সুস্থতা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত

সুস্থতা আল্লাহর এক বিরাট নেয়ামত। ব্যক্তি ও জাতির উন্নতির জন্য, সুখী ও সক্রিয় জীবনযাপন করার জন্য সুস্থতা অপরিহার্য। অসুস্থ ব্যক্তির পৃথিবীর কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এজন্য বাংলা প্রবাদে বলা হয়Ñ ‘সুস্থতাই সকল সুখের মূল।’ বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে গনিমত মনে কর।’ হাদিসে এসেছে মুত্তাকি ব্যক্তির জন্য সুস্থতা ধনসম্পদের চেয়েও উত্তম। আর মনের প্রফুল্লতা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নেয়ামত। (আহমদ)।

আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, দুর্বল মোমিনের চেয়ে সবল মোমিন উত্তম। কারণ আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর ইবাদত করার জন্য শারীরিক শক্তির প্রয়োজন। শক্তিহীন মানুষ কোনো কাজে লাগে না।

কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইচ্ছা করলেও জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে গমন ও গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়াসহ বিভিন্ন ধরনের নফল ইবাদত, নফল রোজা পালন করা সম্ভব হয় না। চোখের দৃষ্টিশক্তি লোপ পেলে হাজার ইচ্ছা থাকলেও কোরআন তেলাওয়াত করা যায় না। এ কারণেই রাসুল (সা.) শরীরের সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, তোমার ওপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুটি নেয়ামতেরর ব্যাপারে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। নেয়ামত দুটি হলোÑ সুস্থতা ও অবকাশ।’ (বোখারি)।

অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘অবশ্যই মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত আর কিছুই প্রদান করা হয়নি।’ (সুনানে নাসায়ি)। ইবাদতে মনোনিবেশের জন্য দেহ ও মনের সুস্থতার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। যে কারণে ইসলামে সুস্থ থাকার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সুস্থতা নিয়ে ঘুম থেকে উঠে, বাসায় নিরাপদ থাকে এবং সারাদিনের খাদ্যসামগ্রী তার কাছে মজুত থাকে তাহলে পৃথিবীর সব সম্পদ তাকে দেওয়া হয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি)।

মোটকথা শরীর সুস্থ থাকলে মানুষের কর্মক্ষমতা ও শক্তিমত্তা বেড়ে যায়। সে দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে কল্যাণকর কাজগুলো সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে পারে। মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে, যা একজন অসুস্থ দুর্বল লোকের পক্ষে সম্ভব হয় না। ইসলাম তাই স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য তাকিদ দিয়েছে এবং স্বাস্থ্য রক্ষার অনুকূলে নানামুখী গাইডলাইন দিয়েছে। স্বাস্থ্য পরিচর্যার দুটো প্রধান দিক রয়েছে। যথাÑ ১. প্রতিরোধমূলক। ২. প্রতিষেধকমূলক। এ দুটো দিকেই ইসলামের মৌলিক নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুস্থতার জন্য প্রতিরোধমূলক বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, প্রয়োজনীয় পানাহারসহ সর্ববিষয়ে পরিমিতবোধ, নৈতিক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন এবং শরীরচর্চা, ব্যায়াম ও বৈধ খেলাধুলা ইত্যাদি। আর প্রতিষেধকমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্রধানত উপযুক্ত চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রƒষা। 

লেখক : তরুণ আলেম


হতাশাকে জয় করতেই হবে
হতাশা শব্দের অর্থ নিরাশা, নৈরাশ্য, আশাভঙ্গ ইত্যাদি। হতাশা মানব জীবনের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : অনেকে বলে থাকেন, এখন তো সব চাকরিতেই ঘুষ
বিস্তারিত
শির দেগা নেহি দেগা আমামা
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাই এ নিয়োগের ব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি
বিস্তারিত
মানুষ হত্যা মহাপাপ
বিনা কারণে মানুষ হত্যা জঘন্যতম একটি মহাপাপ। এটা ইসলাম ধর্মের
বিস্তারিত
আধুনিক ইসলামি অর্থনীতি-চিন্তার বিকাশ ।। আবদুস
বর্তমানে বিশ্বে ১ হাজার ১৪৩টি ইসলামি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর
বিস্তারিত
দুর্নীতির নাগপাশে বন্দি মানুষ
দুর্নীতি আজ আকাশ ছুঁয়েছে। বালিশ-তুলা থেকে পর্দা কাহিনি মানুষের মনে
বিস্তারিত