপ্সা পরিহার করে ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে এক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। সংঘবদ্ধতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনসহ ইসলাম ও রাষ্ট্রের অসমান্য অবদান রাখা সম্ভব। ভেদাভেদ, অনৈক্য, ফিরকা ইত্যাদি ভুলে গিয়ে ইস্পাত কঠিন ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়াই কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা। ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) জোর তাগিদ দিয়েছেন। মহান অল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই মোমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সূরা হুজরাত : ১০)। তাওহিদের পর মোমিনদের যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে তা হলো সংঘবদ্ধতা। ইসলামে সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধতা সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, তোমরা সেইসব লোকের মতো হবে না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৫)। আল্লাহ তায়ালা আরও এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, সালাত কায়েম করো এবং কখনও মুশরিকদের দলভুক্ত হবে না, যারা তাদের দ্বীনকে টুকরো করে দিয়েছে এবং নিজেরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে, এদের প্রত্যেকটি দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়েই মত্ত।’ (সূরা তওবা : ৩১-৩২)। মহান রাব্বুল আলামিন আরও এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমারা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা ইমরান : ১০৩)। কোরআনে আরও এরশাদ হয়েছেÑ ‘নিশ্চয়ই আমি তাদের বেশি ভালোবাসি যারা আল্লাহর রাস্তায় এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, ঠিক যেন সিসাঢালা এক সুদৃঢ় প্রাচীর।’ (সূরা সফ : ৬১)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘মোমিনরা একজন মানুষের মতো, যার চোখ আক্রান্ত হলে সমস্ত শরীর আক্রান্ত হয় আর তার মাথা আক্রান্ত হলে সমস্ত শরীর আহত হয়।’ (মুসলিম : ২৫৮৬)। হজরত হারিছ আল আশ’আরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, স্বয়ং রব আমাকে এগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়গুলো হচ্ছে : ১. সংঘবদ্ধ, ২. আমিরের নির্দেশ শ্রবণ, ৩. আমিরের নির্দেশ পালন, ৪. হিজরত, ৫. অল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধতা ত্যাগ করে এক বিঘৎ পরিমাণ দূরে সরে গেছে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলেছে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) সালাম কায়েম এবং সাওম পালন করা সত্ত্বেও? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নামাজ কায়েম এবং রোজা পালন এবং মুসলমান বলে দাবি করা সত্ত্বেও।’ (তিরমিজি : ২৭৯০)। রাসুল (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া, অনুগ্রহ, মায়া-মমতার দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি মোমিনদের দেখবে একটি দেহের মতো। যদি দেহের কোনো একটা অংশ আহত হয়ে পড়ে তবে অন্যান্য অংশও তা অনুভব করে।’ (বোখারি : ৬০১১)। রাসুলে আকরাম (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপন করো, সংঘবদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবনযাপন করো না, কারণ বিচ্ছিন্ন হলে শয়তানের কুপ্ররোচনায় আকৃষ্ট হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ : ১৯৩৬)। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মোমিনরা অপর মোমিনের জন্য একটি প্রাচীরের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে। এরপর তিনি এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলে প্রবিষ্ট করেন।’ (বোখারি : ২৭২৫)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিনজন লোক কোনো নির্জন প্রান্তরে থাকলেও একজনকে আমির না বানিয়ে থাকা জায়েজ নয়।’ (আহমদ আল মুসনাদ : ৬৩৬০)। হজরত ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।’ (মুসলিম : ৫২৯২)। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জান্নাতের সর্বোত্তম অংশে বসবাস করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে।’ (তিরমিজি : ১১২৬)।

লেখক : প্রিন্সিপাল, শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুল, মৌলভীবাজার


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত